
আজ রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের বহুল প্রতিক্ষিত ও আলোচিত সংমদীয় আসনের উপ নির্বাচন।জাতীয় সংসদ থেকে বিএনপি দলীয় এমপিদের পদত্যাগের কারণে ইতোপূর্বে চলতি বছরের ১লা ফেব্রুয়ারিতে উক্ত আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বর্তমানে এ আসনটি এমপির মৃত্যুর কারণে আবারো শূণ্য হয়ে যায়। ফলে এ আসনে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এছাড়া ২০০৮ সাল থেকে এ আসনে জোট-মহাজোটের বেড়াজাল, বিএনপি দলীয় এমপিদের পদত্যাগের পর দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপি এমপি উকিল আব্দুস সাত্তারের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপ-নির্বাচনে অংশ নেয়া ও আওয়ামী লীগের আনুকুল্যে পূণরায় এমপি হওয়া ইত্যাদি নানা কারণে এ আসনটি বেশ আলোচিত।
ইতিমধ্যে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্বাচনের সকল কাজ মনিটরিং করছেন দু’জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা হলেন আশুগঞ্জ উপজেলার নির্বাহি অফিসার শ্যামল চন্দ্র বসাক ও সরাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ সরওয়ার উদ্দীন।
নির্বাচনের বিষয় তারা জানান, রোববার (০৫ নভেম্বর)সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ। সরাইলের ৮৪টি আর আশুগঞ্জ উপজেলার ৪৮টি মোট ১৩২টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ শেষ হবে বিকেল ৪টায়। উপ-নির্বাচনকে অবাধ নিরপেক্ষ সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছেন এ দুই কর্মকর্তা। ৪৯টি কেন্দ্রের ব্যালটসহ সকল মালামাল যাচ্ছে নির্বাচনের আগের দিন শনিবার। আর দুর্গম এলাকার ৩৫টি কেন্দ্রের ব্যালটসহ সকল মালামাল যাবে নির্বাচনের দিন ভোরে।
অনিয়ম দুর্নীতির শঙ্কা দূর করতেই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সরাইলের নয়টি ও আশুগঞ্জের আটটি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। বিজিবি’র স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে পাঁচটি, র্যাবের চারটি। থাকবে পুলিশের বেশ কয়েকটি স্ট্রাইকিং ফোর্সও।
উপনির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা চার লক্ষ দশ হাজার উনআশি। তার মধ্যে সরাইল উপজেলায় মোট ভোটার ২৬৬৬১২ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪২৩৩৮ ও মহিলা ভোটার ১২৪২৬৬ জন। আশুগঞ্জ উপজেলায় ভোট ভোটার ১৪৩৪৬৭ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৫০৬৯ জন ও মহিলা ভোটার ৬৮০৩৯ জন।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জাকের পার্টি,জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সহ মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান আলম সাজু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মহাজোট মনোনীত এ আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধার মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
এদিকে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও প্রতিপক্ষ কর্তৃক কেন্দ্র দখল, বল প্রয়োগ, মোটরবাইক মহড়া দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, জালভোট এমন সব মেসেজের কারণে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি জিয়াউল হক মৃধা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গ-সংগঠনের অনেক নেতা নির্বাচনী মাঠে বলাবলি করছেন, সকল ভোট চলে গেলেও ফলাফল ঘোষণা আসবে নৌকার পক্ষেই। তারা এসব কথাও চাউর করছেন কেন্দ্রে বল প্রয়োগ করবেন। তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সকল সেক্টরের আশ্বাসে পুরোদমে নির্বাচন চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলছেন তিনি।
অন্যদিকে শাহজাহান আলম সাজু বলছেন, স্বাধীনতার পর এখানে নৌকা প্রতীকের এমপি নেই। তাই এবার নৌকার গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মৃধার নিজের কেন্দ্র ও ইউনিয়নে নৌকা জয়লাভ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক শাহগীর আলম বলেন, ‘আপনারা নিশ্চিত থাকুন, নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। কোনো পক্ষকে অনিয়ম করতে দেয়া হবে না।