
গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত এখন দৃশ্যমান। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে কর্মপরিকল্পনা বিহীন ভাবে এগুচ্ছে দলটি। শহিদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৩ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুটি গ্রুপ দুই দিনে আলাদা আলাদা ভাবে কর্মসূচি ঘোষনা করেছে। এতে দলের ভিতরে চরম অসন্তোষ বিরাজ করেছে। কালীগঞ্জের বিএনপি`র সাংগঠনিক কর্মকান্ড নিয়ে কয়েকজন জেষ্ঠ্য নেতা অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বিগত বছরে গঠিত হলো বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের পৌরসভা ও ৭ টি ইউনিয়নের ওয়ার্ড থেকে শুরু করে পৌর ও থানার নতুন কমিটি। উপজেলায় যুব দলের আহবায়ক কমিটি থাকলেও অদৃশ্য কারনে কোন ইউনিয়নেই যুব দলের চুড়ান্ত কমিটি দিতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক বিএনপি’র থানা সদরের উপদেষ্টামন্ডলীর প্রভাবশালী সদস্য একান্ত সাক্ষাতকারে প্রতিবেদককে বলেন, এক যুগের অধিক সময় ধরে আন্দোলনের মাঠে বাড়ির বারান্দা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। তাছাড়া কালীগঞ্জ উপজেলা সদরে বিএনপি`র তেমন কোন কর্মসূচী নজরে পরেনি বহু বছর ধরে। তিনি ক্ষোপ প্রকাশ করে আরোও বলেন, আমরা নামে মাত্র উপদেষ্টা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, নতুন, ত্যাগী, কর্মীবান্ধব নেতা থাকতে কেন একেবারেই অক্ষম, অযোগ্য লোকদেরই ক্ষমতার মসনদে বসাতে হবে? দলের উপদেষ্টাদের সাথে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ কোনরুপ আলোচনা না করেই নিজেদের মনগড়া ভাবে দলের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
তৃণমূল কর্মীরা মনে করেন নেতা নির্বাচনে কাউন্সিলিং পদ্ধতি আসলে এক প্রকার বাউতাবাজি। নেতৃবৃন্দের ধারনা গাজীপুর জেলা যুব দলের কমিটির মত উপজেলাতেও নিজের মনগড়া ও পছন্দের লোকদের উচ্চ পদে আসিন করলেই কি শেষ রক্ষা হবে?অভিযোগ রয়েছে গাজীপুর জেলা বিএনপি’র সভাপতি একেএম ফজলুল হক মিলনে’র সহধর্মীনী শম্পা হককে দলের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই কালীগঞ্জ থানা বিএনপি’র সিনিয়র সহঃসভাপতি করা হয়েছে । সম্প্রতি শম্পা হককে থানার মহিলা দলের ১নং সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে। আর এ কারনেই দলে গ্রুপিং এর জন্ম হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সবচেয় বেশী নিষ্ক্রিয়তার পরিচয় মেলে কালীগঞ্জ পৌর ও থানা বিএনপি`র সকল কমিটির কর্মকান্ডে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, অনেক যোগ্য, মেধাবী ও প্রবীণ নেতাদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে শাহিনা খানম, মাহবুবুল আলম,আশরাফী হাবিবুল্লাহ, খায়রুল আলম মিন্টু, ছোলেমান আলম, মনিরুজ্জামান লাভলু, মাসুদ রানাসহ অনেক যোগ্য ও বর্ষীয়ান নেতাদের দলের শীর্ষ পদে স্থান দেয়া হয়নি।
উল্লেখ্য যে, থানা বিএনপি’র কোন সাধারন সম্পাদককে অর্দৃশ্য কারনে কখনই সভাপতি পদে আসতে দেয়া হয়নি। এক কথায় যে সকল নেতৃবৃন্দের তৃণমূলে গ্রহন যোগ্যতা রয়েছে তাদেরকেই অদৃশ্য ক্ষমতার বলে দলে শীর্ষ পদের বাইরে রাখা হয়েছে। তারা আরোও বলেন,যারা কখনো ছাত্র দল করে নাই তাকে ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক, যুব দল করে নাই তাকে যুব বিষয়ক সম্পাদক ও সেচ্ছাসেবক দল করেনি তাকে সেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। এক কথায় বিগত আ’লীগ সরকারের আমলে যে সকল নেতৃবৃন্দ হামলা, মামলার স্বীকার হয়েছে তাদেরকে দলের শীর্ষ পদে স্থান দেয়া হয়নি। ইতোমধ্যে চাউড় উঠেছে পকেট কমিটি করতে আর্থিক লেনদেনের কথা।সংশ্লিষ্ট সূত্র আরোও জানায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে দলের জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন কিংবা ওয়ার্ড কমিটিতে সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদে থাকতে পারবে না। এক্ষেত্রে কালীগঞ্জ থানার বিএপি’র সাধারন সম্পাদক খালেকুজ্জান বাবলুর ছোট ভাই শফিকুজ্জামান সোহেল একই সঙ্গে কালীগঞ্জ থানার যুব দলের যুগ্ম আহবায়ক এবং গাজীপুর জেলা যুব দলের যুগ্ম আহবায়ক পদে আসীন রয়েছেন।