
“”আমার চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই যতদিন বেঁচে থাকবো জনগনের সেবা করে যাবো”””
সৃষ্টিকর্তা আমাকে না চাইতেই অনেক কিছুই দিয়েছেন,জনগনের সেবার মধ্যেই নিজেকে ধরে রাখতে চাই এই কামনা করি। ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মানবিক নেতা শামিম হক সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুের আর্দশে গড়া বাংলার মেহনতী মানুষের সুখ দুঃখের পাশে থাকা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফরিদপুরে রাজনীতির চরম বিপর্যয়ের মধ্যে আমাকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করেন। সেই বিপর্যয় থেকে আমি ফরিদপুর বাসীর মনের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর আস্থা ভরসা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমি দলকে ভালবাসি, দলের প্রধান যে নির্দেশ আমাকে প্রদান করবেন সেই মোতাবেক কাজ করে যেতে আমি সর্বদা প্রস্থত।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে নৌকা প্রতীক দিয়ে মনোনয়ন দিবেন তাকেই আমরা বরন করে নিয়ে কাজ করে যাবো,এখানে কোন ভেদাভেদ নেই।
ফরিদপুর বাসীর আপনাকে এমপি হিসাবে দেখতে চাই, এই বিষয়ে তিনি বলেন,ফরিদপুরের জনগনের আমার উপর আস্থা আছে,তারা আমাকে ভালবাসে, পচন্দ করে সেই কারনে তারা আমাকে এমপি হিসাবে দেখতে চাই,তা ছাড়া বিগত দিনে ফরিদপুরের রাজনীতির সম্পর্কে তাদের ধারনা আছে, এর কারনে হয়তো তাদের জায়গা থেকে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচন করতে চাই।
আমার মনের মধ্যে কখন হিংসা প্রতিহিংসা,
গৌরব, অহংকার,লোভ লালসা, কাজ করেনা।
আমি কখন কোন ব্যক্তির সাথে নেতা হিসাবে মিশি না, আমি সর্বদা তাদের আপন জন,হিসাবে মিশতে এবং কথা বলার চেষ্টা করি। আমার বাড়ি বা যেকোন জায়গায় আমার সাথে কথা বলতে দেখা করতে কারো অনুমতির প্রয়োজন হয় না। আমি সব সময় তাদের যে কোন সমস্যা নিজের সমস্যা মনে করে পাশে থাকার চেষ্টা করি।
একজন দানবীর নামে ইতিমধ্যে সবার মনের মধ্যে জায়গায় করে নিয়েছেন এবং জনগন আপনাকে সেই নামে বেশি চিনে থাকে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আমি শত্রু মিত্র বুঝি না একজন অসহায় মানুষ আমার কাছে বুকে আশা বেঁধে আসে আমি যতটুকু পারি তা দিয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি,তাদের মুখে একটু হাসি ফুটানোর চেষ্টা করি, হয়তো আমাকে ভালবেসে এই নামে ডাকে।
১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ পরিবারের সন্তান ও ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক আপাদমস্তক একজন মানবিক মানুষ হিসেবে স্থানীয়ভাবে সর্বজনীন স্বীকৃত ব্যক্তি। ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা এই নেতা দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে।
দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকলেও এক মূহুর্তের জন্যও তিনি আওয়ামী রাজনীতি ও গণমানুষের সেবা থেকে দূরে থাকেননি। দেশের প্রতি ও দেশের মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার টান তাঁকে বেশিদিন বিদেশে থাকতে দেয়নি। দেশপ্রেমিক ও মানবিক এই মানুষটি সব সময় গণ মানুষের কথা ভেবেছেন বিধায় ইউরোপে বিলাসী জীবন ছেড়ে দেশে গড়ে তুলেছেন তাঁর শিল্প প্রতিষ্ঠান ও মানবিক প্রতিষ্ঠান।
টানা ১০ বছর হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা শামীম হক হল্যান্ড থেকে দেশে এসে পথে প্রান্তরে দেখেছেন এতিম ছিন্নমূল শিশুদের যাপিত জীবনের দুঃখ কষ্ট। মানবিক প্রাণ পুরুষ শামীম হক ওই শিশুদের কথা চিন্তা করে তাদের পাশে দাঁড়াতে ইচ্ছা পোষণ করেন। শিশুসেবার ব্রত নিয়ে ২০০৫ সালে গড়ে তুলেন হল্যান্ড চিলড্রেন হাউজ নামে একটি দাতব্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। যেখানে সারা বাংলাদেশ থেকে সব ধর্ম-বর্ণের এতিম ও অসহায় শিশুদের খুঁজে খুঁজে নিয়ে আসেন ফরিদপুরে অবস্থিত হল্যান্ড চিলড্রেন হাউজ ও এতিম খানায়। যেখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান উপজাতি, পাহাড়ি সব ধরনের শিশুরা একসাথে বসবাস করে। সম্পূর্ণ ধর্ম নিরপেক্ষ এই এতিম খানায় পিতার মমতায় সুন্দর পরিবেশে শিশুদের বাসস্থান, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা দিয়ে থাকেন শামীম হক। শুধু কি তাই? হল্যান্ড চিলড্রেন হাউজে এতিম অসহায় শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি ভোকেশনাল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হয় গভীর মমতায়। যাতে তারা এই চিলড্রেন হাউজ থেকে বের হয়ে কর্ম জীবন শুরু করতে পারেন। এখানেই শেষ হতে পারতো অসহায় শিশু ও এতিম খানার গল্পটি। কিন্তু যিনি এসব এতিম অসহায়দের পিতার স্নেহ লালন-পালন করে চলেছেন সেই শামীম হক কি তাদের নিরাপদ জীবন না দিয়েই ছেড়ে দিবেন? সেই রকম দায়সারা লোক কিংবা লোক দেখানো মানবিক মানুষ শামীম হক নন!
