
ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন পানগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৪৭০ বোতল ফেনসিডিল এবং বিদেশি মদসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
গ্রেফতার হলো,মাদক ডিলার শেখ শফিজুল ইসলাম (৪৭) ও মো. মাসুদ রানা (৪২)।
সোমবার (১০ জুন) দিবাগত রাতে গোয়েন্দা কার্যক্রমের ভিত্তিতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পানগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব-১০ এর একটি দল।
এসময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার এবং মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। জব্দ মাদকের অবৈধ বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ লাখ টাকা।
র্যাব-১০ বলছে,বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা হতে অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে তারা প্রাইভেটকারযোগে ফেনসিডিল ও বিদেশি মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে। পানগাঁও এলাকার একটি বাড়িতে সেসব মজুদ রেখে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলযোগে ঢাকাসহ সারা দেশে সরবরাহ করত।
মঙ্গলবার(১১ জুন) দুপুর ১২টায় কেরানীগঞ্জ র্যাব-১০ কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০ এর অধিনায়ক ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।
তিনি বলেন,সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১০ জানতে পারে,কিছু মাদক কারবারি বেশ কিছুদিন যাবৎ দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা হতে ফেনসিডিল ও বিদেশি মদসহ মাদকের বড় বড় চালান নিয়ে এসে তাদের সুবিধাজনক স্থানে মজুদ রেখে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেটকারযোগে সরবরাহ করে আসছে।
র্যাব-১০ আরও জানতে পারে,আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মাদকের একজন বড় ডিলার সহযোগীদের নিয়ে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা হতে সংগ্রহ করে ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ এলাকায় মজুদ করেছে।
ওই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১০ এর একটি দল গতরাতে রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন উত্তর পানগাঁও এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে শফিজুলের রাখা ভাড়া বাড়ির সামনে একটি প্রাইভেটকারের ভেতরে ৩৭০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।
সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় মাদক ডিলার শেখ শফিজুল ইসলাম ও মাসুদ রানাকে। পরে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে শফিজুলের ভাড়া বাড়ির একটি কক্ষ হতে আরও ১১০০ বোতল ফেনসিডিল ও চার বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এ সময় তাদের নিকট থেকে মাদক বহনে ব্যবহৃত ১টি প্রাইভেট কার ও ১টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা হয় মাদক বিক্রির দেড় লাখ টাকা।
গ্রেফতার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে র্যাব-১০ জানায়,গ্রেফতার শফিজুল ও মাসুদ পেশাদার মাদক কারবারি। তারা দুজন দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা হতে অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে জব্দ প্রাইভেটকারযোগে ফেনসিডিল ও বিদেশি মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করত। এরপর ফেনসিডিল ও মদ শফিজুলের বর্তমান ঠিকানা ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন উত্তর পানগাঁও এলাকার একটি বাড়িতে মজুদ করে রাখত।
পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলযোগে নারায়ণগঞ্জ,মুন্সিগঞ্জ ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। স্বল্প সময়ে অধিক অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে এই মাদক কারবারির সিন্ডিকেট গড়ে তোলে শফিজুল।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়,গ্রেফতার শফিজুলের বিরুদ্ধে যশোর জেলার কেশবপুর থানায় ও সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানায় ২টি মাদক মামলা এবং মাসুদের বিরুদ্ধে রাজধানীর ওয়ারী থানায় ১টি মাদক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
ডিআই/এসকে