
পঞ্চগড়ে ক্ষুদ্র বিষয়কে কেন্দ্র করে শ্লীলতাহানি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আহত হয়েছে তিন জন। ঘটনা টি ঘটেছে জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ৭নং দেবনগর ইউনিয়নে। জানা গেছে, ঐ এলাকার বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ সলেমান আলী’র পরিবারের সাথে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ খতিবর রহমান এর পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরেই জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে।
কিছুদিন আগে উভয় পরিবারের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গত (১২ – জুন) সোমবার দুপুরে মোঃ আশরাফুল ইসলাম এর ছোট মেয়ে মোছাঃ উর্পি আক্তার(১১) বাড়ির পাশে দোকানে খাবার কিনতে যায়। সেখানে বাইসাইকেলে বসা কে কেন্দ্র করে ঐ মুহুর্তে দোকানে থাকা মোঃ দেলোয়ার এর ছেলে মোঃ জিসান (১৬) এর মধ্যে একটু রাগারাগি হয়। এতে উর্পি কান্না শুরু করে। তার কান্নাকাটি শুনতে পেয়ে বড় বোন মোছাঃ হাবিবা আক্তার (১৬) এগিয়ে আসে। সেখানে পুনরায় মোছাঃ হাবিবা আক্তার ও মোঃ জিসান তর্কে জরিয়ে পরে।
এ ঘটনায় মোছাঃ হাবিবা এর দাদা, মোঃ খতিবর রহমান (৮৭), মোঃ আয়নদ্দিন(৭০), মোঃ সামসুল আলম(৬০), মোছাঃ সামসুন নাহার(২৫) সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তাদের মধ্যে চলমান কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পাশের দোকানদার চেয়ারম্যান এর ছেলে মোঃ নুর আলম সিদ্দিক(নয়ন) (২৫) হাবিবাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তা বলে। এতে হাবিবা প্রতিবাদ করলে নুর আলম সিদ্দিক (নয়ন) ক্ষিপ্ত হয়ে মোছাঃ হাবিবা এর গাঁয়ের কাপর ছিরে দেয় এবং তাকে জোরপূর্বক টেনে হিচড়ে বাড়ির দিকে নিয়ে যেতে থাকে। এ সময় দাদা মোঃ খতিবর রহমান ও ছোট দাদা মোঃ আয়নদ্দিন ঘটনাটি দেখতে পেয়ে ছুটে এসে নাতনিকে উদ্ধার করে। এতে নুর আলম সিদ্দিক ক্ষিপ্ত হয়ে ইট দিয়ে খতিবর রহমান এর ডান চোখের একটু উপরে আঘাত করে। ফলে খতিবর রহমান এর ডান উপরে ফেটে যায়।
এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। আয়নদ্দিনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে নুর আলম সহ তার পরিবারের সদস্যরা। রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় নুর আলম সিদ্দিক পুনরায় রোগী বহনকারী অটোরিকশা থামিয়ে মারপিটের চেষ্টা করলে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও পুলিশের সহযোগিতায় তাদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে এ ঘটনায় চেয়ারম্যান সলেমান আলী বলেন, তাদের পরিবারের সাথে আমাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। আমরা টাকা দিয়ে জমি কিনলেও তারা আমাদের জমি বুঝিয়ে দিচ্ছে না। জিসান ও হাবিবা’র মধ্যে চলমান ঝগড়া থামানোর কথা বলে নুর আলম সিদ্দিক। কিন্তু কোন কারন ছাড়াই হাবিবা নুর আলমকে বিভিন্ন ধরনের কথা বলতে থাকে। এ পর্যায়ে তারা আমার ছেলেকে বেধরক মারপিট শুরু করে।
এ সময় আমরা কেউ বাসায় ছিলাম না। কোদালের নীচের দিকে ধরে এর হাতল দিয়ে নুর আলম সিদ্দিক’কে আঘাত করতে গিয়ে মোঃ খতিবর রহমান নিজেই আঘাত প্রাপ্ত হয়। এ ঘটনায় নুর আলম সিদ্দিক তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।