
নিজস্ব প্রতিবেদক:: তিন পার্বত্য জেলার খাগড়াছড়ি রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান অবৈধ ইটভাটা বন্ধে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর নোটিশ পাঠিয়েছে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। এ নোটিশে তিন পার্বত্য জেলার সকল অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে এ নোটিশ পাঠান বিজ্ঞ আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ না হলে জেলা প্রশাসকদের বিরুদ্ধে আইনানুসারে ব্যবস্থা চেয়ে আদালতে যাবেন বলেও জানিয়েছে তিনি।
নোটিশে দাবি জানানো হয়, অতি সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায তিন পার্বত্য জেলায় অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম শুরু হয়েছে মর্মে সংবাদ প্রচার হয়। এসব সংবাদ প্রকাশের পর তিন পার্বত্য জেলা প্রশাসককে এই নোটিশ পাঠানো হয়।
এ সব জেলা প্রশাসক হলেন, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান ও খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান। নোটিসে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলা প্রশাসকদের এ বিষয়ে অবহিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
আইনজীবী মনজিল মোরশেদ তার নোটিশে জানিয়েছেন, গত বছরের জানুয়ারি ও মার্চ মাসে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এছাড়া তিন জেলার বিভিন্ন ইটভাটা মালিকরা রিট পিটিশন দায়ের করলে শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রিট পিটিশন খারিজ করে দেন। পরে ইটভাটা মালিকরা আপিল বিভাগে দুটি আপিল দায়ের করলে আপিল নিষ্পত্তি করে রায় দেন এবং চেম্বার কোর্টে দেওয়া স্থিতি অবস্থা বৃদ্ধি করেননি। এরপরও ইটভাটা মালিকেরা লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা পরিচালনা করলে এ পদক্ষেপ নিতে নোটিশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, তার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধে ইতিমধ্যে সক্রিয কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যা অব্যাহত রয়েছে।
গত জুন মাসে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) নোটিশ সংক্রান্ত বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক বলেন, সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নিদের্শ দেওয়া হয়েছে যাতে ইটভাটা গুলোর সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সে বিবেচনায় অবৈধ ইটভাটা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করতে গত জুনে তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসকদের নোটিশ দেওয়া হয়। এবার ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান এবং বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিনকে নোটিশ পাঠানো হলো।