ঢাকা, রবিবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
পাঁচবিবিতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
টিআরসি নিয়োগে দালালমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশ্বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের
উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের দূর্ভোগ
চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমির স্নান সম্পন্ন
বিএনপি নেতার ওপর বোমা হামলার প্রতিবাদে কয়রায় বিক্ষোভ মিছিল
লঞ্চে মুমূর্ষ নবজাতককে মেডিকেল সহায়তা প্রদান করল কোস্ট গার্ড
আমতলীতে লঞ্চ ঘাট ও বাসস্ট্যান্ডে যৌথবাহিনীর অভিযান, জরিমানা আদায়
কালীগঞ্জে আমিনুর রহমান আমিনের গণসংযোগ শুভেচ্ছা বিনিময়
আমতলীতে হামলা, লুট ও পিটিয়ে দোকান দখলের অভিযোগ
দেওয়ানগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ বাবা মৃত্যু
নড়াইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের ঈদ পুনর্মিলনী
জামায়াতে ইসলামীতে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসের কোনো সুযোগ নেই:রফিকুল ইসলাম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করতে হবে
ভূরুঙ্গামারীতে মুভমেন্ট ফর পাঙ্কচুয়ালিটি’র সম্মেলনের উদ্বোধন
বিরামপুরে আগ্নিকান্ডে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই

ধানমন্ডিতে ১১টি হাত বোমাসহ দেশী অস্ত্র উদ্ধার

রাজধানীর ধানমন্ডির এক ভবনে অভিযান চালিয়ে ১১টি হাতবোমা,চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্র ও জেহাদি বই উদ্ধার করেছে পুলিশের বিশেষ ইউনিট কাউন্টার টেররিজম ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।

সিটিটিসি জানায়,কোটা আন্দোলনের নামে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নাশকতা,সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ছিল এ অফিস থেকে। ঢাকা মহানগর কেন্দ্রীয় অফিস হিসেবে এ অফিসটি ব্যবহার করা হয়। আর এখান থেকে তহবিল সংগ্রহ ও সরবারহ করা হতো।

শনিবার সন্ধার পর ধানমন্ডির ৫/এ সড়কে অবস্থিত ‘অবসর’ভবনে এ অভিযান চালায় (সিটিটিসি)। তবে এ ভবন থেকে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। অভিযান শেষে ভবনের ভেতরই শনিবার ( ২৭ জুলাই) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সিটিটিসির প্রধান আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন,ছয়তলা ‘অবসর’ ভবনের চার তলার অর্ধেকজুড়ে জসিম উদ্দীন নামে এক আইনজীবী ভাড়া নিয়ে তার চেম্বার করতেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতা। এখান থেকে গোপনে ঢাকা শহরের জামায়াতের সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হত।

তিনি আরও বলেন,কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সহিংসতায় নেতৃত্ব দেয় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। এ অফিস থেকে সেদিন সহিংসতায় নেতত্বে দেওয়ার তথ্য দিয়েছে শিবিরের সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম। অভিযানকালে আইনজীবীর ওই চেম্বার থেকে হামবোমা ও অস্ত্র ছাড়াও প্রচুর জেহাদি বই উদ্ধার করার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, তবে জসিম উদ্দীনকে পাওয়া যায়নি।

সিটিটিসি প্রধান বলেন,এর আগে শনিবার বিভিন্ন সময় ঢাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে শিবিরের সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম,জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান, জামায়াতের মহানগর কোষাধ্যক্ষ ও সদস্য আব্দুর রশিদকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এখানে অভিযান চালানো হয়।কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ধানমন্ডি এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় যে নারকীয় নাশকতার ঘটনা ঘটেছে সেটাতে রাশেদুল ইসলাম মূল নেতৃত্ব দিয়েছে।“

জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের গোপন আস্থানার কথা স্বীকার করে জানিয়ে তিনি বলেন,জামাত ইসলামের ঢাকা মহানগর কেন্দ্রীয় অফিস হিসেবে এ অফিসটি ব্যবহার করা হয়। এ অফিসে অনেক আলামত পেয়েছি। সম্প্রতি নাশকতায় তারা যেসব দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে। ভাংচুর,নাশকতা ও পুলিশের উপর আক্রমনে যেসব অস্ত্র ব্যবহার করেছে সেগুলো এখানে থেকে উদ্ধার করেছি।

সরকারি স্থাপনায় যে হামলা হয়েছে সমস্ত নির্দশনা ও সমন্বয় করেছে এই অফিস থেকে। বিভিন্ন নাশকতায় যারা অংশগ্রহণ করেছে এই অফিস থেকে তহবিল সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে এ অফিস থেকেই তহবিল সংগ্রহ করা করেছে। এই সংক্রান্ত বিপুল ডকুমেন্টস পাওয়া গেছে। আমাদের তল্লাশি অভিযান অব্যাহত আছে। যারা এসব কাজে সমন্বয় করেছিল। যারা এসব কাজে অর্থ সরবরাহ করেছিল। তাদের সকলকে খোঁজে বের করে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা এখানে যেসব ডকুমেন্টস পেয়েছি তাতে আমরা স্পষ্ট যে এখানে থেকেই আন্দোলনের সমন্বয় করেছে। আন্দোলনের কেন্দ্র যারা তহবিল দিয়েছে বেশকিছু বড় বড় ডোনারের আমরা নাম পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান চালাবো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় হামলা করা চেষ্টা হয়েছিল সেটি এই অফিস থেকে নির্দেশনা দিয়েছিল। জঙ্গি স্টাইলে জামাতে ইসলামের কার্যক্রম পরিচালিত হতো এ অফিসে। তাদের নাম ঠিকানা গোপন করে সেখানে অফিস চলছিল গত পাঁচ বছর ধরে।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