
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র মো.আতিকুল ইসলাম বলেছেন,আমাদের এই দেশটা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রক্ত দিয়ে স্বাধীন করেছেন। জীবন দিয়ে স্বাধীন করেছেন। আমাদেরকে রক্ত দিতে হবে না মরতেও হবে না, আহতও হতে হবে না। আমাদের শুধু মনের একটা ইচ্ছা লাগবে। এই ইচ্ছাটা যদি থাকে অবশ্যই এই শহর এবং এই দেশকে দখল মুক্ত করতে পারব ইনশাল্লাহ।
বুধবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর গুলশান-বাড্ডা লিংক রোড এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আতিকুল ইসলাম বলেন,এই দেশকে দখলমুক্ত এবং দূষণমুক্ত করতে হলে আমাদের মনের ইচ্ছাটা লাগবে। আমার না,আমাদের। আমরা সবাই চিন্তা করি আমার। আমার আর কত দরকার। আমার কি খালের পাড়ে বিল্ডিং করে খাল ধ্বংস করা দরকার? আমার কি মাঠ দখল করে বাড়ি বানানো দরকার? আমরা কি এটা খাইতে পারবো নাকি কবরে নিয়ে যেতে পারবো। পারবোনা। তাহলে আমরা খামোখা মানুষের বদ দোয়া করাবো কেন? আজকে যে গাছ লাগানো হচ্ছে এটার কারণে সদগায়ে জারিয়া হবে। এই গাছ ছায়া দিবে মানুষ নিচে বসে থাকবে। এটাকে সদগায় জারিয়া বলা হয়। আর আমরা,আমাদের বিল্ডিং লাগবে আমাদের এটা লাগবে,ওটা লাগবে এভাবেই আমরা গাছগুলোকে কেটে ফেলছি।
খালগুলোকে আমরা দখল করে ফেলছি। দুই ধরনের দখল আছে। একটা হল পরিবেশগতভাবে আমরা দখল করছি। আর একটা দূষণের মাধ্যমে দখল করছি। এমন কোন বর্জ্য নাই , তরল বর্জ্য থেকে কঠিন বর্জ্য সব আমরা খালে ফেলছি।
দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাতে হবে। তাদেরকে মেসেজগুলো দিতে হবে এই শহর আমাদের, এই দেশ আমাদের। আমাদের কাজ এই দেশকে রক্ষা করা। এই দেশ থেকে আমরা উপার্জন করছি। এই দেশ থেকে সবাই আমরা শুধু নিচ্ছি কিন্তু কিছু দিচ্ছি না। দিচ্ছি যেটা তা হলো খালের মধ্যে জাজিম এবং বালিশ ফেলে দিয়ে নোংরা আবর্জনা করা।
বাসা বাড়ির পয়ঃবর্জের লাইনে নোংরা ড্রেনের মধ্যে ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, জুন,জুলাই, আগস্ট এই তিন মাস পরে সেপ্টেম্বর থেকে আমরা প্রত্যেকটা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে চেক করতে চাই, আপনারাও চেক করবেন। যে কথা না শুনবে তাদের লিস্ট দিবেন। আমরা গিয়ে বাড়ির ভেতরে আবার কলা গাছ থেরাপি করে দিব। আমরা তাদেরকে তিন মাসের জন্য সময় দিচ্ছি।
গাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে এই বছরের ২ লাখ গাছ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে লাগাচ্ছি। গতবার ৯৪ হাজার ছিলাম। কিন্তু এর রক্ষণাবেক্ষণ করা অনেক কঠিন। তাই গাছগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমরা ৪৭ জন মালি নিয়োগ করতে যাচ্ছি।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে যারা আমাদের কাছ থেকে জন্ম নিবন্ধন নিতে আসে তাদের প্রত্যেককে আমরা একটি করে গাছের চারা উপহার দিচ্ছি। কারণ যে বাচ্চা জন্ম নিবন্ধন করতে আসছে যেখানেই গাছটা লাগাক যখন ১০ বছর হবে তখন গাছের বয়সও ১০ বছর হবে। সেই বাচ্চা ওই গাছ থেকেই অক্সিজেন পাবে। ছাঁদে যারা ছাঁদবাগান করবেন তাদের জন্য ট্যাক্স এর উপর ১০ শতাংশ ছাড় দেয়া হবে। গাছ লাগালে গাছের মধ্যে প্রজাপতি এসে বসবে পাখি আসবে, মৌমাছি বসবে।
গুলশান বনানী সহ অনেক জায়গায় বাসা বাড়ির পার্কিংয়ে রাজউক থেকে অনুমোদন করেছে কার পার্কিং হিসেবে, কিন্তু পার্কিংয়ের জায়গা দোকান দিয়েছেন। ফলে কার পার্কিংগুলো হয় রাস্তার মধ্যে। তাই আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলবো আপনাদের দিন কিন্তু শেষ। ঈদের পর থেকে রাজউক এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্টদের সাথে নিয়ে আমরা গুলশান থেকে অভিযান শুরু করব।
ডিআই/এসকে