
ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মদনখালী স্লুইস গেট সংলগ্ন কুমার নদে গোসল করতে নেমে ফারদীন (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের একদল ডুবুরী সন্ধ্যা পৌণে ছয়টা থেকে তল্লাশী চালিয়ে তার কোনো খোঁজ পায় নি। নিখোঁজ ফারদীন শহরের কমলাপুরের বালুরমাঠ এলাকার মোহাম্মদ সিরাজের সন্তান।
সে ফরিদপুরের সরকারি ইয়াসিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেলে ফারদীন ও তার আরেক বন্ধু ফেরদৌস দুজনে মিলে মদনখালী স্লুইস গেট এলাকায় কুমার নদে গোসল করতে নামে। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নদীতে লাফ দেওয়ার পরে ফারদীন পানির তীব্র স্রোতে ভেসে যায়।
এসময় ফেরদৌসের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার সুভাষ রাড়ৈ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীদল নিখোঁজ ওই তরুণকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। কিন্তু রাত হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা বন্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফের উদ্ধার কাজ শুরু করা হবে।
এদিকে, ফারদীনের নিখোঁজের খবরে তার বাড়িতে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। নদের দুই পাড়ে উৎসুক জনতা ভিড় করে।
অপরদিকে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় পানিতে ডুবে সায়মন (৬) নামে এক শিক্ষার্থী মারা গেছে। সে উপজেলার মুরারদিয়া ইসলামিক কিন্ডারগার্ডেনের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র।
বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ির পাশে ডোবার পানিতে ডুবে মারা যায় সায়মন।
নিহত আল আমিন সায়মন মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের মুরারদিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী নজরুল হোসেন খানের ছেলে।
মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. চৈতী সাহা জানান, ছয় বছর বয়সী সায়মন নামের এক শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।কিন্তু তার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বাড়ির পাশে একটি ডোবায় পানি জমেছিল। সেখানে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায় সায়মন। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না।সায়মন মা ও বাবার একমাত্র সন্তান। পানিতে ডুবে তার করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।