
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে একদল হামলাকারী কতৃক জমিদখলের পর অবরুদ্ধ করে রাখে এক কৃষক পরিবারকে। এতে দু’ই শিশু শিক্ষার্থী সহ পরিবারের ৩ জন আহত হয়েছে৷ আর বাকী সদস্যরা আহাজারি করছিল বাচঁবার দাগিদে। ঘটনায় দখলদার ও অবরুদ্ধকারীদের হামলায আহতরা হলো. ৮ম শ্রেণির পড়ুয়া ছাত্র আবদুস শুক্কুর,৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল মাওয়া,বাড়ির গৃহিনী হাফেজা খাতুন (৫০)।
ঘটনাটি ঘটে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের উত্তরসালামী পাড়ায় তথা উপজেলা সদরের ৩ নং ওয়ার্ডে। তারা ২৭০ মৌজার ফুট্টাঝিরি সাকিনের।
এদিকে বাড়ির মালিক পঞ্চাশোর্ধ নুর হোসেন জানান, তিনি প্রতিদিনকার ন্যায় নিজ পানের বরজের পান নিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের বাজারে যান। এ সময় তার বাড়িতে ছিল তার স্ত্রী,ছোট ছেলে,নাতি-নাতনি ও পুত্রবধু । এ সময় ওরা ( হামলাকারীরা) দা,কিরিচ, লাঠি সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা শুরু করে। খবর পেয়ে তিনি বাড়ি না গিয়ে ছুটে যান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে।
এমনটি জানিয়ে তিনি আরো জানান, সেখানে কোন প্রতিকার না পেয়ে তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। সারাক্ষণ দৌঁড়া-দৌঁড়ি করে প্রতিকার পাওয়া লোকদের কাছে। পায় নি কোন সহায়তা।
এমতাবস্থায় হামলাকারী ওয়াইমং চাক ও ওলামং চাকের নেতৃত্বে ১২/১৪ জনের দেশীয় অস্ত্রধারীরা সোমবার ( ১২ আগষ্ট) সকাল থেকে মহড়া দিতে থেকে তার বাড়ির চতুর্পাশে । বাড়ি থেকে কাউকেও বের হতে দিচ্ছিল না তারা। এক ফাঁকে পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাড়ির ফাঁক দিয়ে বের হলে তাদের ধাওয়া করে মারধর শুরু করে। অবশ্য স্থানীয়রা লম্বা দা,কিরিচ ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রের মূখের তৎক্ষনাৎ কেউ সামনে যায় নি। পুলিশ ও পৌঁছে নি। সুযোগ নিয়ে আরো রূঢ় আচরণ করতে থাকে তারা । খবর পেয়ে সাংবাদিকরা গেলে তাদের সাথেও রূঢ় আচরণ করে সে দলটি । এ অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তার বাড়িটি অবরুদ্ধ করে ফেলে এক পর্যায়ে । এক পর্যায়ে পুরো বাড়ি এলাকা ঘিরে ফেলে তারা। বড়বড় বাটাম দিয়ে রাস্তা -ঘাট বন্ধ করে দেয় তারা।
অনন্যোপায় হয়ে তিনি ( নুর হোসেন) স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনকে অবহিত করেন।
তিনি আরো বলেন, তারা কয়েক একর জমি ভিটা-বাড়ি ও বাগান নিয়ে বসবাস করেন যুগ যুগ ধরে সেখানে। এ জমি টিতে লোলুভ দৃষ্টি পড়ে প্রভাবশালীদের। তারা চাক সম্প্রদায়ের কয়েকজন ফুসলিয়ে এ কান্ড ঘটাচ্ছে।
এদিকে নুর হোসেন ও তার স্ত্রী হাফেজা বেগমের দাবী,স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতা দাড়িয়ে থেকে হামলাকারী চাক দের উস্কে দিয়ে তামশা দেখছিল সারাক্ষণ।
তারা এখন অসহায়। তারা চরম নিরাপক্তাহীন তায় ভূগছেন। তিনি ও বাড়ির কয়েক পরিবার এ জঘন্যতম ঘটনার সুষ্ট বিচার দাবী জানান।
তাদের ধারণা এ ঘটনায় কোন রাঘব বোয়ালের ইন্দন রয়েছে।