
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় মা ও দুই শিশু সন্তানকে হত্যার মূল আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার এস এম সিরাজুল ইসলাম হুদা পিপিএম বার বৃহষ্পতিবার বিকেলে তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ সময় তিনি জানান, ক্লুলেস এই ট্রিপল মার্ডার সংঘটিত হওয়ার ১২ ঘটনার মধ্যেই আমরা এর মূল রহস্য উৎঘাটন সহ এ ঘটনার প্রধান আসামী নবিন ইসলাম জাহিদ (২২) কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। জানা যায়, আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের কড়ুলিয়া এলাকায় বুধবার (১৪আগষ্ট) রাত সাড়ে আট টার দিকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সুপার বলেন, জেলার বোদা বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সাদ সেলিম (৪২) ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাত াানুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে বাড়ীতে আসেন।
এরপর বাড়ীর আঙ্গিনার মেইন গেইট খোলা দেখতে পান। বাড়ীতে প্রবেশ করে তিনি দেখেন ডাইনিং স্পেসের মেঝেতে তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৩২) বড় ছেলে সৈকত শেখ (১৪) ও ছোট ছেলে সায়হান শেখ (৮) রক্তাক্ত ও ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় পড়ে আছে। পুলিশ জানায় রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে হত্যাকান্ডটি ঘটেছে। ধারালো ছোড়া ও বটি দিয়ে এলাপোথারী কুপিয়ে হত্যা করে ব্যবহৃত ছোড়া ও বটি সাদ সেলিমের বাড়ীর পিছনে বাঁশ ঝাড়ে ফেরে দেয় বলে গ্রেপ্তারকৃত আসামী স্বীকার করেছে। পুলিশ সেগুলি উদ্ধার করে।
এমন অবস্থা দেখে তিনি চিল্লাচিল্লি শুরু করলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। এমনবস্থায় ৯৯৯ এ সংবাদ দিলে আটোয়ারী থানা পুলিশ ও সি আইডি’র ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট টিম ঘটনাস্থলে যায়। এরপর পুলিম জানতে পারে প্রতিবেশী ফজলার রহমানের ছেলে আসামী নবিন ইসলাম জাহিদ (২২) বাম হাতের তালু কাটা অবস্থায় বোদা হাসপাতালে ও পরে ঠাকুঁরগাও সদর হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছে।এই সংবাদের পরেই সেনাবাহিনী ও আটোয়ারী থানা গোপনেসংবাদ পান যে, নবিন ইসলাম জাহিদ আটোয়ারী উপজেলার কড়–লিয়া জনৈক দেলওয়ার হোসেন বাড়ীতে আতœগোপনে আছে। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সুপার এস এম সিরাজুল হুদা সংবাদ সম্মেলনে জানান , হত্যাকারীরা মাদক সেবী।
এরা সুস্থ হতে পারেনা। পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয়েছে। আমরা সকল আসামীকে গ্রেপ্তার সহ তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পলাতক অপর আসামীরা হলো: সাজ্জাদুর রহমান বাঁধন (২৭) পিতা শফিউর রহমান সাং ইসলামবাগ মোসলেমপুর বোদা, ও রিপন ইসলাম (৩০) পিতা নওশাদ আলী সাং নগরকুমারী উপজেলা বোদা। এই হত্যাকান্ডে আটোয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সর্বোচ্চ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।