ঢাকা, রবিবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
পাঁচবিবিতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
টিআরসি নিয়োগে দালালমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশ্বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের
উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের দূর্ভোগ
চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমির স্নান সম্পন্ন
বিএনপি নেতার ওপর বোমা হামলার প্রতিবাদে কয়রায় বিক্ষোভ মিছিল
লঞ্চে মুমূর্ষ নবজাতককে মেডিকেল সহায়তা প্রদান করল কোস্ট গার্ড
আমতলীতে লঞ্চ ঘাট ও বাসস্ট্যান্ডে যৌথবাহিনীর অভিযান, জরিমানা আদায়
কালীগঞ্জে আমিনুর রহমান আমিনের গণসংযোগ শুভেচ্ছা বিনিময়
আমতলীতে হামলা, লুট ও পিটিয়ে দোকান দখলের অভিযোগ
দেওয়ানগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ বাবা মৃত্যু
নড়াইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের ঈদ পুনর্মিলনী
জামায়াতে ইসলামীতে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসের কোনো সুযোগ নেই:রফিকুল ইসলাম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করতে হবে
ভূরুঙ্গামারীতে মুভমেন্ট ফর পাঙ্কচুয়ালিটি’র সম্মেলনের উদ্বোধন
বিরামপুরে আগ্নিকান্ডে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই

এবারের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা উপজেলার জনগণ হতাশ

হতাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবার মানুষ। উপজেলা নির্বাচনে দিনভর ফাঁকা ভোটকেন্দ্র। রাতে ফলাফলে ভোটের বাম্পার। কোত্থেকে এলো এত ভোট, সেটাই হয়ে উঠেছে সর্বত্র আলোচনার বিষয়। ৮৩ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮ কেন্দ্রের ভোট কাটার অভিযোগ উঠেছে। মোট ২ লাখ ৮১ হাজার ৩৬৬ ভোটের মধ্যে কাষ্ট দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ২০২ ভোট। এরমধ্যে ৩ হাজার ৯৩৩ ভোট বাতিল হওয়ায় বৈধ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ২৬৯টি। নির্বাচনে জয়ী ঘোষণা করা হয় স্থানীয় সংসদ সদস্য, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের আপন ফুফাতো ভাই ছাইদুর রহমান স্বপনকে। তার প্রাপ্ত ভোট ৮৫ হাজার ৯৩০। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৭ ভোট।

তিনি মন্ত্রীর সাবেক এপিএস। ভোট কাষ্টের শতকরা হার দেখানো হয়েছে ৪৬.২৭ পার্সেন্ট। ওদিকে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে পরাজিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোটে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন।

তারা বলেন, এখন পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচনে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেনি। মাননীয় আইনমন্ত্রীর এলাকায় এ ধরনের কলঙ্ক অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও আইনমন্ত্রীর কাছে নির্বাচন বাতিল করে সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার দাবি করেন। ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির হোসেন অভিযোগ করেন, ৩৮টি কেন্দ্র দখল করে একতরফা ভোট কাটা হয়েছে। আমাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।
প্রশাসনকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ভোট কাটার মহোৎসব হয়েছে। আমাদের প্রিয় নেতা আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক মসজিদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন কসবায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। কিন্তু মন্ত্রী মহোদয়ের কথাকে উপেক্ষা করে কসবা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আজহারুল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র এমজি হাক্কানী, জেলা পরিষদ সদস্য এমএ আজিজ, মন্ত্রীর পিএ সোহাগ ও বাবু, পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মানিক, কুটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী স্বপন, শিমরাইলের সাবেক চেয়ারম্যান আলম মিয়া, কাইয়ুমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রনি, ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট কাটা হয়েছে। তাদের সঙ্গে প্রশাসনও ভোট কাটার জন্য পাগল হয়ে পড়ে। কসবার মানুষ আগামী ১০০ বছর এই নির্বাচনের কথা মনে রাখবে। কসবার সর্বস্তরের মানুষ জানেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী একটি কেন্দ্রেও পাস করতো না। যে ৩৫টি কেন্দ্রে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে তার সবক’টিতে আমি পাস করেছি। শাহপুর কেন্দ্রে আমি পেয়েছি ১১৩ ভোট। আমার প্রতিপক্ষ পেয়েছে ৪৫শ’ ভোট। এটা কি আপনাদের বিশ্বাস হয়। আকছিনা কেন্দ্রে আমি পেয়েছি ২২ ভোট। ওই প্রার্থী পেয়েছে ২৬শ’ ভোট। আমি এই কেন্দ্রে বিপুল ভোটে পাস করতাম।

যে নির্বাচন হয়েছে সেটা আমরা মানি না। মাননীয় আইনমন্ত্রীর এলাকায় এ ধরনের কলঙ্ক অত্যন্ত দুঃখজনক। মন্ত্রী মহোদয়কে আমরা ভালোবাসি, বিশ্বাস করি। কসবার মানুষ বিশ্বাস করে। কিন্তু তার কথার প্রতিফলন কাদের কারণে হয়নি সেটি তাকে তদন্ত করে দেখার অনুরোধ করি। প্রধানমন্ত্রী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও আইনমন্ত্রীর কাছে নির্বাচন বাতিল করে সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার দাবি করছি। রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন জানান, ৩৮টি কেন্দ্রের ফলাফল অস্বাভাবিক। ৬০ থেকে ৭০ পার্সেন্ট ভোট কাস্ট হয়েছে। অন্যগুলোতে ২০/২৫ পার্সেন্ট কাস্ট হয়েছে। শাহপুর কেন্দ্রে ৪৪শ’ ভোট কাস্ট করেছে। আমাকে ভোট দিয়েছে ৩৩টি। অথচ দুপুর ২টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ভোট কাস্ট ছিল ৫ পার্সেন্ট। এখানে ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে ৭০ পার্সেন্ট। সোনারগাঁ কেন্দ্রে ২৩শ’ কাস্ট দেখানো হয়েছে। ৩৮টা কেন্দ্রের ভোট কাটা হয়েছে।

যে ৩৫টির ভোট কাটতে পারেনি সেখানে আমি পাস করেছি। কুটির দুটি কেন্দ্রে ভোট কাটতে পারেনি, সেখানে আমি পাস করেছি। এখন পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচনে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেনি। সকাল ৮টায় ভোটের শুরুতেই শিমরাইল কেন্দ্রে ভোট কাটা হয়। বেশির ভাগ কেন্দ্রে ১২টার পর ভোট কাটা শুরু হয়। ডিসি, এসপি, ইউএনও ও ওসিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কেন্দ্রের পরিস্থিতি জানালে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছি, নেয়া হচ্ছে বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। নির্বাচনে তার এক হাজার লোক আহত হয়েছে বলেও জানান। এরমধ্যে এমদাদুল হক পলাশ নামের আমার একজন কর্মী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আমি ও আমার নেতাকর্মীরা নিরাপত্তাহীন। বায়েক এলাকার ফাহিম নামের এক কর্মীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কসবা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. এমরান উদ্দিন জুয়েল, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আফজাল হোসেন রিমন প্রমুখ।

তবে নির্বাচন ভালো হয়েছে বলে দাবি করেন কসবা ও আখাউড়া উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। কসবার নির্বাচনে কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ২০ জন জাল ভোটারকে সাজা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুনঃ