কোটা সংস্কার আন্দোলনের পাঁচ সমন্বয়ক নিরাপত্তা স্বার্থে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে রয়েছে। এর মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের পরিবার তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন রাজধানীর মিন্টো রোডে। কিন্তু নাহিদের পরিবারকে মিন্টো রোড থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে নাহিদের পরিবার ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। নাহিদের পরিবারের মধ্যে রয়েছে নাহিদের মা মমতাজ বেগম,তার দুই ফুপু,এক খালা ও তার স্ত্রী।
পরে নাহিদের মা তার ছেলেকে ফিরে পেতে সাংবাদিকদের সামনে আকুতি জানান।
রোববার (২৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪ টায় নাহিদের মা মমতাজ বেগম সাংবাদিকদের বলেন,সবগুলো ছেলেকে যেন ছেড়ে দেয় তাদের পরিবারের কাছে। আমরা খুব চিন্তাই আছি। যদি তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন ছিলো তাহলেতো পুলিশ হাসপাতালেই তাদের নিরাপত্তা দিতে পারতো। নাহিদকে হেফাজতে নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমার ছেলেকে নিরাপত্তার জন্য এখানে আনা হয়েছে সেটা আমরা মানি না। আমি চাই আমার ছেলেকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেক। আমরা চাই প্রতিটি সন্তানকে তাদের মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দেখ৷
তিনি বলেন,এর আগে তুলে নিয়ে নাহিদকে নির্যাতন করা হয়েছে। এখন আবার তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা নাহিদের সঙ্গে দেখাও করতে পারেনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাহিদকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে। তার সঙ্গে আরও দুই জনকে তুলে আনা হয়েছে।
ডিবি থেকে বলা হয়েছে চিন্তামুক্ত থাকার জন্য এ বিষয়ে নাহিদের মা বলেন,আমরা কিভাবে চিন্তামুক্ত থাকি। সন্তান ডিবির ভিতরে আমি কিভাবে চিন্তামুক্ত থাকব। আমি আমার সন্তানকে আমার কাছে ফিরিয়ে নিতে চাই। পাঁচ জনকে যেন তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
নাহিদের পরিবার তাকে নিয়ে এখন কি আশংকা করছে জানতে চাইলে নাহিদের মা বলেন,আমরা প্রশ্ন নাহিদকে এখানে কেন নিয়ে আসবে। নাহিদের শারীরিক অবস্থা ভালো না অনেক খারাপ অবস্থা। এই অবস্থায় তাকে হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত নাহিদের এক ফুপু বলেন,সর্বশেষ আমি নাহিদকে হাসপাতালে দেখে এসেছিলাম। তখন নাহিদের পায়ের ক্ষতগুলো বাজে অবস্থায় ছিলো। তখন আমরা নাহিদকে বাড়িতে নিতে চেয়েছিলাম। তখন চিকিৎসকরা বললো কিছু দিন চিকিৎসার পরে বাড়িতে নিয়ে যায়েন। নাহিদকে যে দিন ডিবিতে নিয়ে আসা হয় আমাদের পরিকল্পনা ছিলো এর পরের দিন নাহিদকে আমরা বাসায় নিয়ে যাব। নাহিদের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিলো না। গায়ে জ্বর ছিলো ও পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা ছিলো।
এর আগে দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন,যাদেরকে নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা নিয়ে এসেছি তাদের পরিবারের কাছে অনুরোধ করব দুশ্চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। আমরা মনে করি তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা দেখছি। তাদের পরিবার যেন নিশ্চিন্ত থাকে সেই বিষয়ে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই।
ডিআই/এসকে