
রাজশাহীর বাগমারায় বর্ষাকালেও চলছে ফ্রি স্ট্যাইলে অবৈধ পুকুর খনন ভোগান্তিতে সর্বসাধারণ। উপজেলার শ্রীপুর , গোয়ালকান্দি,
মাড়িয়া, গনিপুর, আউচপাড়া ইউনিয়নে চলছে অবৈধ পুকুর খননের হিড়িক। প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এ সমস্ত পুকুর খনন করা হচ্ছে বলে স্থানীয় একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এমন কী মহামান্য হাইকোর্ট থেকে বাগমারায় ফসলী জমিতে পুকুর খননে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যার রিট পিটিশন নম্বর ৪৩৫৩/২০১৭,
১৭/০৪/২০১৭ইং। কিন্তু কে শোনে কার কথা। শ্রীপুর ইউনিয়নের মজিদপুর বিলে পাশাপাশি অন্তত সাতটি পুকুর খনন করা হয়েছে। রবিবার (২৩ জুন/২৪ইং) দুপুরের পর সরজমিন মজিদপুর বিলে দুইটি খনন যন্ত্র দিয়ে (ভেকু মেশিনে) পুকুর খনন করতে দেখা গেছে। মাড়িয়া ইউনিয়নে গাঙ্গোপাড়া এলাকার বিলে ছোট-বড়, মাঝারি পুকুর করা হয়েছে। গাঙ্গোপাড়া মোড়ের অদূরে একটি পুকুর খনন চলমান রয়েছে। গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের রামরামা বিলে,গনিপুর ইউনিয়নের মাঝিগ্রাম,একডালা, দু’বিলা, আউচপাড়া ইউনিয়নের নিমাই বিল সহ বেশ কয়েকটি স্থানে রাত-দিনে পুকুর খনন করা হচ্ছে। কোন কোন স্থানে ভেকু মেশিন দিনের বেলায় না থাকলেও, সন্ধার পর সাঁজোয়া যানের মতো ঠিকই নেমে পড়ছে। গতকাল রবিবার মজিদপুর বিলে কয়েকজন কৃষক আগাছা পরিস্কার করছিলেন। নতুন পুকুরের আশেপাশে।
পুকুর খনন সমন্ধে জানতে চাইলে তাঁরা জানান, আজ আপনাদের কাছে মুখ খুল্লে কাল আমাদের মারধরের শিকার হতে হবে। অভিনব কায়দায় রাতারাতি পুকুরের পাড় নির্মাণ করা হয়। সুবিধা মত সময়ে সেটি পুকুের পরিণত করা হয়ে থাকে। নিরুপায় হয়ে অনেক কৃষকের নিরবে নিভৃতে চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর
কিছুই করার থাকে না। এ সমস্ত ফসলী জমির টপসয়েল অবাধে যাচ্ছে ইট ভাটায়। ট্রাক্টরে মাটি বহনের সময় রাস্তায় কাদা মাটি পড়ে একাকার রাস্তাঘাট। গত দুই দিনের হঠাৎ বৃষ্টিতে পাকা রাস্তায় চলাচলে বিড়ম্বনায় পড়তে দেখা গেছে পথচারীদের। কোন কোন স্থানে উপজেলা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পুকুর খনন করা হচ্ছে। আবার স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পুকুর খনন করে থাকেন প্রভাবশালীরা। এমন ও দেখা গেছে, সংবাদদাতারা হোয়াটসএ্যাপস, ম্যাসেঞ্জারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ইউএনওকে অবহিত করলে সাথে সাথে সেসব তথ্য প্রভাবশালীদের হাতে চলে গেছে। আর এর সাথে জড়িত ইউএনও অফিসের কতিপয় কর্মচারী-কর্মকর্তা। কোথাও অভিযান শুরুর আগেই সে তথ্য পেয়ে যায় প্রভাবশালীরা। সেকারণে এ সমস্ত কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বদলী হওয়া উচিত বলে মনে করেন বাগমারার সচেতন মহল। বাগমারা উপজেলা শষ্য ভান্ডার হিসাবে খ্যাত। এ
অবস্থা চলতে থাকলে খাদ্য শষ্যের অভাব দেখা দেবে বলে মনে করেন সচেতন মহল। জনৈক আইনজীবী এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, এমন ও দিন আসতে পারে যে, বাগমারায় কেউ দু’কেজি চাউল সাহায্য চাইলে তাকে দু’কেজি মাছ দেয়া হবে। আউচপাড়া ইউনিয়নের নিমাই বিল সহ বিভিন্ন স্থানে আবাদি জমিতে অবৈধ
পুকুর বন্ধে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশনের আদেশ বাস্তবায়নে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ২৩ জুন, অভিযোগ দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জালাল উদ্দীন উজ্জল। এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে, তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে পুকুর খননের লোকেশন (অবস্থান) জানতে চান।