মানবতার জননী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ও যোগ্য কর্মী শামীম হক তাঁর হল্যান্ড চিলড্রেন হাউজ ও এতিম খানা থেকে বের হওয়া অসহায় ছেলে-মেয়েকে নিজ উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় চাকুরীর ব্যবস্থা করে তাদের নিরাপদ জীবন দেন। যেসব ছেলে-মেয়েরা অন্য কোথাও চাকরী না পান তাদেরকে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী এই শীর্ষ নেতা শামীম হক তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান একেএইচ গ্রুপ, ইউরো বাংলাসহ বিভিন্ন জায়গায় চাকুরীর ব্যবস্থা করে দেন। এতিম ও অসহায় শিশুদের বাইরেও সামাজিক দায়বধ্যতা থেকে তিনি সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। কখনও তিনি কোন মানুষকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহেনাসহ বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা তাঁর কৃতকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন সব সময়।
তিনি রাজনীতির বাইরেও নানা সেবা মুলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন তাৃদের নাম ও সম্পৃক্ততা। শামীম হক দেশে এশে এতিম-শিশুদের পাশাপাশি প্রতি বছর বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন সমাজের অসহায়, দরিদ্র মানুষের নানা জটিল ও জন্মগতভাবে বিকলাঙ্গ শিশুসহ বিভিন্ন অসুস্থ মানুষের। হল্যান্ড, অস্টিয়া, ভিয়েনা বিভিন্ন দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এনে তাঁর শহর ফরিদপুরে প্রতি বছর ক্যাম্প করে চিকিৎসা দেন চক্ষু সার্জারী চিকিৎসা, প্লাস্টিক সার্জারী, জন্মগতভাবে চোঁঠ, তালু কাটা রোগী, এসিড বা আগুনে ঝলসে যাওয়া রোগীসহ বিভিন্ন অসহায় গণ মানুষের।
এ পর্যন্ত ১৬ টি প্লাস্টিক সার্জারী ক্যাম্পের মাধ্যমে সারা দেশের প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোগীর চিকিৎসা দিয়েছেন শামীম হক যা এখনও পর্যন্ত চলমান রয়েছে। এছাড়া “বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব” চক্ষু শিবির নামে একাধিক অসহায় দরিদ্র হাজার-হাজার মানুষের চক্ষু সেবা ও সার্জারী করে তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা শামীম হক। ফরিদপুরের গণ মানুষে চোখের মণি শামীম হক নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন মানুষের জন্য, আওয়ামী লীগের জন্য। শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় এবং নিজের মানবিক আলোয় আলোকিত করে যাচ্ছেন ফরিদপুর তথা দেশের অসহায় মানুষকে।
এক প্রশ্নের জবাবে শামীম হক জানান, “আমি রাজনীতি করি দেশের মানুষের সেবা করার জন্য, টাকা কামানোর জন্য নয়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে। আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছেন, রাজনীতি থেকে আমার সুবিধা নেয়ার কিছু নাই। আমি যতোদিন বেঁচে আছি আমার ফরিদপুরবাসী তথা দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।” তিনি আরো জানান, “আমি প্রমাণ করবো রাজনীতি ভোগের কোন প্রতিষ্ঠান নয়, বরং রাজনীতি হচ্ছে মানুষের জন্য সর্বোচ্চ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান