
কক্সবাজারের বেলাল ডাকাত বাহিনীর প্রধান বেলাল হোসেন ও তার দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সোমবার রাতে র্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১৫’র যৌথ অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দশটি দেশীয় অস্ত্র এ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-ডাকাত দলের সর্দার বেলাল হোসেন,তার দুই ভাই কামাল আহম্মেদ ও আব্দুল মালেক এবং ডাকাত দলের সদস্য নুরুল আমিন।
মঙ্গলবার ( ২ জুলাই) সকাল ১১ টায় কক্সবাজার র্যাব-১৫ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাবের সহকারী পরিচালক লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইং কমান্ডার আরাফাত ইসলাম।
তিনি জানান,কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় এই ডাকাত দলের সদস্যরা লবণ ও চিংড়ি ঘেরে চাঁদা আদায় করত। ক্ষেত্রবিশেষ তারা এসব ঘের জোর পূর্বক দখল করে নিতো। ১৯জুন অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চরণদ্বীপ মৌজার গোলদিয়ায় ১০ একরের সাতটি ঘের-এ হানা দেয়। এ সময় শতাধিক ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। অস্ত্রের মুখে ঘের কর্মচারীদের জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে ফেলা হয় এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এরপর একে একে ঘেরগুলো দখলে নেয় সন্ত্রাসীরা। ঘটনার পর সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও ডাকাতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি শুরু করে র্যাব। গত রাতে র্যাব চকরিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী ও ডাকাত দলের প্রধান বেলাল হোসেনসহ চারজনকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ডাকাতি,চিংড়ি ঘের দখল ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে।
উদ্ধার অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি দো’নলা বন্দুক, তিনটি একনলা বন্দুক,দুইটি দেশি এলজি,চারটি ওয়ান শুট্যারগান,৫২ রাউন্ড গুলি,নগদ ৮০ হাজার টাকা।
র্যাব বলছে,বেলাল দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম,চাঁদাবাজি,ছিনতাই,জমি দখল,ঘের দখল সহ বিভিন্ন অপরাধে নয়টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তার ভাই কামালের বিরুদ্ধে ছয়টি, মালেকের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা আছে।
ডিআই/এসকে