
উপকূলীয় জেলা বরগুনার পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে আশা জাগাচ্ছে “সামাজিক ময়নাতদন্ত’ নামে একটি কার্যক্রম। পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর সামাজিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করা হয় এ কার্যক্রমের মাধ্যমে। যাতে ভবিষ্যতে শিশু মৃত্যুর হার প্রতিরোধ করা যায়। রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন, ইউকে এবং প্রিন্সেস শার্লিন অফ মোনাকো ফাউন্ডেশনের সহায়তায় প্রজেক্ট ভাসা’র অধীনে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন ৬৮ করেছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিচার্স বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) নামের একটি বেসরকারি সংগঠন।
এসব কার্যক্রমে কমিউনিটির প্রায় ৩ হাজার জন অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৫৬ জনই নারী, যারা মৃত্যু প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। আর পুরুষ ছিলেন ১ হাজার ১৯২ জন। এর বাইরে ছিলেন শিশুরাও। সিআইপিআরবি বেতাগী অফিস সূত্রে জানা বিবিচিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওয়ার হোসেন নয়ন বলেন, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদের শিশু রয়েছে তারা আরও যত্নশীল হবে। পানিতে ডুবে যাতে শিশুর মৃত্যু না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক হবে।”
অফিস সূত্রে জানা গেছে, সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সামাজিক ময়নাতদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের মৃত্যু কীভাবে প্রতিরোধ করা। যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। সামাজিক ময়নাতদন্তে প্রতিবেশী, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন এনজিও কর্মীসহ সুশীল সমাে প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন। একটি মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৫০-৬০ জন মাকে একত্রিত করে এক থেকে দুই ঘণ্টা এ ময়নাতদন্ত করা হয়। অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর পর্যন্ত উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নের ৩৫টি শিশু মৃত্যুর সামাজিক ম্যানাদতন্ত শেষ হয়েছে।
এর মধ্যে বিবিচিনি এলাকার লায়েছ খানের মেয়ে মাঈশা আক্তার, দেশান্তরকাঠির মো. আল আলামিনের মেয়ে আলিয়া, পৌরসভার মো. বাদলের ছেলে আলিফ ইসলাম, বেতাগী সদ ইউনিয়নের শুশীল মিস্ত্রীর ছেলে রুদ্র মিস্ত্রী,বেলাল হোসাঈনের মেয়ে আনিকা সুলতানা, জাহিদ হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ, বুড়ামজুমদারের মো. মনিরের ছেলে মো. হোসাঈন, মো. মতিউরের ছেলে মো. ইনা, কাজিরাবাদের মো. নজরুল হোসেনের ছেলে মো. ফেরদৌস, পরিতোষ সিকদারের মেয়ে স্নিগ্ধা, সড়িষামুড়ি ইউনিয়নের রেজাউল করিমের ছেলে তাওরাত ও মো. মনোয়ার মানের ছেলে মুসা করিম, সর্বশেষ মোকামিয়া ইউনিয়নের মো মারুফ খানের মেয়ে মোসা, মাইশার পানিতে ডুবে মৃত্যুর পর সামাজিক ময়নাতদন্ত উল্লেখযোগ্য।
পানিতে ডুবে মৃত শিশু মুসা করিমের মা আকলিমা বেগম বলেন, “সামাজিক ময়নাতদন্তে আলোচনার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ সময় শিশুদের দেখে-শুনে রাখার ক্ষেত্রে মনের মধ্যে এক ধরনের ভয় ঢুকছে। যা আগামীতে শিশুদের ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
সিআইপিআরবি’র আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রজত সেন বলেন, “পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর সামাজিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও এ ধরনের দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতেই সামাজিক ময়নাতদন্ত করা হয়। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মৃত্যু প্রতিরোধ করা যায়।”
ফিল্ড টিম ম্যানেজার মোতাহের হোসাঈন বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করার দৃশ্যমান পদ্ধতি হলো সামাজিক ময়নাতদন্ত। মায়েরা যাতে বিভিন্ন দুর্ঘটনার হাত থেকে সন্তানকে রক্ষার জন্য কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।