
আধুনিক এই বিশ্বে অপরাধের ধরণ যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে নিত্য নতুন কৌশলও। সেই সাথে বাড়ছে প্রযুক্তি নির্ভর অপরাধ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার করে একের পর এক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে অনেকেই।
ভূক্তভোগ কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ঘটনার সব চাঞ্চল্যকর তথ্য।
প্রতারণার কৌশল সমূহঃ
প্রতারণার কৌশল হিসেবে প্রতারক চক্রটি প্রথমে বিদেশী নামী-দামী ব্যবসায়ী পরিচয়ে ফেসবুক আইতে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠায়। এক পর্যায়ে বন্ধুত্ব পরিবর্তিতে ফেজবুকে চ্যাটিং এবং ওই সুযোগে মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারটি কৌশলে নিয়ে নেয় প্রতারক চক্র।
হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে দুই একবার চ্যাটিং করার সাথেই ভুক্তভোগীদের নিকট প্রকারক চক্রের ইন্ডিয়া হতে একটি ভিডিও কল আসে এবং বাংলাদেশের লোকেরা ওই ভিডিও কল রিসিভ করার সাথে সাথেই কিছু একজন মহিলার আপত্তিকর অশালীন ভিডিও দেখতে পান।
এ প্রান্তের মানুষরা কিছুটা হতভম্ব হয় কিছুটা শিউরিত হয়। তারা অনেকেই এটা বন্ধ করে দেন আবার অনেকেই বন্ধ করতে গিয়ে দুই-চার সেকেন্ড বা এক মিনিট লাগিয়ে ফেলেন। ইন্ডিয়া প্রান্তের প্রতারক চক্ররা সেই সুযোগে স্কিন ছবি এবং স্কিন রেকর্ড করে ভিডিও করে রাখেন।
এই টাকা গুলো লেনদেন করে বাংলাদেশের বেশকিছু নগদ ও বিকাশ একাউন্ড হোল্ডার এবং এজেন্টদের কাছে।ভোক্তভোগীরা ইন্ডিয়ার চেন্নাই,মাদ্রাজ ও দিল্লিতে চিকিৎসা গ্রহণ করতে আবার কেউ মাজার যিয়ারত করতে গিয়ে আজমীর শরীফে এসব প্রতারক চক্রের সহিত পরিচিত হয়।
পরিচিতির এক পর্যায়ে ইন্ডিয়ার প্রতারক চক্রটি এ প্রান্তের প্রতারক চক্রটিকে নাকি বলেছে যে,আমার কিছু টাকা-পয়সা লেনদেন আছে সেই লেনদেনের টাকা তোমার একাউন্টে জমা হবে। আমি যেভাবে বলব সেভাবে আমার নিকট টাকা পাঠাবে।
প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশী একাউন্ট হোল্ডারটা বিষয়টি বুঝতে না পারলেও যখন বিভিন্ন বার টাকা লেনদেন হয়েছে তখন তারাও বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। উক্ত প্রতারকগণও প্রতারনার কমিশণ পেত। গ্রেপ্তারকৃতরা উক্ত লেনদেনের সহিত জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে এবং টাকা লেনদেনের বিস্তর প্রমাণ পাওয়া যায়।
তারা ঐপ্রান্তে কিভাবে কথা বলে এবং কিভাবে কাজটা শেয়ার করে সেটিও আইন-শৃ্ঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করে। এই প্রান্তের মানুষ গুলো বেসিকলি মহিলা সহকর্মী হিসেবে তাদের ফেজবুকে একটি মানান সই ছবি দিয়ে তারা এই প্রতারণা করে। মূলত এরা কেউই মহিলা না। কেউই প্রফেশনাল না। সবাই হলো ইন্ডিয়ার প্রতারক। এদের কাজই হলো বিভিন্ন প্রতারণাসহ এসকল কাজ করা।
এরপর অফিসের উদ্ধতন সহকর্মী এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে অশ্লীল ভিডিওর ছবি পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। এক পর্যায়ে এসকল ছবি এবং ভিডিও গুলো বাংলাদেশের এই সমস্ত ভুক্তভোগীদের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে পাঠিয়ে দিয়ে বলে তোমার বন্ধু ওমুক,তোমার বান্ধবী ওমুক,তোমার স্ত্রী ওমুক তোমার সহকর্মীদের নিকট এই ছবি এবং ভিডিও পাঠিয়ে দিবে।
তুমি দশ লক্ষ টাকা দাও,পাঁচ লক্ষ টাকা দাও নয়ত সব ভাইরাল করে দিবো। প্রতারক চক্রের এমন অত্যাচার সইতে না পেরে প্রাথমিক ভাবে অনেকে নাম্বারটি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু প্রতারক চক্রের হুমকি-ধমকি চলতেই থাকে।
অবশেষে ভুক্তভোগী দিশাহীন হয়ে কেউ ঘুমের বড়ি খায় আবার কেউ আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেয়। প্রতারক চক্রটি তাদের ফেজবুকে সুন্দরী মেয়েদের ছবি দিয়ে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠিয়ে চ্যাটিং এর মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করে থাকে।
লেখক:ডিবি-সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার মো.শহিদুল ইসলাম।