ঢাকা, রবিবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
পাঁচবিবিতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
টিআরসি নিয়োগে দালালমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশ্বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের
উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের দূর্ভোগ
চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমির স্নান সম্পন্ন
বিএনপি নেতার ওপর বোমা হামলার প্রতিবাদে কয়রায় বিক্ষোভ মিছিল
লঞ্চে মুমূর্ষ নবজাতককে মেডিকেল সহায়তা প্রদান করল কোস্ট গার্ড
আমতলীতে লঞ্চ ঘাট ও বাসস্ট্যান্ডে যৌথবাহিনীর অভিযান, জরিমানা আদায়
কালীগঞ্জে আমিনুর রহমান আমিনের গণসংযোগ শুভেচ্ছা বিনিময়
আমতলীতে হামলা, লুট ও পিটিয়ে দোকান দখলের অভিযোগ
দেওয়ানগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ বাবা মৃত্যু
নড়াইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের ঈদ পুনর্মিলনী
জামায়াতে ইসলামীতে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসের কোনো সুযোগ নেই:রফিকুল ইসলাম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করতে হবে
ভূরুঙ্গামারীতে মুভমেন্ট ফর পাঙ্কচুয়ালিটি’র সম্মেলনের উদ্বোধন
বিরামপুরে আগ্নিকান্ডে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই

ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে দিনেদুপুরে ডাকাতি গ্রেফতার ৩

সাপ্তাহিক ছুটিদের দিনে দিনদুপুরে ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে ডাকাতি করে আসছিল একটি চক্র। ব্যবসায়ীর নগদ টাকা বহন করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার পথে ধাক্কা দিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তো। এসময় আশেপাশে ওত পেতে থাকা চক্রটির আরও সদস্য ধাক্কা দেয়ার অভিযোগ তুলে প্রচন্ড মারধর করে টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নিতো।

এ চক্রের তিনজনকে গ্রেফতারের পর এমনই তথ্য দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লাল বিভাগ।

গ্রেফতাররা হলো-মূল পরিকল্পনাকারী খোকন দাস ওরুফে বাইল্যা খোকন,মূল অপারেশনাল সংগঠক রেজাউল করিম এবং দলের আরেকজন কামাল হোসেন। সম্প্রতি চট্টগ্রাম এবং খুলনায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে বুধবার ( ২৯ মে) ডিবি) লালবাগ বিভাগের উপ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন,মা বুলিয়ান এন্ড সিলভার জুয়েলার্স এর ম্যানেজারের নির্দেশে কর্মচারী মহিউদ্দিন গত ২৬ এপ্রিল কদমতলী খেজুরের গলিতে অবস্থিত মসলা এন্টারপ্রাইজের কাছাকাছি আরত থেকে ৭০ লক্ষ টাকা একটা নীল রংয়ের স্কুলে বেগে ঢুকিয়ে তাঁতি বাজারের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে রওনা দেয়। বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ইসলামপুরের নবনারায়ণ লেনের প্রবেশ মুখে পৌঁছামাত্র একজন দুষ্কৃতিকারী তাকে ধাক্কা দিয়ে উল্টো অভিযোগ করে ধাক্কা দিলো কেন।

এসময় টাকা বহনকারী মহিউদ্দিন “সরি” বলে ক্ষমা চেয়ে চলে যেতে চাইলে আশেপাশে ওত পেতে থাকা আরো ৭/৮ জন দুষ্কৃতিকারী তাকে ধাক্কা দেয়ার অভিযোগ তুলে প্রচন্ড কিল,ঘুষি মারতে থাকে। একটা পর্যায়ে তার চোখে আঙ্গুল দিয়ে গুল লাগিয়ে দেয় এবং ঢাকা ভর্তি ব্যাগটি টেনেহেঁচড়ে ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ২৭ এপ্রিল জুয়েলার্সের মালিক আকিদুল ইসলামের অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার সূত্র ধরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে।এক পর্যায়ে থানা পুলিশ এবং ডিবি পুলিশের তদন্তে এই ডাকাতি মামলার প্লানার ও এক্সিকিউটরদের নাম,পরিচয় সনাক্ত হয়।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন,পুরাতন ঢাকার ফলের ব্যবসায়ী,স্বর্ণের ব্যবসায়ী,কাপড়ের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন এই লাখ লাখ টাকার লেনদেন করে থাকেন খুবই ক্যাজুয়ালি এবং ইনফরমালি। এই লেনদেনে থাকে আস্থা বিশ্বাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ মোটা অংকের টাকা পরিবহনের ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার নির্দেশনা থাকলেও কাছাকাছি জায়গায় টাকা স্থানান্তর করা হয় বলে উনারা অনেকাংশেই পুলিশকে অবগত করেন না বা সহযোগিতার নেন না।

