
বিগত সরকারের আমলে আদালতে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং সত্য গোপন করে ভুয়া ওয়ারিশমূলে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার কোটি কোটি টাকা মূল্যের অর্পিত সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে ডাঃ স্বপন কুমার সাহা ওরফে সন্তোষ এর বিরুদ্ধে। আড়ুয়াপাড়ার এসবি রোডের মৃত সত্য নারায়ণ সাহার পুত্র অবসরপ্রাপ্ত এই চিকিৎসক বড় বাজারের কাজল ফার্মেসিতে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করে।
অভিযোগে প্রকাশ কুষ্টিয়া মজমপুর মৌজার থানা পাড়া পুরাতন পোস্টঅফিসের পাশে আব্দুল ওয়ারেশ সড়কে এস এ ৯৭৮ খতিয়ানে ৮৯৭ দাগে এবং আর এস খতিয়ানে ৫৬৭ খতিয়ানে ১৬৩০ দাগের ২১ শতাংশ জমি মৃত রামচন্দ্র সাহার স্ত্রী মৃত চমৎকারিনী দাসীর নামে সিএস খতিয়ানভূক্ত ছিল। তার দেশত্যাগে ও মৃত্যুঅন্তে উক্ত সম্পত্তি আইনের বিধান অনুযায়ী উক্ত সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্তি হয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়। আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসন উক্ত সম্পত্তি রক্ষনাবেক্ষন আসছে এবং ভোগদখলকারী আফরোজা ইসলাম এবং রওশন জাহান হোসেন লিজ গ্রহণ করে বছর বছর সরকারি খাতে লীজের খাজনা পরিশোধ পূর্বক ডিসিআর কেটে ভোগ দখল করে আসছে। বর্তমানে তার ওয়ারিশগণতার লীজ গ্রহীতা হিসেবে ভোগদখলে আছে।
কিন্তু মৃত সত্য নারায়ণ সাহার পুত্র ডাঃ স্বপন কুমার সাহা উক্ত সম্পত্তি অর্পিত নয় মর্মে দাবি করে কুষ্টিয়া অর্পিত সম্পত্তি ট্রাইবুনালে মামলা নং ১৯৮/১৪ দায়ের করে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে পরাজিত হয় এবং বাংলাদেশ সরকার বিজয়ী হয়। রায়ে বিজ্ঞ আদালত ডাঃ স্বপন কুমার সাহা এবং তার পিতা সত্য নারায়ণ সাহা গং উক্ত জমির প্রকৃত মালিক নয় এবং উক্ত সম্পত্তিতে তাদের ভোগদখল নেই মর্মে সাক্ষ্যপ্রমান সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত দেন। তা সত্ত্বেও স্বপন কুমার সাহা ০৫/২০১৯ নাম্বার আপিল করে বিজ্ঞ আদালতে জালিয়াতিপূর্বক মিথ্যা তথ্য প্রদান করে এবং প্রকৃত সত্য গোপন করে ভুল বুঝিয়ে সরকারি উকিলকে ম্যানেজ করে অর্পিত সম্পত্তি তালিকা থেকে উক্ত সম্পত্তির নাম কাটানোর জন্যে একটি আদেশ গ্রহণ করেছে। বিগত সরকারের আমলে পি পি ছিলেন আওয়ামীলীগের সহসভাপতি এডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী। তিনি আবার ডাঃ স্বপন কুমার সাহার উক্ত মামলার আইনজীবী। ফলে আদালতে ডাঃ স্বপন কুমার সাহার মামলায় আওয়ামীলীগ সরকারের দলীয় লোক হিসেবে পিপি এবং জিপি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কোনো লড়াই করেনি এবং সরকারের স্বার্থ দেখেনি । বরং যোগসাজস করে অর্থের বিনিময়ে ডাঃ স্বপন কুমার সাহাকে একপেশেভাবে জিতিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের সাথে প্রতারণা করেছে।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায় থানা পাড়া আব্দুল ওয়ারেশ সড়কের পুরাতন পোস্ট অফিসের পাশের উল্লেখিত ২১ শতাংশ জমি পাকা দেয়াল ও গ্রিলের গেট দিয়ে ঘেরা। সেখান নিরাপত্তা কর্মীর ঘর রয়েছে এবং লিজপ্রাপ্তরা ভোগদখয়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, ডাঃ স্বপন কুমার সাহা নামে কেউ কোনোদিন এখানে ভোগদখল করেনি। লিজগ্রহণকারীরা বলেন,মৃত চমৎকারিনী দাসীর বংশধরদের অনেকে বতর্মানে জীবিত। তারা কুষ্টিয়া শহরে, পাবনায় এবং পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছে। দুজন বংশধর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী ডাঃ স্বপন কুমার সাহা মৃত চমৎকারিনী দাসী বা রাম চন্দ্র সাহার একক ওয়ারিশ নয়। মৃত রাম চন্দ্র সাহা ও মৃত চমৎকারিনী দাসীর এক পুত্র এবং চার কন্যা ছিল। ওই চার কন্যার প্রত্যেকের সন্তানসন্তদি ছিল এবং নাতিনাতনি জীবিত রয়েছে যারা কুষ্টিয়া, পাবনা এবং পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছে। অথচ কেবলমাত্র সাহা পদবি ব্যবহার করে ডাঃ স্বপন কুমার সাহা এককালে কুষ্টিয়ার অন্যতম ধনী মৃত রাম চন্দ্র সাহা ও মৃত চমৎকারিনী দাসীর সকল সম্পত্তি অবৈধভাবে বেআইনি উপায়ে জালিয়াতির মাধ্যমে হস্তগত করছে।
ইতোমধ্যে রাজারহাটে মৃত রাম চন্দ্র সাহার ‘পাক বাড়ি’ নাম পরিচিত কোটি কোটি মূল্যের বিশাল সম্পত্তি ডাঃ স্বপন কুমার সাহা জালিয়াতিপূর্বক বিক্রি করে দিয়েছে যা প্রকৃত পক্ষে সরকারী সম্পত্তি। বড় বাজারের একাধিক দোকান ও গুদামঘর,আড়ুয়াপাড়ার এস বি রোডের বাড়ি সে হস্তগত করে রেখেছে। এখন থানা পাড়ার অর্পিত সম্পত্তি দখলের জন্যে একক ওয়ারিশ হিসেবে জালিয়াতির মাধ্যমে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
এপ্রসঙ্গে লিজ গ্রহণকারী আফরোজা ইসলাম এবং বেগম রওশন জাহান হোসেন এর ওয়ারিশগণ বলেন আমরা আইন অনুযায়ী লিজ গ্রহণ করে বছর বছর ডিসিআর কেটে, লিজ কেস নং ( নং ৩(x)৮২-৮৩,ডিসিআর নং ০২১৫৭৩ এবং ০২১৫৭২ নং ডিসিআর এবং সরকারি ফি পরিশোধ করে উক্ত সম্পত্তি ভোগদখল করছি। এই জমির কাস্টোডিয়ান হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এখন যদি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের দলীয় পিপি ও জিপি বা কোনো অসাধু কর্মকর্তা মোটা অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশ সরকারের সম্পত্তি কোনো ভুয়া ওয়ারিশের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে সরকারের ক্ষতি সাধন করে তাহলে আইন অনুযায়ী তাদের