
ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার সেজে প্রতারণা করে কলেজ ছাত্রীকে বিবাহ করেন মো.আবুল কালাম শেখ। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই ছাত্রী তাকে ডিভোর্স দেন। ডিভোর্সের পর স্বামী স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেন কালাম। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর সিআইডি জানতে পারে সে একজন ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার।
রবিবার (১৯ মে) তাকে গ্রেফতার করা হয়। সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খায়রুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন,আসামিকে মংলা থেকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
জানতে চাইলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো.আজাদ রহমান বলেন,বেসরকারি জাহাজের খালাসী হিসেবে কর্মরত কালাম শেখ। সে নিজেকে জাহাজের ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিয়ে ফেসবুকে এক কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিদেশে থাকাকালে ইংরেজিতে কথাবার্তা বলে মুগ্ধ করে দেশে ফিরে নিজের প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের তথ্য গোপন করে ওই কলেজ ছাত্রীকে বিয়ে করেন।
তিনি বলেন,পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রী সন্তানের কথা বলে তাদের সঙ্গে একত্রে ঘর-সংসার করার জন্য ওই ছাত্রীকে মারধর করাসহ নানাভাবে নির্যাতন শুরু করেন।
একপর্যায়ে ভিকটিম ডিভোর্স দিলে আসামি কালাম শেখ তার সঙ্গে থাকা অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। পরে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে লালবাগ থানায় মামলা করলে সিআইডি মামলার তদন্ত পায়। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মালা সূত্রে জানা যায়,গ্রেফতারকৃত আসামি ৮ম শ্রেণি পাস করে সমুদ্রগামী জাহাজে খালাসী হিসাবে বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করতেন। তার দুই সন্তান ও স্ত্রী বর্তমান থাকার পরও ফেসবুকে কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের জানুয়ারীতে ভুক্তভোগীকে বিয়ে করে খুলনা শহরে বাসা ভাড়া করে থাকতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে নিজের স্ত্রী-সন্তান থাকার কথা স্বীকার করে সবাইকে নিয়ে একসাথে সংসার করার জন্যে তাকে চাপ দিতে থাকেন। সে আসামির কথায় রাজি না হলে, আসামী ভিকটিমকে শারিরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।
ডিআই/এসকে