
বরগুনার বেতাগীতে স্কুলের নন্দিনী কর্নার আতঙ্কে ৩৬ ছাত্রী অসুস্থ হয়েছে। অসুস্থদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে। স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ মে) উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের হোসনাবাদ আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নন্দিনী কর্নারে প্রবেশ করা এবং নন্দিনী আতঙ্কে ২৪ জন ছাত্রী এবং আগের দিন নন্দিনী কর্ণারে প্রবেশ করায় ৮ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়। এ সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা কান্নাকাটি শুরু করে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দশম শ্রেণির ছাত্রী মারজিয়া আক্তার জিদনী ও নবম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন রিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। অসুস্থ অন্যান্য ছাত্রীদের স্কুলের পক্ষ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অভিভাবকের কাছে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রতিষ্ঠানটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবীর পেক্ষিতে নন্দিনী কর্ণারের সাইনবোর্ড তুলে ফেলা হয়েছে। ওই সাইনবোর্ড দেখলেও ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়তো। এদিকে এ বিদ্যালয় সংলগ্ন জলিশাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪জন শিক্ষার্থী ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।অসুস্থ ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা নন্দিনী কর্ণারের ভিতরে বিড়াল লাল দাগ সহ বিভিন্ন সিম্বল দেখতে পায়। বাস্তবিক অর্থে সেখানে এমন কিছুই ছিল না। পুরোটাই কল্পনাপ্রসূত বিষয় বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন। অসুস্থদের মধ্যে রয়েছে সুমি, হাবিবা, মরিয়ম, সুমাইয়া, তাসমিয়া, সাজন, সিনহা জাহান, উস্মিতা, কুলসুম, চাঁদনী আক্তার, জান্নাতি আক্তার ও আরিফা সহ ৩৬জন।
হোসনাবাদ আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নান্না মিয়া বলেন, নন্দিনী কর্ণারে ছাত্রীরা প্রবেশ করতেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারা নাকি ঐ কক্ষে কালো বিড়াল সাদা বিড়াল, লাল দাগসহ বিভিন্ন সিম্বল দেথে তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আসলে সেখানে ঐসব কিছুই ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্লাস করানো সম্ভব নয়, তাই বিদ্যালয় একদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেসের চিকিৎসক ডা. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, অসুস্থ ছাত্রীরা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জামাল হোসেন বলেন, উক্ত বিদ্যালয়েল প্রধান শিক্ষক আমাকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজণীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছি। আসলে বিষয়টা অবাক করার মত।উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আহমেদ বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। অসুস্থদের হাসপাতালে পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।