
গাজীপুরের কালীগঞ্জে নলছাটা-উলুখোলা ভায়া নাগরী সড়কের দুই পাশে থাকা সরকারী শত শত ফলজ ও বনজ গাছ কেটে সড়কের প্রসস্থকরণের কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আনুমানিক ২০-২৫ বছর পূর্বে সড়ক নির্মানের পরে আমাদের দখলীয় জমির পাশে শত শত ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপন করি। প্রায় দুই যুগ পর গাছ গুলো এখন বড় হয়েছে। এই গাছগুলো সরকারী বা ব্যক্তির যারই হউক না কেন, কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা প্রশাসন মাইকিং করে দশ দিনের মধ্যে গাছ কেটে ফেলার নির্দেশনা জারী করে। ফলে স্থানীয়রা তাদের দখলীয় জমির পাশের সড়কের শত শত গাছ কেটে নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা আরোও জানায়, ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠানও সড়কে থাকা গাছ কেটে নেয়ার জন্য তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করছে। এরই মধ্যে লাখ লাখ টাকা মূল্যের গাছ কেটে নেয়া হয়েছে। এতে করে রাষ্ট্র অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অপরদিকে পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
সোমবার (২০ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, নাগরী বাজার হতে উলুখোলা বাজার পর্যন্ত সড়কের পাশে কেটে ফেলা গাছের গুঁড়ি স্তুপ করে রাখা হয়েছে। এসময় সড়কে ৩০/৩৫ জন শ্রমিক মেহগনী, রেইনট্রি,আম-জাম, কাঠাল,কামরাঙ্গাসহ বিভিন্ন গাছ কাটার কাজ করছেন। কেউ গাছের ডাল, কেউ আবার গাছের গোড়া কাটতে ব্যস্ত। এযেন গাছ কাটার এক মহোৎসব চলছে। উক্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে এমনই চিত্র চোখে পড়ে।বাগদী এলাকার আশরাফুল জানায়, উপজেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং করে ও গাছে লাল রংয়ের ক্রস চিহ্ন দিয়ে যাওয়ায় আমরা ভয়ে গাছ কেছে নিচ্ছি।
পাওরান এলাকার সন্দীপ বিশ্বাস জানান, একটি এনজিও’র লাগানো কয়েকশত মেহগনী গাছ স্থানীয়রা কেটে নিয়েছে। গত পনের দিন যাবৎ এ সড়কটিতে প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক গাছ কাটার কাজ করছেন।
নাগরী ইউ.পি চেয়ারম্যান অলিউল ইসলাম অলির সাথে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, নলছাটা-উলুখোলা ভায়া নাগরী সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ কি.মি.। সড়কটিতে ১৮ ফুট প্রসস্থ পিচ ঢালাইয়ের পর দুই পাশে তিন ফুট করে ছয় ফুটসহ মোট ২৪ ফুট প্রসস্থ হওয়ার কথা রয়েছে। এলজিইডি এর অধীনে ১০ কোটি টাকার বেশী ব্যায়ে সড়কটির প্রসস্থকরণ ও পিচ ঢালাই করা হবে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান করছেন ক্রিয়েটিভ প্লাস ও আল আমিন যৌথ ভাবে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন সরকার জানান, আমি ঘটনাস্থলে রয়েছি। কাটা গাছ গুলো নাগরী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে রাখার ব্যবস্থা করছি।
সড়কের পাশে থাকা সরকারী গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম ইমাম রাজী টুলু মুঠোফোনে প্রতিবেদককে জানান, গাছ কাটার বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। গাছ কাটার মাইকিং করা হয়েছে উপজেলা পরিষদ থেকে প্রশাসন থেকে নয়। কারা এই মাইকিং করেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। যেহেতু জেনেছি তাই গাছ কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।