
দেশে মাদকের বিস্তৃতি আজ ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে। মাদক ধ্বংস করে দেয় ফুলের মত কত গুলো মানুষের জীবন। মাদকাসক্তদের শীর্ষে দেশের তরুণ সমাজ। সর্বনাশা মাদকের মরণ ছোবলে আক্রান্ত তরুণ ও যুবসমাজ আজ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে।
রবিবার (৯ জুন) দুপুরে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের আলমপুরে অবস্থিথ আন্তর্জাতিক মানের স্পেশালাইজড মাদকাসক্তি ও মানসিক হাসপাতাল আহ্ছানিয়া হেনা আহমেদ মনোযত্ন কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য উঠে আসে।
কেন্দ্র সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপনা করেন কেন্দ্রটির ম্যানেজার দীপক হাসদাক এবং সিনিয়র কাউন্সিলর আবু হাসান মন্ডল। এসময় প্রতিবেদনে বলা হয়,২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এই কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হয়। তবে,২০২৩ সালের ৮ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি এই কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করেন। তথ্যে আরোও বলেন,২০২১ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ১০৮ জন রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে। যাদের মধ্যে প্রায় ৮০% ছিলো তরুণের সংখ্যা।
এসময় কেন্দ্রে চিকিৎসারত দুই জন রোগী তাদের মাদকনির্ভশীল জীবন ও চিকিৎসারত জীবন সম্পর্কে অনুভূতি প্রকাশ করেন।
বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি মাদকনির্ভরশীলতা ও মানসিক সমস্যাগ্রস্থদের জন্য প্রায় সাড়ে ৩ বছর যাবৎ সাফল্যের সাথে বিজ্ঞান ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা প্রদান করছে।
চিকিৎসা কেন্দ্রটি সকল আধুনিক সুযোগসুবিধার পাশাপাশি শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত। এছাড়াও কেন্দ্রটির বিশেষ সুবিধা হচ্ছে কেন্দ্রের সাথেই অবস্থিত হেনা আহমেদ হাসপাতাল থেকে কেন্দ্রে চিকিৎসারত মাদকনির্ভরশীল ও মানসিক রোগীদের প্রাথমিক ও জরুরী স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়।
কেস স্টাডি ১
রাজধানীর স্বনামধন্য ইউনির্ভারসিটি ছাত্র স্বাধীর ( ছন্দনাম) বয়স ২৫ বছর সে ছোট বেলা থেকে প্রচন্ড কৌতুহলী তার মধ্যে অনাগত প্রশ্ন সঙ্গময় দানা বাধে তার এই আচারণর তাকে আস্তে আস্তে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পারিবাকির ধর্মীয় মূল্যেবোধের সাথে চর্চার একটা মত পার্থব্য দেখা যাংয়। তার সাথে পারিবারিক দূরত্ব জন্ম হয় সে ঘরবিমুখ হয়ে পড়ে এবং অসৎ বন্ধুদেও সাথে মেলামেশা শুরু করে ফলস্বরুপ তার প্রথমে গাঁজা ও পরে মরফিন প্রতি ভীষনভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ভর্তি হতে না পারায় হতাশা থেকে গাজায় আসক্তি বাড়তে থাকে। তবে তিনি অন্য একটি পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় অর্থনীতিতে ভর্তি হন। তার ভাল লাগার বিষয় ছিলে সঙ্গীত পছন্দের বিশ^বিদ্যালয় ও বিষয় এ পড়তে না পারায় হতাশা আরো বাড়ে এবং গাজার পাশাপাশি মরফিন এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে যা তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রার চরম ভাবে ব্যহত করে এর ফলশ্রুতিতে তার পরিবার তাকে একটি ট্রিটমেন্ট সেন্টার ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেও তার যেহেতু মটিভেশন ঠিক ভাবে হয়নি তাই পুনরায় নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন তাই তাকে আবার চিকিৎসা প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় খোজ করে আহ্ছানিয়া হেনা আহমেদ মনোযতœ কেন্দ্র, মুন্সিগঞ্জ শাখায় ভর্তি করেন প্রথম দিক এখানেও তার ভাল লাগা লাগে নি কিন্তু দিন যত যায় এখানকার পরিবেশ স্টাফদের আন্তরিকতা ও সেন্টার এর শিক্ষণ কৌশল পছন্দ হওয়ায় আস্তে আস্তে পজিটিভ মটিভেশন তৈরী হয় এবং এখন তিনি সুস্থতার থাকার পরিক্লপনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার মত প্রকাশ করেছেন।
কেস স্টাডি ২
ভীষন চঞ্চল চটপটে ও প্রানবন্ত একজন সিয়াম ( ছন্দনাম) তার প্রথম জীবনে এস এস সি পর্যন্ত কোন দ্বিধাদ্বন্দ জীবনে নেই সব ভালোই কাটছিলো হঠাৎ কলেজে উঠার পর গাঁজা সেবন কর শুরু, পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ করা কোন রকম এইচ এস সি পাশ করা এবং বিশ^বিদ্যালয় এ ভতি সেখানে নেশার মাত্রা বাড়ায় পড়ালেখার প্রতি মনোযোগ ভীষনভাবে ব্যহত হওয়া এবং সেমিষ্টার ড্রপ করা তার পর থেকে হতাশা এবং অন্ধকার জীবনে পদার্পন কোনভাবেই পথ পাচ্ছিলেন না বেরুনোর তখন আহ্ছানিয়া হেনা আহমেদ মনোযত্ম কেন্দ্র অনলাইন এ থেকে খোজ পেয়ে তার বাবার ফোন এবং ভর্তি হওয়া এখন জীবনের মানে সে বুঝতে শিখছে তার খুব ইচ্ছা বাব মাকে আর সে কষ্ট দিতে চায়না সে চায় ফিরে গিয়ে তার পড়াশুনাটা শেষ করে একটি সুন্দর স্বাবলম্বী জীবন গড়তে ,সে সবার কাছে দোয়াপ্রার্থী।
ডিআই/এসকে