
শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী ব্যাচেলর অব এডুকেশনের (বিএড) জাল সনদ তৈরী করতে চক্রটি। এসব জাল সনদ বিক্রি করা হতো শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী প্রত্যাশীদের কাছ থেকে।
আর জাল বিএড সনদে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার নামে শিক্ষকতার চাকুরী প্রত্যাশীদের টার্গেট করে মোটা অঙ্কের চুক্তি হতো। চক্রটি ইতোমধ্যে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সারা বাংলাদেশ থেকে। এ চক্রের ফাঁদে পড়ে নি:স্ব হয়েছে অনেক বেকার যুবক,যারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী প্রত্যাশী ছিলো।
সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্বিত্বে চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েণ্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেফতারকৃতরা হলো,মো.আশরাফুল আলম,স্বপন ব্যানার্জী ও আ ন ম আব্দুল্লাহ।
ডিবির মতিঝিল বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার এস.এম. হাসান সিদ্দিকী এ সময় তাদের হেফাজত থেকে তিনটি মোবাইল ফোন,এনটিআরসিএ’র জাল সনদ ও কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।
ডিবির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার রফিকুল ইসলাম এইসব তথ্য জানান,আসামীদের বিরুদ্ধে এনটিআরসি’র এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছে। ওই মামলায় আসামীদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেলে পাঠায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত আছেন এমন একাধিক ব্যক্তির নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। আসামীদের রিমান্ড হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হবে। অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।
গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার এস.এম.হাসান সিদ্দিকী জানায়,মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো.নয়ন মিয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন,একটি চক্র বি.এড সনদ জাল করে বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসায় অবৈধ নিয়োগ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া ২০১৬ সালে এনটিআরসি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পূর্বে নিয়োগ দেখিয়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কতিপয় অফিসারের সহযোগিতায় অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করে মোটা অংকের বিনিমিয়ে এমপিওভুক্তি করে আসছে। এ বিষয়ে গত ২ জুলাই ডিএমপি ডিবি বরাবর একটি অভিযোগ করেন নয়ন মিয়া।
তিনি আরও বলেন,নয়ন মিয়ার অভিযোগটি আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য কাজ শুরু করা হয়। এরপর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনা থানা এলাকার বেইলি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে বেশ গুরুতপূর্ণ তথ্য মিলে।
তিনি বলেন বলেন,গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত ও প্রতারক চক্রের সদস্য। গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কতিপয় অফিসারের সহযোগিতায় জাল বি.এড সনদ দিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসায় নিয়োগসহ এমপিওভুক্তির কথা বলে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের রমনা থানায় রুজুকৃত মামলা হয়েছে। তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে ।
ডিআই/এসকে