ঢাকা, রবিবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
পাঁচবিবিতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
টিআরসি নিয়োগে দালালমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশ্বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের
উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের দূর্ভোগ
চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমির স্নান সম্পন্ন
বিএনপি নেতার ওপর বোমা হামলার প্রতিবাদে কয়রায় বিক্ষোভ মিছিল
লঞ্চে মুমূর্ষ নবজাতককে মেডিকেল সহায়তা প্রদান করল কোস্ট গার্ড
আমতলীতে লঞ্চ ঘাট ও বাসস্ট্যান্ডে যৌথবাহিনীর অভিযান, জরিমানা আদায়
কালীগঞ্জে আমিনুর রহমান আমিনের গণসংযোগ শুভেচ্ছা বিনিময়
আমতলীতে হামলা, লুট ও পিটিয়ে দোকান দখলের অভিযোগ
দেওয়ানগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ বাবা মৃত্যু
নড়াইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের ঈদ পুনর্মিলনী
জামায়াতে ইসলামীতে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসের কোনো সুযোগ নেই:রফিকুল ইসলাম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করতে হবে
ভূরুঙ্গামারীতে মুভমেন্ট ফর পাঙ্কচুয়ালিটি’র সম্মেলনের উদ্বোধন
বিরামপুরে আগ্নিকান্ডে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই

অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট,টার্গেট মধ্যবিত্তরা

রাজধানীতে বেড়েই চলেছে অজ্ঞান করে সর্বস্ব হাতিয়ে চক্রের তৎপরতা। বিশেষ করে গণ পরিবহনে চলাচল করা সমাজের মধ্যবিত্ত পুরুষদের টার্গেট করে সখ্যতা গড়ে তুলে মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয় চক্রের সদস্যরা। যার সর্বশেষ বলি হলেন যশোর থেকে ছেলের সঙ্গে ঢাকায় আসা নয়ন বিশ্বাস (৫৪)।

রাজধানীর মতিঝিলের টিটিপাড়া এলাকায় অজ্ঞান পার্টির দেওয়া পানি পান করে রাস্তায় জ্ঞান হারান নয়ন বিশ্বাস। পরববর্তীতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। অজ্ঞাত লাশ হিসেবে মর্গে পড়ে ছিলো নয়ন বিশ্বাসের মরদেহ। এই ঘটনায় বাবা নিখোঁজ উল্লেখ করে শাহজাহানপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে ছেলে শ্যারন বিশ্বাস। জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নেমে নিহত নয়ন বিশ্বাসের মরদেহ শনাক্ত ও জরিত অজ্ঞান পার্টি চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ।

নয়ন বিশ্বাসকে অজ্ঞান করে মোবাইল ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সাভারের আশুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে বিশ্বজিত কর্মকার ওরেফে নূর মোহাম্মদ।

এ সময় নিহতের সঙ্গে থাকা দুটি মোবাইল ও হাতিয়ে নেওয়া কাপড় এবং বিপুল পরিমাণ ঘুমের ঔষধ উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার ( ১৬ মে) সকালে রাজধানীর পল্টনে নিজ কার্যালয়ে এ তথ্য জানান ডিএমপির মতিলিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হায়াতুল ইসলাম খান।

ডিসি হায়াত বলেন,যশোর থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেসে করে গত ১১ মে ভোরে ঢাকার কমলাপুরে আসেন শ্যারন বিশ্বাস ও তার বাবা নয়ন বিশ্বাস। সেন্ট জোসেফ স্কুলের শিক্ষার্থী শ্যারন বিশ্বাস বাবা কমলাপুরে বিদায় দিয়ে মোহাম্মদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। অপর দিকে তার বাবা নয়ন বিশ্বাস পায়ে হেঁটে টিটিপাড়া এলাকা যান গাজীপুরেগামী বাসে ওঠার জন্য। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন নয়ন বিশ্বাস।

তিনি আরও বলেন,বাবাকে অনেক খোঁজাখুজি করে কোথাও না পেয়ে শাহজাহানপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শ্যারন বিশ্বাস। জিডির প্রেক্ষিতে নয়ন বিশ্বাসের সন্ধানে নামে পুলিশ। প্রথমে কমলাপুর থেকে টিটিপাড়া পর্যন্ত সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়,নয়ন বিশ্বাস কমলাপুরে থেকে পায়ে হেঁটে টিটিপাড়া এলাকার বাস কাউন্টারের সামনে আসেন। এরপর সেখানে এক ব্যক্তি তার সঙ্গে কথা বলে। ওই ব্যক্তির দেওয়া পানি খান।

