
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের নন্দীগ্রাম (বানিয়া পুকুর) আর্দশ আশ্রয়নে আপন মেয়ের জামাই ফারুক হোসেনের চাকুর আঘাতে শশুড় ভূমিহীন কৃষক ছনছু মিয়া (৬০) নিহত হয়েছে। এক ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হলে পুলিশ রাতেই জামাই ফারুক হোসেন ও তার পিতা ইউসুফ আলী (৬১)কে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। গ্রেফতারকৃত জামাই ফারুক উপজেলার নিকড়দীঘি গ্রামের ইউসুফ আলীর পুত্র ।মামলার বাদী শশুর ছুনছুর স্ত্রী আয়েশা বেগম। আর নিহত শশুর আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাস করা মৃত শুকুর আলীর পুত্র। এলাকাবাসী ও নিহত পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাদকসেবী জামাই ফারুক প্রায় মেয়ে সুমাইয়াকে শারীরিক নির্যাতন করত। জামাইয়ের অত্যাচার থেকে মেয়েকে রক্ষা করতে মেয়ে শশুড় বাড়ি থেকে চলে আসলে আর যেতে দেয়নি শশুর ছনছু। গত (৬ জুলাই) বৃহস্পতিবার ছেলের বউকে নিতে জামাইয়ের পিতা ইউসুবসহ কয়েকজন বানিয়া পুকুর আর্দশ গ্রামে ছুনছুর বাড়িতে আসেন। এ বিষয়ে আলোচনার এক-পর্যায়ে উভয় পরিবারের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ছেলের বউ শশুড়ের সঙ্গে যেতে না চাইলে ইউসুব বাড়িতে ফিরে যায়। ওইদিন বিকাল বেলা নন্দীগ্রাম চারমাথায় বাজার করতে যায় শশুর ছুনছু মিয়া। এসময় জামাই ফারুকের কাছে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে শশুড়রের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৫-৬ টি আঘাত করে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় ছুনছুকে উদ্ধার করে প্রথমে মহীপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন পরিবারের লোকজন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকায় চিকিৎসারত অবস্থায় গত শুক্রবার দুপুরে সে মারা যায়। নিহত ছুনছুর স্ত্রী আয়েশা বেগম স্বামীর হত্যাকারী জামাই ফারুকের ফাঁসি দাবি করেন। মেয়ে সুমাইয়া আক্তারও বলেন, আমার জন্মদাতা পিতাকে যে হত্যা করতে পারে সে আমার স্বামী হওয়ার অধিকার রাখে না। আমি আমার বাবা হত্যার সঠিক বিচার চাই। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত ছুনছুর লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌছায়নি।