
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাড়িতে আসা হয়নি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় শহরের পুনিয়াউটের বাড়িতে আসেন তিনি। ঢাকায় থাকলেও প্রায় ৪ বছর আসেন নিজ বড়িতে।
এ সময় শত শত নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানান। ভিড় জমান এলাকার সাধারণ মানুষও। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে সদর আসনে বিএনপি’র প্রার্থী ছিলেন তিনি। ৩০শে ডিসেম্বর ভোটের দিনে হামলা হয় তার বাড়িতে। অগ্নিসংযোগ করা হয়। সেদিন বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর ২০২০ সাল পর্যন্ত অনেকটা নীরবেই কয়েকবার বাড়িতে আসা-যাওয়া করেন। পরের ৪ বছর একেবারেই বাড়ি আসা হয়নি। অবশ্য এই সময়ে জেলা কমিটির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমানের নামাজে জানাজা এবং দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে আরও কয়েকবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসেন।
এর মধ্যে ২০১৭ সালে ১২ দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কারান্তরীণ ছিলেন। ৫/৬টি মামলা দেয়া হয় তার বিরুদ্ধে।
শ্যামল বলেন, অনেক খুশি আমি। সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির চাপ, পুলিশের হয়রানি, এসব থেকে মুক্ত হয়ে নিজের বাড়িতে আসতে পেরেছি। বাড়িতে না এলেও জনগণের সঙ্গে সবসময় আমার যোগাযোগ ছিল। দলের নেতাকর্মীরা ঢাকায় গিয়েছেন। উচ্চ আদালতে তাদের মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনায় সহায়তা করেছি। এখন বাড়িতে সরাসরি স্বাক্ষাতে সবাই উচ্ছ্বসিত।
২০১১ সালের জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনে উপ-নির্বাচনে প্রথম প্রার্থী হন তিনি। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। তবে এ বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্যে অনেক চাপ দেয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এদিকে বাড়িতে দলের নেতাকর্মীদের এক সমাবেশে ্ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যে গণঅভ্যূত্থান হয়েছে তা থেকে কিন্তু আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। জাতি তাকিয়ে আছে এই নতুন জেনারেশন এবং বিএনপি’র দিকে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ নিয়েছে। আগামী কতোদিন থাকবে আমরা জানি না। আমাদের দাবি হলো তারা ৩ মাসের বেশি থাকতে পারবে না। ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। কিন্তু আমাদের ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। আমরা এমন কিছু করবো না যাতে এই সরকার দীর্ঘায়িত হয়। আমরা এমন কিছু করবো না যাতে এই সরকার দ্বারা আবার আওয়ামী লীগের মতো নির্যাতিত হই। ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ, বাড়িঘর কিংবা দোকানপাটে হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এমন কিছু করবেন না যাতে আওয়ামী লীগের মতো আমাদের অবস্থান হয়। বিএনপি’র যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে ব্যাপারে আমাদের নেতাকর্মী, ওয়ার্ডে-ইউনিয়নে যারা আছেন সকলকে চোখ কান খোলা রাখতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়কে আমাদের রক্ষা করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমরা যদি মনে করি তারা ৩ মাস থাকবে এটা নির্ভর করবে আমাদের কার্যকলাপের ওপর। এখন বিএনপি’র অবস্থান মাঠে। কোনোকিছু হলে বিএনপি’র ওপর বদনাম যাবে। আমাদের দায়িত্ব থাকবে কোনো চাঁদাবাজি না হয়, পূর্ব শত্রুতা থেকে কোনোকিছু যাতে না হয়। কোনো ধরনের আক্রমণ যাতে না হয়। আগামী দিনের রাজনীতি অনেক কঠিন। আমরা যদি মনে করি আওয়ামী লীগ মাঠ থেকে বিদায় হয়েছে, আমাদের মাঠ ফকফকা ভুল ধারণা। এই নতুন জেনারেশন কিন্তু তাকিয়ে আছে আমরা কি করি এবং বিকল্প ব্যবস্থার দিকে কিন্তু এগুচ্ছে। তাই এমন কিছু করবেন না যাতে বিএনপি’র বদনাম হয় এবং একটা তৃতীয় পক্ষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, বিএনপি নেতা এডভোকেট শফিকুল ইসলাম, এবিএম মোমিনুল হক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তারিকুল ইসলাম খান রুমা, জসিম উদ্দিন রিপন, আনিছুর রহমান মঞ্জু, আলী আজম, মাইনুল হোসেন চপল, নিয়ামুল হক, পৌর বিএনপি নেতা নজির উদ্দিন, মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম চৌধুরী লিটন, আলমগীর হোসেন, যুবদল সভাপতি শামীম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ, সদর উপজেলা যুবদল নেতা এডভোকেট আরিফুল হক মাসুদ, জিয়াউল হক, সাবেক জেলা ছাত্রদল নেতা আজহার হোসেন চৌধুরী দিদার, পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. সাঈদ হাসান সানি, তানভীর রুবেল, ছাত্রদল নেতা ফুজায়েল চৌধুরী প্রমুখ। দলের নেতারা জানান, আগামী কয়েকদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থাকবেন বিএনপি’র এই কেন্দ্রীয় নেতা। গতকাল বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে দলের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন।