
ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নে বিদ্যুৎ এর মিটার থেকে অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ চুরি ধরিয়ে দেওয়ায় সাংবাদিক সহ তার পরিবারের লোকজন হামলা শিকার হয়েছেন।
আহত রবিউল হাসান রাজিব দৈনিক মুক্ত কন্ঠ ও মনিংগ্লোরি ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।এই বিষয়ে ফরিদপুর কোতায়ালী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন সাংবাদিক রাজিব।
রাজিব জানায়, আমার বাড়ির পাশে জামাল মল্লিক গং দীর্ঘদিন যাবত ব্যাটারী চালিত ইজি বাইক, অটো রিক্সা/ভ্যান চার্জ দেয়ার ব্যবসা করে আসছে। তারা সেখানে প্রতিদিন ৪০/৫০ টি অটো চার্জ দেয়। অভিযোগ উঠে তারা মিটার কারসাজি করে বিদ্যুৎ বিল কম দিয়ে আসছে।
বিষয়টি সত্যতা জানার চেষ্টা করলে, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে বিয়ষটি বিদ্যুত বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করি।
পরে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে এসেও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন এবং অভিযুক্তদের অফিসে ডেকে নেন। সেখানে উপস্থিত বেশ কয় একজন সাংবাদিক ছিলেন।এবং অভিযুক্তরা গত ১ জুলাই বিদ্যুৎ অফিসে হাজির হয়ে মুচলেকা দিয়ে আসে।
অভিযুক্তকারীরা মুচলোকা দিয়ে বাড়ি আসার পরে থেকে বিভিন্ন ভাবে আমাকে হুমকি দামকি দিতে থাকে। এবং এলাকার বিভিন্ন লোকজনের কাছে সহ বিভিন্ন জায়গায় বলে চলছে তারা যা খুশি তাই করবে আমি বলার কে। কেন আমি প্রতিবাদ করলাম,এটাই আমার অপরাধ।
রাজিব আর ও জানান, গত ২ জুলাই আমার বাড়ির সামনে ইউপি সদস্য রাহাতুল হাসানের সাথে কথা বলছিলাম। এ সময় অতর্কিতভাবে অভিযুক্ত জামাল মল্লিক, রাজ্জাক মল্লিক, ইমরান মল্লিক, সাহিদ মল্লিক, সাকিব মল্লিক, নাছিমা বেগমসহ আরো ৫/৬ জন লাঠিসোটানিয়ে অতর্কিতভাবে আমার উপর হামলা করে। এসময় আমার স্ত্রী তানিয়া আক্তার এগিয়ে আসলে তাকেও মারপিট শুধু তাই নয় আমার ৬ বছরের কন্যা রাফিয়া তাসনিম আমাকে বাবা বলে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।
ঘটনার সময় ভিডিও করতে গেলে স্ত্রীর মোবাইল ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। পরে ইউপি সদস্য মোবাইল ফোন উদ্ধার করে ফেরত দেয়। আমার চিৎকারে আশে পাশের বাড়ির লোকজন বের হয়ে এসে হামলাকারীদের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা নেই আমি।আমি সহ আমার পরিবার নিরাপত্বাহীনতা ভুগছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রাহাতুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনা আমার উপস্থিতিতেই হয়েছে। জামাল মল্লিক আমার কাছে নালিশ দিয়েছিল যে সে বিল দেক বা না দেক, রাজিবের এইটা নিয়ে মাথা ব্যাথা কেন, তুমি এইটা দেখ নইলে রাজিবকে মারবো। তখন আমি বলছি, মারামারির দরকার নেই, আমি দেখতেছি। আমি তখন রাজিবকে বাড়ির সামনে ডেকে নিয়ে এই ব্যপারে কথা বলতেছিলাম, ওই সময়েই জামাল মল্লিক, তার ছেলে ও শ্যালকরা মিলে ঘিরে ধরে ঘটনাটা ঘটায়।ফরিদপুর কোতয়ালী থানার অফিসার ইন চার্জ হাসানুজ্জামান জানান, তারা অভিযোগ পেয়েছেন। এই ব্যাপারে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।