
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উপজেলা নির্বাচনে খ্রিস্টান মিশন স্কুলে একটি কেন্দ্রে ফলাফলে পছন্দের প্রার্থী জয়লাভ করায় আনন্দ মিছিলকরেন ছাত্রলীগের একটি অংশ পরাজয়ে ক্ষোভে প্রতিপক্ষে মিছিলে গুলি ছুরেন জয় নামের এক ছাত্রলীগ নেতা এমত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির আয়াশ রহমান ইজাজ (২৩) নামে এক কর্মী নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) রাতে নিহতের পিতা আমিনুর রহমান বাদি হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ্য করে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি জালাল হোসেন খোকাকে এবং দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে গুলি করা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাসান আল ফারাবী জয়কে।
এর আগে, বুধবার (৫ জুন) জেলা শহরের কলেজ পাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে পিস্তল দিয়ে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাসান আল ফারাবী জয় গুলি করে হত্যা করে আয়াশ রহমান ইজাজকে।
ইজাজ ওই এলাকার আমিনুর রহমানের ছেলে। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিভাগের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ঘটনার পর পরই এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের বাবা বাদি হয়ে ১৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এতে অভিযোগ করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি জালাল হোসেন খোকা আগ্নেয়াস্ত্র ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফারাবি আল হাসান জয়ের হাতে তুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি খোকা ও ২নং আসামি ফারাবী জয়কে করা হয়েছে। ১৬ জন ছাড়াও অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন বেসরকারি ফলাফলে জয় লাভ করেন। এই খবরে কলেজপাড়ায় আনন্দ মিছিল বের করে। আনন্দ মিছিলটি সরকারি কলেজ হোস্টেল এলাকায় যাওয়ার সময় সেখানে সড়কে দাড়িয়ে ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাসান আল ফারাবী জয় ও সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি জালাল হোসেন খোকা।
এরমধ্যে হাসান আল ফারাবী জয় মিছিলে হঠাৎ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে। তার ছোড়া গুলি মিছিলে থাকা আয়াশ রহমান ইজাজের মাথায় বিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে সদর উপজেলার ঘাটুরায় অবস্থিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।