এরপর কমলাপুরে স্টেডিয়ামের সামনে থেকে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া রাইদা পরিবহনের বাসে ওঠেন। পরবর্তীতে রাইদা চলাচল করা রুট সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্তকারীরা। তারা জানতে পারে, ১১ মে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হাতিরঝিল থানার রামপুরা টিভি গেট এলাকায় নামিয়ে দেয় বাসের হেলপার। খবর পেয়ে অচেতন অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৪ মে বিকেলে মারা যান।

পরবর্তীতে নিহতের মরদেহ অজ্ঞাত হিসেবে মর্গে রাখা হয়। এই তথ্য পেয়ে নিহতের ছেলে মর্গে গিয়ে বাবা নয়ন বিশ্বাসের মরদেহ শনাক্ত করেন।

পরবর্তীতে এই ঘটনায় জড়িত অজ্ঞান পার্টি চক্রের সদস্যকে শনাক্তে মাঠে নামে তদন্তকারীরা। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সাভারের আশুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নয়ন বিশ্বাসকে অজ্ঞান করে মোবাইলসহ সবকিছু হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় বিশ্বজিত কর্মকার ওরেফে নূর মোহাম্মদ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিশ্বজিত পুলিশকে জানিয়েছে, ঘটনার দিন ভোরে টিটিপাড়া এলাকায় অবস্থান করে টার্গেটের অপেক্ষা করছিলেন। এই সময়ে নয়ন বিশ্বাসকে হেঁটে আসতে দেখে তাকে টার্গেট করে। এরপর কৌশলে তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। গাজীপুরের উদ্দেশ্যে বাসে ওঠার আগে নয়ন বিশ্বাসকে পানি খেতে দেন বিশ্বজিত। এরপর তার সঙ্গে বাসে উঠে পড়েন। বাসটি মালিবাগ আবুল হোটেলের সামনে গেলে নয়ন বিশ্বাসের দুটি মোবাইল ও কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে নেমে যান বিশ্বজিত। আর অসুস্থ অবস্থায় নয়ন বিশ্বাসকে রামপুরা নামিয়ে দেন বাসের হেলপার।

যেভাবে টার্গেট নির্ধারণ: হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সমাজের উচ্চবিত্ত বা নিম্নবিত্তদের টার্গেট করে না। তাদের টার্গেট মধ্যবিত্তরা। বিশেষ করে যাতের হাতে মোটামুটি দামের মোবাইল ও টাকা পয়সা থাকে। এই ধরনের মানুষ যারা গণ পরিবহনে চলাচল করে। তাদের সঙ্গে ঠিকানা জানা কৌশলে পরিচিত হয়ে সখ্যতা গড়ে তোলে। এরপর আস্থা অর্জন করে পানি বা অন্য কোনো দ্রব্যের সঙ্গে ঘুমেরে ঔষধ মিলিয়ে খাইয়ে দিয়ে অজ্ঞান করে সব কিছু নিয়ে পালিয়ে যায়।

বিশ্বজিতের বিষয়ে মতিঝিল বিভাগের ডিসি বলেন, গ্রেফতার বিশ্বজিত কর্মকার ২০ বছর আগে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসিলম হয়ে নুর মোহাম্মদ নাম ধারণ করে। মাদকাসক্ত বিশ্বজিত মতিঝিলের মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে ক্লিনার হিসেবে কাজ করত। সে ১৪ বছর ধরে মতিলিঝ, সায়েদা বাদ ও পল্টন এলাকায় অজ্ঞান করে সব কিছু হাতিয়ে নিতো। বিশ্বজিত সপ্তাহে অন্তত দুটি অজ্ঞান করার কাজ করতেন। তবে তার হিসাব সঠিক না কারণ গত ১১ তারিখ তিনি আরও একটি ঘটনা ঘটিয়েছেন। বিশ্বজিতের বিরুদ্ধে রাজধানীর মুগদা,সবুজবাগসহ বিভিন্ন থানায় মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সে শতশত ঘটনা ঘটিয়েছে।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