তিনি বলেন,পুরাতন ঢাকার এই এলাকাগুলোতে প্রতিদিন শত কোটি টাকার বৈধ লেনদেনের পাশাপাশি অনেকেই হুন্ডির টাকা লেনদেন করে থাকেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ডাকাত/ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা উৎপেতে থাকে এই হুন্ডির ব্যবসায়ীদের টাকা ডাকাতি করার জন্য। হুন্ডিত টাকা লেনদেন করা আইন স্বীকৃত না। সে কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অধিকাংশ সময় বিষয়টি পুলিশ বা আদালতকে অবগত করে না। হুন্ডি ব্যবসায়ীদের এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ডাকাত বা ছিনতাইকারীরা অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। ডাকাতদের এই অপতৎপরতায় কখনো কখনো বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হন।

ডাকাতদের পরিচয়:

এই ডাকাতির ঘটনায় মূল মাস্টারমাইন্ড বাইল্যা খোকন। বহুগামী এই খোকন পুরাতন ঢাকায় বসবাস করে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় থেকে কোন ব্যবসায়ী কিভাবে টাকা লেনদেন করে এই সম্পর্কে ভালো করে জানে। অপারেশনাল কমান্ডার রেজাউল করিম একসময় পুরাতন ঢাকাতেই ব্যবসা করতো। খুলনা,বরিশাল,চাঁদপুর,মিরপুর ও ময়মনসিংহ থেকে সমমনা ডাকাতদেরকে ঢাকায় এনে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে নিরস্ত্র কায়দায় কিল ঘুষিতে রক্তাক্ত করে চোখে গুল লাগিয়ে ডাকাতি করে।

ডাকাতির কাজে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করার জন্য তারা কম দামের বাটন ফোনে নিবন্ধনহীন সিম লাগিয়ে যোগাযোগ করে ঘটনার পরে মোবাইল এবং সিম ভেঙে চড়ে নদীতে ফেলে দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পালিয়ে ছিল।

গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে ডাকাতি এবং ছিনতাই বিষয়ক একাধিক মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। এর আগে এ ডাকাত দলের পুলিশ বাবু এবং শাহ আলমকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

এক প্রশ্নের জবাবে মশিউর রহমান বলেন,তারা ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবারকে টার্গেট করে ডাকাতি করে। সাধারণত যেসময় লোকজনের আনাগুনা কম থাকে সেসময় দিনেদুপুরে ডাকাতি করে। এখানে মূলহোতা হিসেবে কাজ করে বাইল্লা খোকন। আরেকটি গ্রুপ বিভিন্ন জায়গা থেকে এসব ডাকাতদেরকে ভাড়া করে নিয়ে আসে। তাদের একটি গ্রুপে ৫ থেকে ৬ জনের সদস্য রয়েছে। আমরা এ পর্যন্ত এ চক্রের ১৫ জনের বেশী সদস্যের খোঁজ পেয়েছি। আমরা বাইল্লা খোকনের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা উদ্ধার করতে পেরেছি। বাকিদের কাছে ২ লাখ ৩ লাখ টাকার খোঁজ পাওয়া গেছে। তারা সবাই বহুগামী একাধিক বিবাহ করেছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আমাদের দেশে যারা ছিনতাই,ডাকাতি ও চুরি করে তারা একাধিকবার করে, যারা মাদক ব্যবসা করে তারাও একাধিকবার করে। তারা হাজতবাস করে একটা সময় বের হয়ে আসে। তারা কিন্তু সংশোধন হয় না। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণে তাদের পুর্নবাসন হয় না। তাদের জন্য কোন শিক্ষা ব্যবস্থা কিংবা মনজগতের পরিবর্তন হয় না। এ ঘটনায় বাইল্লা খোকনই তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে এবং মূল টাকাটাও পেয়েছে। তারা নানাভাবে ব্যবসায়ীদের অনুসরণ করে। তাই ব্যবসায়ীদের উচিত এককভাবে এতোগুলো টাকা বহন করা থেকে থাকা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ থেকে বারাবার জানানো হয়েছে মোটা অংকের টাকা বহন করার সময় পাশ্ববর্তী থানা পুলিশকে অবগত করতে। কিন্ত অনেকে এর দ্বারস্থ হন না। থানাকে অবগত করে কাজটি করলে কিন্তু বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয় না।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