
এবার ভারতের কেরালা রাজ্য থেকে হারানো আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা গেছে,ভারতের কেরালা রাজ্যের চিকিৎসা বিদ্যায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী শাহিন রোশান গত ২৭ মার্চ তার ব্যবহৃত আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স হারান। মোবাইল হারানোর তিন মাস পর প্রযুক্তির মাধ্যমে তার ফোনের অবস্থান রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে দেখতে পান। পরবর্তীতে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের লালবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো.ইমরান মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফোন উদ্ধারে সহযোগিতা চান।
ভারতীয় ওই নাগরিকের দেওয়া তথ্যে অভিযান চালিয়ে আইফোনসহ বিভিন্ন মডেলের দুই শতাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লালবাগ জোনের এসি মো. ইমরান মোল্লা।
ভারতের কেরালা রাজ্যের এক শিক্ষার্থীর ফোন হারানোর পরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে দেখতে পান তার ফোনটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আছে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্য অভিযান চালিয়ে আইফোনটি তিন মাস পর ডিএমপির কামরাঙ্গীরচর থানার পূর্ব রসুলপুর থেকে উদ্ধার করা হয়।
ইমরান মোল্লা আরও বলেন,ভারতীয় নাগরিকের হারানো আইফোন উদ্ধারের সূত্র ধরে মো.শাকিল (২৪) ও তার ভাই মো.শাহীন (২১) গ্রেফতার করা হয়।
দুই ভাই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে, পার্সেলের মধ্যে অবৈধ পথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তারা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আইফোনসহ স্মার্টফোন চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে এনে দোকানে বিক্রি করে। তাদের বাসায় অভিযান চালিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ও মডেলের আইফোন ১৩৮টি রেডমি-১১টি,ভিভো ১১টি,স্যামসাং ১০টি,অপ্পো ৭টি, রিয়েল মি ৫টি,লাভা ২টি, গুগল পিক্সেল ২টি,মোটরলা ১ট,নোকিয়া ১টি,পোকো ১টি,ওয়ান প্লাস ১টি,অ্যাপল ব্র্যান্ডের ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও চোরাই মোবাইল ফোন বিক্রির নগদ ৯৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের দেওয়া তথ্যমতে আরো জানা যায় যে,ধানমণ্ডি থানাধীন অচার্ড পয়েন্টে তাদের ভাড়াকৃত দোকানে আরো কিছু শুল্ক ফাঁকি দেয়া দেশি-বিদেশি মোবাইল ফোন আছে। তথ্যের সত্যতা যা চাইপূর্বক আরো মোবাইল ফোন উদ্ধার এর জন্য চক্রের সদস্য মোঃ শাকিল (২৪)-কে সঙ্গে নিয়ে পরবর্তীতে ধানমন্ডি মডেল থানার অচার্ড পয়েন্ট মার্কেটের মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় তার দোকানের ভিতর থেকে বিক্রয়ের জন্য ডিসপ্লেতে প্রদর্শন করা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ও মডেলের ১৭টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান,বিভিন্ন দেশ থেকে আসা চোরাই আইফোনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ও মডেলের স্মার্টফোনের পার্সেলের ভিডিও,ছবি এবং চোরাই মোবাইল ফোন বিক্রির বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
আসামিরা পুলিশকে জানিয়ে,জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের বক্তব্যমতে তারা ভারতের বিভিন্ন শহর বিশেষ করে মুম্বাই,কলকাতা,চেন্নাই,হায়দরাবাদ,কেরালা ইত্যাদি এলাকার বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে এসব চোরাই মোবাইল ফোন অবৈধভাবে ক্রয় করতেন।
ডিআই/এসকে