
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরসহ সর্বত্র যাতে ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তিরা দখল-সন্ত্রাস করতে না পারে উপজেলা প্রশাসন আজ (শুক্রবার) এক মতবিনিময় সভা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরেও কলাপাড়া পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় গাজী রফিকুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক আবাসিক হোটেলের মালিক সরকারি খাস জায়গাসহ একজন গোস্ত বিক্রেতার দোকান দখল করে এর পাশে টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে নিয়ন্ত্রনে নেয়। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে এ দখল প্রক্রিয়া চলে।দখলের খবর শোনার পরই কলাপাড়ায় কর্মরত সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দখল উচ্ছেদ করে দেয়। সেনাবাহিনীর তাৎক্ষনিক এমন পদক্ষেপে স্থানীয় মানুষজনসহ বাজারের ব্যবসায়ীরা খুশি হয়েছে। দখল প্রক্রিয়া যখন চলে তখন এ ঘটনার পর পরই স্থানীয় মানুষজন ক্ষুব্দ হয়ে উঠে। তাঁরা এভাবে খাস জায়গাসহ একজন দরিদ্র গোস্ত বিক্রেতার দোকান দখল করে নিয়ন্ত্রন নেয়ার বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকে।
জাহিদ খান নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী এ নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, রফিক গাজী কোনোভাবেই সরকারের খাস জমি নিজের দখলে নিতে পারেন না। ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে তিনি ব্যক্তিগতভাবে লাভবানের আশায় এ কাজটি করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাজার এলাকার ওই অংশে গাজী রফিকুল ইসলামের একটি বাড়ি রয়েছে। এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে চিংগড়িয়া খাল। চিংগড়িয়া খালের পাশে সরকারি খাস জায়গায় কলাপাড়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জনমানুষের জন্য ‘পাবলিক টয়লেট’ নির্মাণ করে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষজনসহ বাজারের ব্যবসায়ীরা পাবলিক টয়লেটটি ব্যবহার করে আসছে। এ ছাড়া সরকারি এ জায়গার সামনেই এনামুল হক নামে একজন ব্যক্তির গোস্ত বিক্রয়ের দোকান রয়েছে। গাজী রফিকুল ইসলাম পাবলিক টয়লেটসহ এনামুল হকের গোস্ত বিক্রয়ের দোকানটি টিনের বেড়া দিয়ে নিয়ন্ত্রনে নেয়ার চেষ্টা চালায়। তবে মানুষজনের প্রতিবাদের কারণে তিনি তা পারেননি।গোস্ত ব্যবসায়ী এনামুল বলেন, আমি গরিব মানুষ। দীর্ঘদিন গোস্ত বিক্রি করে সংসার চালাই। আজ বিকেলে হঠাৎ রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি আমার দোকান ঘর ভেঙে দখল করে। পরে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায়। স্থাপনার সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। তবে আমার দোকানের ব্যবহৃত মালামাল পাইনি। কলাপাড়া পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সী বলেন, কলাপাড়া শহরে কেউ দখল বাণিজ্য করতে পারবে না। আমি বিষয়টি জেনে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলি। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মালামাল ফেরত দেওয়ার জন্য বলিছি। তবে আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম কাজটি ঠিক করেনি। কলাপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহমেদ বলেন, ‘সরকারি খাস জায়গা দখল করে কোনো ব্যক্তি নিজের দখলে নিতে পারেন না। তা ছাড়া ওই জায়গাটিতে পৌরসভা থেকে একটি পাবলিক টয়লেট করে দেয়া হয়েছে। এখন যে ব্যক্তি এমন কাজ করেছিলেন তা মোটেই ঠিক করেন নি। জনমানুষের স্বার্থ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষনিক কাজ করছে বলেও তিনি জানান।