
গরুর খামার করে স্বাবলম্বী হাওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন তরুণ এক উদ্যোক্ত। দৃঢ় মনোবল, শ্রম আর ইচ্ছা শক্তিই যে মানুষের ভাগ্যের পরির্বতন ঘটায় তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের পথে মোঃ মুর্শিদ নামের তরুণ এক যুবক। নিরলস প্রচেষ্টা ও মনোবল আজ তাকে সফলতার দ্বারে পৌঁছে দিয়েছে।
জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ির পাশ্ববর্তী রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব বোমাং খিল মাঝি কাটা এলাকার যুবক মোঃ মুর্শিদ। সংসারের অসচ্ছলতার কারণে প্রবাস জীবন জাপান করে চালিয়ে আসছিল পরিবারের জীবন জীবিকা নির্বাহ করতো। আজ থেকে ৩ বছর পূর্বে ২০২১ সালে এলাকার কিছু আপনজনের সার্বিক সহযোগিতা ও তার বন্ধুদের পরামর্শে ছোট পরিসরে গরুর খামার করার পরিকল্পনা নেয়। প্রবাস থেকে আয় রোজগার করে আনা টাকা খামারীতে প্রথম বিনিয়োগ করেন। গরুর বাছুর কিনে শুরু করে জীবন যুদ্ধের পদযাত্রা।
তিনি পরিবারে স্বচ্ছলতা পূরণের জন্য ক্ষুদ্র পরিসরে খামার করে সরকারি কোন ধরণের পৃষ্টপোষক ও প্রাণী সম্পদ বিভাগের সহযোগিতা ছাড়া আজ তা বাণিজ্যিক খামারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ছোট-বড় মিলে ৭টি গরু রয়েছে তার গড়া মুয়াজ ডেইরী ফার্মে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। তার ডেইরী ফার্মটি এখ এলাকায় বেশ পরিচিতি রয়েছে।তবে এবার কোরবানির পশুর হাট জমে উঠার আগেই পুরো এলাকা জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে মাঝির কাটার ডন,রাজা বাবু,ছোট বাহাদুর, হিরু আলম, নামটি শুনার পর পরই এলাকার সাধারণ লোকজন কেমন যেন অবাক করে থাকে।
গর্জনিয়া এবার কোরবানির পশুর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে দাড়িয়েছে মাঝির কাটার ডন ও রাজা বাবু তাদে সাথে ১টি করে ছাগল ফ্রি দেওয়ার কাথা রয়েছে। এছাড়াও লাল বাহাদুর,ছোট বাহাদুর,হিরো আলমদের সাথে দেওয়া হবেনা ছাগল। কে এই ডন ও রাজা বাবু? মুর্শিদের ডেইরি ফার্মে বেড়ে উঠা ষাঁড়ের নাম হলো রাজা বাবু,লাল বাহাদুর,ডন। নাম তাদের যেমন রাজা,ডন তেমন খাবারের তালিকাও রাজার মতোই। এবারের কোরবানি ঈদে ৫-থেকে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করা হবে একটনের কাছাকাছি ওজনের এ রাজা বাবু, গর্জনিয়ার ডন,লাল বাহাদুর নামের ষাঁড় গুলো এবার কোরবানির ঈদে কক্সবাজার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু বলে দাবি করেন খামারী মুর্শিদ।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় বড় এইসব গরু দেখতে প্রতিদিন মুর্শিদ এর মুয়াজ ডেইরি ফার্মে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। পরম যত্নে গরুর মালিক মুর্শিদ ও তার কর্মচারীরা মিলে লালন-পালন করেন ষাঁড় গুলো। শখ করে ষাঁড়ের এসব নাম রেখেছিল। ষাঁড় গুলো খুবই শান্ত সৃষ্ট প্রকৃতির, কাউকে কোনও বিরক্ত করে না। এবার কোরবানির ঈদের জন্য তাদের প্রস্তুত করা হয়েছে। কোরবানকে ঘিরে পশুর ক্রেতাসহ উৎসুক লোকজন এখন লাল রংয়ের পাকিস্তানি জাতের বিশাল আকৃতির এ রাজা বাবু, ডন ও লাল বাহাদুদের দেখতে ভিড় করছেন খামারির বাড়িতে সাধারণ মানুষ।
খামারী মুর্শিদ ও গরুর রক্ষানাবেক্ষন দায়িত্বে নিয়োজিত তাহের আহাম্মদ জানায়,গর্জনিয়ার ডন ও রাজা বাবু শুধু নামে নয়, তার খাবার-দাবারও সাধারণ পশুর চেয়ে আলাদা। তাই খড়, ভূষি ছাড়াও তাকে খাওয়ানো হয় আপেল, কমলা, মাল্টা, চিড়া, গুড়সহ নানা রকমের খাবার। খাওয়া বাবদ প্রতিদিন এ ষাড়ের পেছনে খরচ হয় এক থেকে দেড় হাজার টাকা। রাজা বাবুরা গরম সহ্য করতে পারে না। যেখানে তাদের জন্য তিনটি ফ্যান চালো রাখা হয়। কোরবানির সময় ভালো দাম পেলেই লালন-পালনের পরিশ্রম স্বার্থক হবে।
স্বাবলম্বী মোঃ মুর্শেদ জানান, প্রবাস জীবন ছেড়ে দিয়ে গরুর খামার করার পেছনে সকল প্রকার সহযোগিতা দিয়েছে তার স্ত্রী। গরুর খামার করে অভাব অনটন দূর হবে। তিনি স্ত্রী ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুখের স্বপ্ন দেখছেন। তবে এবারের কোরবানীতে খামারের শখের ষাঁড় রাজা বাবু, ডনদের উপযুক্ত মূল্যে দিয়ে বিক্রি করতে পারলে সবার পরিশ্রম স্বার্থক হবে বলেও জানান তিনি।