
চট্টগ্রাম নগরীর অভিজাত এলাকা জি ই সি’র মোড়ে গ্লোবাল নলেজ নামীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শাহীন টিটু এর বিরুদ্ধে মানব ও অর্থ পাচারের মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি একদল ভুক্তভোগী জি,ই,সি মোড়ে গ্লোবাল নলেজ এর অফিসের সামনে আন্দোলন করলে শাহীন টিটু আত্বগোপনে থেকে থানা পুলিশকে ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।অনুসন্ধানে জানাযায়, শাহীন টিটু চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার,রোশাঙ্গীরি গ্রামের, আলহাজ্ব হাচি মিয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে শাহীন টিটু গ্লোবাল নলেজ নামীয় প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক পেইজ খোলে ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্রে আকর্ষনীয় বেতনে শ্রমিক নিয়োগ ও নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ভর্তির চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গ্লোবাল নলেজ এর খপ্পরে পড়ে কতো লোক যে সর্বস্ব হারিয়ে পথের ফকির হয়েছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। এমনই জানিয়েছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফটিকছড়ির এক ভুক্তভোগী। সুত্র জানায়, শাহীন টিটু শত শত কোটি টাকা ইউরোপের পোলাণ্ড দেশে পাচার করেছে এবং করছে। জানা গেছে, পোলাণ্ডে শাহীন টিটু’র’ ইমরান নামের এক ভাই বসবাস করেন। সে সুবাদে মানব ও অর্থ পাচার সহজেই করে যাচ্ছে শাহীন টিটু। তিনি অধিকাংশ টাকা হুণ্ডিতে পাচার করে এবং করছে এমনটি জানাগেছে একটি বিশ্বস্ত সুত্রে। তিনি (টিটু) খুবই চতুর ও বিচক্ষণ। এক জায়গায় বেশীদিন অফিস রাখে না। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অভিজাত এলাকা কখনো চকবাজার, কখনো মুরাদপুর আবার কখনো জি,ই,সি’র’ মোড়। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তিনি টার্গেট নিয়ে নানা পেইজে ইউরোপে শ্রমিক নিয়োগ ও ছাত্র ভর্তির বিজ্ঞাপন প্রচার করে চাহিদা মতো অর্থ পেলেই অফিস বন্ধ করে চলে যায় আত্মগোপনে। ভুক্তভোগীরা কিছুদিন খোঁজ নিলেও পরে নীরব হয়ে যায়। সুযোগ বুঝে আবারও নতুন ফাঁদ পাতে শাহীন টিটু। তৃতীয় বারের মতো এবারও জি,ই,সি’র অফিসে যাওয়া বন্ধ রয়েছে তার। নানা ভাবে অবৈধ পন্থায় ইউরোপের পোলাণ্ড,সার্বিয়া,লিথুয়ানিয়া, চেক প্রজাতন্ত্রসহ নানা রাষ্ট্রে শ্রমিক পাঠানোর নামে কতো জনের সর্বনাশ করেছে তার কোন হিসাব নেই। স্বপ্নের ইউরোপে যেতে সাগরে প্রাণ দিয়েছে এমন ঘটনাও রয়েছে। নানা সময় মানব পাচারকারী চক্রের কিছু সদস্য প্রশাসনের জালে আটক হলেও সুচতুর শাহীন টিটু রয়ে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এই বিষয়ে জানতে ফোন করা হয় শাহীন টিটুকে। তিনি ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার গাড়ি ড্রাইভে আছেন পর ১০ মিনিট পরে ফোনে কথা বলবে বলে কল কেটে দেন। এর পর তাকে একাধিক বার ফোন করে না পাওয়াতে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা দিয়েও কোন মতামত জানা যায়নি। কথা বলার চেষ্টা করি শাহীন টিটুর ভাই পোলান্ড প্রবাসী ইমরানের সাথে। তাঁর সংগৃহিত ২টি হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার যথাক্রমে + 487******52 ও 018**-****60 এ কল করলে ১ম কল রিসিভ করেন এক ভদ্র মহিলা তিনি নাম্বারটি ইমরান বা গ্লোবাল নলেজ এর কারো নয় বলে জানালে কল করা হয় ২য় নাম্বারে। কল রিসিভ করলে তিনি ইমরান বলে নিশ্চিত করলেও শাহীন টিটুর মানব ও অর্থ পাচারের কথা শুনে ইমরান শাহীন টিটুর ভাই এই পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানান। শাহীন টিটুর অর্থ ও মানব পাচারে তাঁর ( ইমরান) এর সম্পৃক্ততার কথা জানতে চাইলে তিনি কোন প্রকার প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি নয় বলে জানান। গ্লোবাল নলেজ এর স্বত্বাধিকারী শাহীন টিটুর অপকর্মের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণের দাবী ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের।
বি:দ্র:-এই বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত আছে চলমান…