
সাইদ সাজু, তানোর থেকে : রাজশাহীর তানোরে পুলিশের এক এসআই-এর (উপ-পরিদর্শক) বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত ২ আগস্ট ভিকটিমের পিতা প্রভাষক রবিউল ইসলাম রুবেল বাদি হয়ে এসআই কাওসার আলীসহ তিনজনকে আসামি করে তানোর থানায় এজাহার করেছেন। এবারো বিষয়টি নিয়ে তৃপ্তির পিতা-মাতা ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আতাউর রহমানসহ জামাই কাওসার আলীর বাড়ীতে গিয়ে তার পিতা-মাতার সঙ্গে আলোচনা করেন। কিন্ত্ত সাত লাখ টাকা না দিলে তৃপ্তিকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেন। এমতাবস্থায় রবিউল ইসলাম তার মেয়েকে পুনরায় তার বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং সন্তান প্রসবের পর থেকে এখন পর্যন্ত জামাই কাওসার আলী কোন প্রকার ভরণপোষণ দেন না।
এদিকে অনেক অনুরোধের পর তার মেয়েকে তার বাড়ি থেকে কাওসার আলীর কর্মস্থল সারদা পুলিশ একডেমির ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যায়। কিন্তু নিয়ে যাওয়ার পরে যৌতুকের দাবিতে একইভাবে তৃপ্তির ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে কাওসার।
এদিকে ঘটনা জানার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তৃপ্তির বাবা-মা সেখানে যান। কিন্তু কাওসার তার পিতা-মাতার প্ররোচনায় পড়ে তাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করে। গত ২০২৪ সালের ৫মে পুলিশ একাডেমী, সারদার ভাড়া বাসা থেকে তৃপ্তিসহ বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী, সারদা, রাজশাহীতে তার মেয়েকে নিয়ে যায়। এর কয়েকদিন পর থেকে আবারও ১নং বিবাদী তার মেয়েকে সাত লাখ টাকা অথবা ১০ বিঘা জমি ভোগ দখল করতে দিতে হলে এবং গ্রামে পাকা বাড়ি তৈরী করে দেওয়ার জন্য বারংবার চাপ প্রয়োগ করে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। বিষয়টি তৃপ্তি আবারো আমাদেরকে জানায়। এরই ধারাবাহিকতায় ২নং ও ৩নং বিবাদীর প্ররোচনায় ১নং বিবাদী২০২৪ সালের ২৮ জুলাই তাহার কর্মস্থল পুলিশ একাডেমী, সারদা, থেকে আমার মেয়েকে আমার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
গত ২০১৪ সালের ৩১ জুলাই সন্ধ্যায় আবার শ্বশুর বাড়ি তথা ঘটনাস্থল রাজশাহী জেলার তানোর থানাধীন সাদিপুরস্থ বিবাদীদের বসত বাড়িতে যায়।
করে দেয়ার জন্য টানা হেঁচড়া শুরু করে। তখন আমার মেয়ে বাড়ী থেকে বের হতে না চাইলে বিবাদীগণ এলোপাথারীভাবে আমার মেয়েকে মারপিট শুরু করে। ১নং বিবাদী হাসুয়া দ্বারা আমার মেয়েকে যৌতুকের দাবীতে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারলে আমার মেয়ে তার বাম হাত দিয়া প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তার বাম হাতের কব্জির উপরে কোপ লেগে গুরুতর জখম হয়। আঘাতের কারণে আমার মেয়ে মাটিতে গড়ে গেলে সকল বিবাদীগণ আমার মেয়ের তলপেটে এলোপাথারীভাবে লাথি মারে, তাছাড়াও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতারীভাবে কিল ঘুষি মারে। তাৎক্ষণিকভারে বিষয়টি আমি জানতে পেরে দ্রুত আমি ও আমার স্ত্রী ডালিয়া রহমান এবং ৯নং ওয়া
কিন্তু ৩নং বিবাদী আমার মেয়েকে কটূক্তি করতে থাকে এবং তার ছেলেকে অর্থাৎ ১নং বিবাদীকে বাড়িতে আসতে বলে। তারপর ১নং বিবাদী বাড়িতে এসে আমার মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার মেয়েকে বাড়ি থেকে বের র্ড কাউন্সিলর আতাউর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করি। এই সময় বিবাদীগণ আমার মেয়েকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে এবং আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমরা আমাদের মেয়ের জীবন রক্ষার্থে দ্রুত সিএনজি ডেকে মেয়েকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করি। চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকায় এবং আত্মীয়- স্বজনের। সহিত আলোচনা করে এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হল। এবিষয়ে জানতে চাইলে এসআই কাওসার আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তার উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সব জানেন।