
ফরিদপুরে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবা হারুনার রশিদ ওরফে মাসুদ রানা (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড আনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।রায় ঘোষণার সময় আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।পরে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। দন্ডপ্রাপ্ত হারুনার রশিদ ওরফে মাসুদ রানা (৪০) সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার খামারবড়ধুল গ্রামের আবদুল্লাহ আল মাহমুদের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে সেপ্টেম্বর মাসে হারুনার রশিদ ওরফে মাসুদ রানা সাথে ফরিদপুরে নগরকান্দা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের তারা ফকিরের মেয়ে তানিয়া সুলতানা সাথে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। ২০২০ সালে জানুয়ারি মাসে নিজ ঘরে তানিয়ার প্রথম পক্ষের বড় মেয়ে ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং খুন করার হুমকি প্রদান করে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
পরবর্তীকালে ওই মেয়েকে ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি স্কুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে মোটরসাইকেল যোগে হারুন তাকে ঢাকায় এক বাসায় নিয়ে যায়। সেখানেও একাধিক বার ধর্ষণ করে মোবইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি দেখায়। ৩০ জানুয়ারি হারুন তার সৎ মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে ফিরলে ওই মেয়ের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফুলা ও জখম দেখতে পায় তানিয়া। পরে মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা জেনে মেয়েটির মা তানিয়া সুলতানা গ্রামের স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় হারুনকে পুলিশে সোপর্দ এবং নগরকান্দা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করে।
নগরকান্দা থানার এএসআই অসীম মন্ডল ২০২০ সালের এপিল মাসের ৩০ তারিখে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত দীর্ঘ শুনানী শেষে এ রায় প্রদান করেন।মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট স্বপন পাল জানান, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ এর ধারায় অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় হারুনকে দন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের নির্দেশে দন্ডপ্রাপ্ত আসামীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।