
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হাই এর বিরুদ্ধে কাম্য যোগ্যতা না থাকা সত্বেও অবৈধভাবে সুপার ও অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।এছাড়া অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্রে অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন সহ নানাবিধ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। জানাগেছে, আচারগাঁও মাদ্রাসার ছাত্রের অভিভাবক মো. আনোয়ারুল ইসলামের এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উক্ত অধ্যক্ষ্যের বিরুদ্ধে সরজমিন তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট গত ১৮ মার্চ/২০২৪ইং ১২০১৮নং স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরুণ কৃষ্ণ পাল তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে গত ৯ জুলাই/২০২৪ইং তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেন। আনীত অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানাগেছে, অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হাই ১৯৮৯ সনে আচারগাঁও ফাজিল মাদ্রাসায় (দাখিল পর্যায়ে থাকাকালীন)সহকারী মৌলভী পদে যোগদান করেন এবং ১৯৯৫ সনে অভৈধভাবে সুপার পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু তিনি সুপার পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েও ২০০০ সন পর্যন্ত সহকারী মৌলভী পদে বেতন ভাতা উত্তোলন করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সনে থেকে ২০০৫ সন পর্যন্ত অত্র দাখিল মাদ্রাসায় প্রভাষক পদে তিনি বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন। যেখানে দাখিল পর্যায়ে কোন প্রভাষক পদ নেই। অথচ বেসরকারী মাদ্রারাসা ব্যবস্থাপনা শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ১৯৮২ অনুসারে সুপার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ নিভিয়াঘাটা সিনিয়ার ফাযিল মাদ্রাসায় ১৯৮৬ সন থেকে ১৯৮৮সন পর্যন্ত
আরবী প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন মর্মে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে অভিজ্ঞতা সনদ দাখিল করেছেন। কিন্তু প্রভাষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৯৮২ নীতিমালা মোতাবেক কামিল বিভাগে ২য় শ্রেনী থাকা বাধ্যতামূলক ছিল, যা তাঁর নেই বলে প্রমাণিত হয়েছে। এতে আরবী প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ এবং অভিজ্ঞতার সনদপত্র নীতিমালা বহির্ভূত।অপরদিকে ০৯/১০/১৯৯৫ ইং তারিখে আচারগাঁও ফাজিল মাদ্রাসায় সুপার পদে নিয়োগকালীন তাঁর কামযোগ্যতার
অভাব রয়েছে, তিনি কামিল পর্যায়ে ২য় বিভাগে উত্তির্ন হওয়ার সনদপত্র বা কোন প্রমাণপত্র তদন্তকালে প্রদর্শন করতে পারেননি। যে দুটি সনদপত্র দেখিয়েছেন তা সুপার পদে যোগদানের পর। এছাড়া অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ১৯৯৫ইং সালের সুপার পদের নিয়োগটি এমপিও ভুক্ত হয়নি, যা সরকারী অর্থ আত্মসাতের বিষয়টির প্রমাণ করে। শুধু তাই নয় তিনি ২০১১ সনে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্রে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব অবহেলার কারনে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও ২০২৪ সন পর্যন্ত ১৩ বছর যাবত অবৈধভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চলমান আলিম পরীক্ষা থেকে নিজে নিজেই অব্যাহতি নেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হাই’য়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি আমার কাগজপত্র লিখিতভাবে দাখিল করেছি। এর বেশি কিছু বলতে চাই না, ব্যস্ত আছি বলে ফোন কল কেটে দেন।