
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের শুকরানা মিছিল ও বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১১ আগষ্ট) রায়পুর উপজেলা ও পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে যোগ দেন কয়েক হাজার মানুষ। হাজারো মানুষের এই ঢল রুপ নেয় জনসমুদ্রে।
শুকরানা মিছিল শেষে শহীদ ওসমান গনির বাবা আবদুর রহমান কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলেন, ” আজ এইদিন এই সময়ে আমার কলিজার টুকরো ওসমান গনী শহীদ হয়েছেন। ওসমান গনী বাড়ি থেকে আসার সময় তাঁর মাকে এই বলে বুঝ দিয়ে এসেছে যে, মা তুমি কি শহীদের মা হতে চাও না? আমার কেন যেন মনে হয় আমি শহীদ হবো, আমার জন্য দোয়া করো মা! ওসমান গনী শহীদ হয়েছেন। আমার কিছু চাওয়ার নেই সবাই দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ ওকে শহীদ হিসেবে বকুল করে নেয়। আর ওসমানের স্মৃতি হিসেবে এমন কিছু একটা যেন রায়পুরে থাকে যা দেখলে শহীদ ওসমানের কথা সবার স্মরণ হয়। ”
এসময়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে জেলা জামায়াতের আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ” এই বিজয় কোন রাজনৈতিক দলের নয়। সকল শহীদদের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, এই বিজয় বৈযম্য বিরোধী ছাত্রজনতার। তিনি কাঁদো কাঁদো গলায় চোখের অশ্রু ছেড়ে দিয়ে বলেন, এই বিজয় আমার ভাই শহীদ আবু সাঈদের। আল্লাহ সকল শহীদকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। তিনি আরও বলেন, এই স্বৈরাচার সরকার পতন হওয়ার পরেও তার কু এখনো শেষ হয়নি। গতকাল আবার নতুন করে কু করেছিল রাষ্ট্র দখলের আমাদের ছাত্র সমাজ তাও প্রতিহত করেছে। ছাত্রজনতা এখনো মাঠে আছে। রায়পুরে কোন হিন্দুদের উপর যদি কেউ হামলা করে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। কেউ একটা মন্দিরও ভাংচুর করতে পারবে না। আমরা হিন্দু ভাইদের প্রতিটি মন্দির, গির্জা পাহারা দেব। সখ্যালগুদের উপর হামলাসহ কোন লুটপাট হতে দেওয়া হবে না। আজ থেকে কেউ কোন ঘুষ দিবেন না। এই দেশ আমাদের, আমরা নতুন করে ঢেলে সাজাবো। রাস্ট্রীয় সম্পদ কেউ ভাংচুর, লুটপাট করবেন না। পুলিশ ভাইদের উপর কেউ হামলা করবেন না। পুলিশ ভাইদেরকে খুণী হাসিনা ব্যবহার করেছে। আমরা তাদেরকে পুরো স্বাধীনতা দেব। পুলিশ, সেনাবাহিনী আমাদের ভাই, তাদের উপর কেউ হামলা করলে আমরা তাকে ছাড় দেবনা। বাংলাদেশ ছাত্র শিবির এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের পাশে আছে এবং থাকবে। ”
রায়পুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর স্যাইয়েদ নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সেক্রটারী ফারক হোসেন নূরনবী, জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য মাষ্টার ইসমাইল, অধ্যাপক মনির আহাম্মদ, উপজেলা সেক্রটারী এড: আ: আউয়াল রাসেল, পৌরসভা আমীর হাফেজ ফজলুল করিম, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন। ২নং উত্তর চরবংশি ইউনিয়ন আমীর মাওলানা মুনজির হাসান ইমরান, জেলা শিবিরের সভাপতি মনির হোসেন, জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান রাকিব। রায়পুর উপজেলার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, রায়পুর উপজেলার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের সকল নেতাকর্মী, সাংবাদিক বৃন্দ সহ আরও অনেকেই।