
জামালপুরের মাদারগঞ্জে জমি নিয়ে দ্বন্দে বৃদ্ধা ছিরাতন বেওয়া (৬২) হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি পিন্টু(৩৫)’কে যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪, সিপিসি-১ জামালপুর ও সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্প।
বৃহস্পতিবার (০৪ জুলাই)১১.৫৫ ঘটিকায় টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানাধীন পাকুল্লা বাজার এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১৪ জামালপুরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর আব্দুর রাজ্জাক প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব জানায়- মামলার বাদী মোঃ এবাদুল্লাহ @ নয়ন মিয়া (৩০), মাদারগঞ্জ উপজেলার রায়েরছড়া মধ্যপাড়া এলাকায় তার বসত বাড়ীর পিছনে ৭৭ শতাংশ জমি ক্রয় মূলে প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখল করে আসতেছিল। বাদী উক্ত জমিতে ফসলাদি চাষাবাদ করে। ঘটনার দিন গত ৯ জুন সকাল অনুমান ১১ ঘটিকায় বিবাদীগণ পূর্ব শত্রুতার জেরে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া জমি দখল করার জন্য অনধিকারভাবে বাদীর বসত বাড়ীতে ও জমিতে প্রবেশ করে। বিবাদীগণ বাড়ীতে ভাংচুর শুরু করে এবং জমির ফসলাদি নষ্ট করে অনুমান ৫০/৬০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। বিবাদীদের বাধা-নিষেধ করিলে বিবাদীগণ তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারীভাবে মারপিট শুরু করে। এ সময়, বসত ঘরে থাকা বাদীর বৃদ্ধ দাদী মোছাঃ ছিরাতন বেওয়া (৬২)‘কে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চাপিয়া ধরিয়া শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে এবং কপালের বাম পাশে চোখের কাছে এবং থুতনির নিচে হাত দিয়ে ঘুষি মারিয়া রক্তজমাট জখম করে। এ সময় বাদীর দাদীর ডাকচিৎকার শুনিয়া অন্যান্য সাক্ষীগণসহ আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসিয়া বিবাদীদের কবল হইতে তাদেরকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর পরই বাদী তার দাদি ছিরাতন বেওয়াসহ অন্যান্য জখমীদেরকে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করান। কিন্তু ছিরাতন বেওয়ার অবস্থা আশংকা জনক দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরবর্তীতে, জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছাইলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার ছিরাতন বেওয়া‘কে মৃত ঘোষনা করেন।
ঘটনার পর থেকে মামলার আসামীগণ গ্রেফতার এড়ানোর লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে চলে যায়।
ধৃত আসামীকে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।