
পঞ্চগড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বানিজ্যের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হলেও এবার অভিনব কায়দায় নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। সদর উপজেলার দশ মাইল দ্বি-মুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন প্রধান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনতেজার রহমানের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছেন বিদ্যালয়টির সহকারি শিক্ষিকা মোছা.নাসরিন বেগম। প্রতারনা ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ায় এবং ৯ বছরেও বেতনভাতা না পাওয়ায় মামলাটি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে সামাজিক বিজ্ঞান শূন্য পদ না থাকলেও মোফাজ্জল হোসেন ও মনতেজার রহমান কৌশলে ২০১৪ সালে এ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় নাসরিন বেগম। এরপর চাকরির জন্য প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি চাহিদা অনুযায়ী ১২ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়া হয়। পরের বছর ৩১ জানুয়ারি বিদ্যালয়ে যোগদান করেন ভুক্তভোগী। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তার বেতনভাতা হয়নি। এদিকে যোগদানের পর তিনি জানতে পারেন তার আগেই ওই পদে আরো একজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেই শিক্ষক যথারীতি বেতন ভাতাদি পাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে গালিগালাজ করে ভুক্তভোগীকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জানতে দশ মাইল দ্বি মুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন প্রধানকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। বার বার মুঠোফোনে কল দিলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি তার। পঞ্চগড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্য দিবালোকে চলমান নিয়োগ বানিজ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক সংবাদ প্রকাশিত হলেও ব্যবস্থা গ্রহণে অনীহা সংশ্লিষ্টদের। উল্লিখিত ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সহ নিয়োগ কমিটিতে থাকা উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ডিজি’র প্রতিনিধিসহ সকলকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।