
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আশুগঞ্জে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আরো দুটি মামলা হয়েছে। রোববার (১ সেপ্টেম্বর) নাদিম ইসলাম রোহান ও জয়ন্তী বিশ্বাস নামে দুই শিক্ষার্থী বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলা দুটি গ্রহন করে আশুগঞ্জ থানাকে রুজু করার নির্দেশ দেন।
নাদিম ইসলাম রোহানের দায়ের করা মামলায় ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২শতাধিক ও জয়ন্তী বিশ্বাসের দায়ের করা মামলায় ৬০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো দেড় শাতাধিক লোককে আসামী করা হয়েছে।
এর মধ্যে নাদিম ইসলাম রোহানের অভিযোগে ডিবি হারুনের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আনারকলির নির্দেশে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া দুটি মামলার অভিযোগে প্রায় অভিন্ন ভাষায় বলা হয়, গত ৪ আগস্ট (রোববার) ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোল চত্ত্বর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ মিছিলে অভিযুক্তরা সংঘব্ধভাবে হামলা করে। এ সময় তারা বেশকয়েকটি ককটেল বিষ্ফোরণসহ ছাত্র-জনতার মিছিলে অতর্কিতভাবে গুলি ছুড়ে। এতে ককটেলের স্প্রিন্টার ও গুলিতে কয়েকজন আন্দোলনকারী মারত্মক আহত হয়। এছাড়া আক্রমণকারীরা লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে অনেক আন্দোলনকারীকে আহত করে। এ সময় আক্রমণকারীরা অন্তত বিশটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়াসহ নানা ধরনের নাশকতা করে বলে মামলা দুটিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ডিবি হারুনের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আনারকলির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি সবসময় নিজেকে ডিবি হারুন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সাহেবের ঘনিষ্টজন হিসেবে নিজেকে সবসময় প্রচার করতেন। শুধু তাই নয়,তাদের সাথে তোলা এসব ছবি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে এর জানান দিতেন। এসবকে পুঁজি করে তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আসছিলেন। তিনি রেলওয়ের মালিকানাধীন ভূমি অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তুলেছেন মার্কেট ও দুতালা ভবন। এ ব্যাপারে এলাকায় প্রতিবাদ ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে লেখালেখি হলেও তার ক্ষমতার কাছে সবই কপোকাত হয়েছে। ইতোপূর্বে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রকাশের কারণে তিনি কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে হয়রানী করেছেন। কেউ তার অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তিনি সাধারণ মানুষকে ডিবি হারুনের ভয় দেখাতেন। তার হুমকি থেকে বাদ যায়নি প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরাও। সাবেক রাষ্ট্রপতির প্রভাব দেখিয়ে তিনি পুলিশ ও অন্যান্য অফিসারদের বদলি ও বরখাস্তের হুমকি দিতেন। তার অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে গেলে তিনি তৎকালীন সহকারি কমিশনারের (ভূমি) সাথে জনসম্মুখে মারত্মক অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ফলে তিনি (এসি ল্যান্ড) তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আনারকলি শিক্ষার্থীদের মিছিলে হামলা করতে সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ আক্রমনকারীদের অর্থেরও যোগান দেন বলে তাদের অভিযোগ।
উক্ত মামলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ও অর্থের বিনিময়ে অনেক নিরপরাধ ব্যক্তিকে সুকৌশলে বাদি নাদিম ও জয়ন্তী বিশ্বাসকে না জানিয়ে আসামী করা হয়েছে বলে এলাকাবসীদের অনেকে মনে করছেন। তারা এর সুষ্ঠু তদন্ত হবে বলে প্রশাসনের নিকট আশা প্রকাশ করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. নুরুজ্জামান লস্কর তপু জানান, আশুগঞ্জে ৪ আগস্ট হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত দুটি মামলাই আমলে নিয়ে আশুগঞ্জ থানাকে সরাসরি এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল আলম বলেন, আদালতের নির্দেশের বিষয়টি বাদীর নিকট থেকে শুনেছি। আদালতের নির্দেশ থানায় পৌঁছলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে