ঢাকা, শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
এসো আমরা ঈদের আনন্দের সাথে নিজেরা নিজেদের অবস্থান তৈরি করি-ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান সালেহী
কলাপাড়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় গ্রেফতার ৭
নওগাঁয় ধানখেতে গলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মুলহোতা গ্রেপ্তার
নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ি কন্যা পর্যটন লেকে ঈদে ১৬ বছরের রেকর্ড পর্যটকের ঢল
বাঁশখালীতে টানা ৪১ দিন জামাতে নামাজ আদায় করা ১৭ শিশু-কিশোর সাইকেল উপহার
আত্রাইয়ে ঈদের চতুর্থ দিনেও সাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশনজুড়ে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন আ’লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক গ্রেফতার
কলমাকান্দায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার পলাতক অলি আহমেদ
নেত্রকোণা সরকারী কলেজের ঈদ পুনর্মিলনী
ভারতীয় মিডিয়া গুজবে চ্যাম্পিয়ন:স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জিয়ার শ্রদ্ধা স্মারক সরিয়ে ফেলার অপকর্মে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনুন:জাসাস
কালিগঞ্জে প্রত্যয় গ্রুপের ১৩ তম বর্ষপূর্তি ও ঈদ পুনমিলনী 
পরকীয়া জেরে যুবকের আত্মহত্যা
আমতলীতে তরমুজ পরিবহনে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত- ৬
আমতলীতে বাস ও মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত দুই

শেষ সম্বলের ঠাঁই খুঁজতে ইউএনও বরাবর আবেদনের কপি নিয়ে ভিক্ষা করছেন ‘আলিমুন নেছা’

মাধবপুরে গৃহহীন ও সহায় সম্বলহীন এক বিধবা মহিলা শেষ সম্বলের ঠাই খোঁজতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একখানা আবেদনের কপি নিয়ে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করছেন। কোন কিছু জানতে চাইলে উত্তর দেন – কিছুটা কপাল আর কিছুটা কর্ম দোষে আজ রাস্তার ভিক্ষুক। ”

অনেকদিন আগে ব্যবসা করে খাইতাম। “ভাইরে! পুজি থাকলে ভিক্ষা করতাম না।মেয়েটাকে সাথে নিয়ে বাজারে একটা চায়ের দোকান দিতাম। এ কথাগুলো বলছিলেন হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার চৌমুনি ইউপির হরিণখোলা গ্রামের আলিমুন নেছা নামে ৫০ বছর বয়স্ক এক বিধবা।

২ যুগ আগে মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বিভিন্ন ধরনের ফল ফলাদি যেমন: আম,জাম,কাঁঠাল ও জলপাই ইত্যাদি পাইকারি ধরে কিনে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতেন। এভাবেই চলতো তার সংসার। অনেকের প্রিয় মুখ ছিলেন ওই মহিলাটি। হঠাৎ কোন এক গৃহস্থের উচু জাম গাছ থেকে জাম পাড়তে গিয়ে মাটিতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে হাত পা ভেঙ্গে যায়। বরণ করেন পুঙ্গত্ব । কয়েক বছর বিছানায় শুয়ে কাটাতে হয়।

এক মেয়ে ও ৩ জন এতিম নাতি-নাতনি নিয়ে ওই বিধবার জীবন বাতি যেন নিভেই গেল। বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিতে হয় তার।
বর্তমানে তার একটি অসুস্থ বিধবা কন্যা ও স্কুল পড়ুয়া ৩ জন নাতি নাতনি রয়েছে। যাদের ভরন-পোষণের দায়-দায়িত্ব তার উপরেই।

সম্প্রতি তার এক নাতনি জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, ডাক্তার বলেছেন অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু অপারেশন করানোর আর্থিক সক্ষমতা তার নেই। আর্থিক সাহায্যের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানের সুপারিশ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন। এই আবেদনের কপি দেখিয়ে বর্তমানে তাকে বাজার বাজারে ভিক্ষা করতে দেখা যায়।

তিনি জানান,বাড়ি থেকে মাধবপুর উপজেলা শহরে এসে ভিক্ষা করতে গাড়ি ভাড়া বাবদ ১০০ টাকার বেশি লেগে যায়। তার প্রতিদিন ৪oo থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়। বাজারে জিনিসপত্রের দামের উর্ধ্বগতির কারণে তার মেয়ে নাতি নাতনী সহ চলা খুব কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।

কিছুদিন আগে মাধবপুর সমাজসেবা অফিস থেকে ভিক্ষুক পুনর্বাসনের জন্য নাম নিয়ে থাকলেও এর কোন কার্যকারিতা নেই বলে জানান ওই ভিক্ষুক মহিলা।

হবিগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সিরাজুম মনির আফতাবী বলেন, ওই নারীর জীবনের ঘটনাগুলা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী।সে সমাজসেবার বিধবা ভাতার আওতাভুক্ত। আমরা অতি দ্রুত উপজেলার সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে ভিক্ষুক পুনর্ভাসন প্রকল্পের মাধ্যমে তাকে সহযোগিতা করবো। সে যেন অতি দ্রুত আমাদের সাথে যোগাযোগ করে।

শেয়ার করুনঃ