
লেখাপড়ার পাশাপাশি ‘আমার পাথরঘাটা’ নামের একটি অনলাইন সেবা অ্যাপ তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে পাথরঘাটার নাঈম।
উপকূলীয় সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে বরগুনার পাথরঘাটার সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহ স্থানীয় সকল সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান গুলো খুব সহজেই হাতের মুঠোয় আনতে তৈরি করা হয়েছে ‘আমার পাথরঘাটা’ নামের অ্যাপটি।
অ্যাপটি গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্লে স্টোরে উন্মুক্ত করা হয়। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবে সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ ৯ মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই অ্যাপসটি কে তৈরি করেছে নাঈম। এটি উন্মুক্ত করে দেয়ায় খুশি সাধারন মানুষ।
এই অ্যাপস এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২৫ টি ফিচার। সেগুলো হলো অনলাইন সেবা, অ্যাম্বুলেন্স, আমাদের কথা, ইউপি সদস্য, উদ্যোক্তা, উপজেলা প্রশাসন, খবর, জনপ্রতিনিধি, জাতীয় হেল্প সেন্টার, ট্রাক সার্ভিস, ডাক্তার, দর্শনীয় স্থান, পল্লী বিদ্যুৎ, পুলিশ, ফটোগ্রাফার, ফায়ার সার্ভিস, বাস, বাসা ভাড়া, রক্তদাতা, রেস্টুরেন্ট, সাংবাদিক, স্থানীয় পেইজ, হাসপাতাল, হোটেল। এগুলো ছাড়াও আরো বেশ কিছু ফিচার যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে নাঈম।
নাঈম পাথরঘাটা উপজেলা সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমারা দারুস সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসা থেকে আলিম পরিক্ষা দিয়েছে। লেখাপড়ার ফাঁকে দুইটি কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে অ্যাপস তৈরি করে দেয়ার জন্য।
‘আমার পাথরঘাটা’ নামের অ্যাপটির প্রতিষ্ঠাতা নাঈম বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি যখন অ্যাপ তৈরি করা শুরু করি তখন পাথরঘাটাকে নিয়ে কিছু করার ইচ্ছে জাগে। তখনই একটি অ্যাপস তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেই যে অ্যাপসটির মধ্যে থাকবে পাথরঘাটা সকল প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানের তথ্য সমূহ। যাতে করে পাথরঘাটা উপজেলার সকল সাধারণ মানুষ খুব সহজে হাতের মুঠোয় জরুরী সেবাগুলো পেতে পারে।
স্থানীয় সরকার বিষয়ক গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, অ্যাপটি পেয়ে আমরা সকলে খুব খুশি। কারণ পাথরঘাটা রয়েছে মনোমুগ্ধকর অনেক গুলো দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশা ভ্রমণ পিপাসুরা এই অ্যাপসের মাধ্যমে পাথরঘাটার প্রয়োজনীয় সকল তথ্য জানতে পারবে। তাছাড়াও এই উপকূলীয় অঞ্চলের জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা, পুলিশি সহায়তা সহ সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে এই অ্যাপটিতে। এছাড়াও পাথরঘাটায় রয়েছে দেশের বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিএফডিসি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের সকল সেবাগুলো অনলাইনের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম এই অ্যাপ। এক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন, দুঃখ – দুর্দশা লাগাবেও এই অ্যাপটি খুবই গুরুত্ব পাবে। স্থানীয় সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে যোগসূত্র ঘটানোর মাধ্যমে হিসেবে একটি ব্যবহার হবে। পাথরঘাটার জনসাধারণের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার এমন উদ্যোগকে সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি সাদুবাদ জানাই।