ঢাকা, শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
ঈদ পরবর্তী বিআরটিএর বিশেষ অভিযান: ৬ লাখ ৮৭ হাজার জরিমানা,২৮৯ মামলা
রায়পুরে আ’লীগ বিএনপির যৌথ হামলায় নারীসহ আহত ৫
পাঁচবিবিতে শিক্ষার্থী সমিতির স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন
মহানবী সাঃ কে নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে ফুলবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল
ভোলায় হাতবোমা-মাদকসহ ৫ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আটক
নবীনগরে তুচ্ছ ঘটনায় দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত ১২
নেত্রকোণা সরকারি কলেজের ঈদ পুনর্মিলনী
রামুর ঐতিহ্যবাহী গর্জনিয়া ফইজুল উলুম মাদ্রাসার মিলন মেলা বর্ণঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন
ঢোলবাদক বিনয়বাঁশী জলদাস এর ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী ৫ এপ্রিল শনিবার
তুচ্ছ ঘটনায় ছাদে ডেকে নিয়ে বন্ধুকে ছুরিকাঘাত
বোয়ালমারীতে কুখ্যাত সন্ত্রাসী হাতকাটা শাহিদুল গ্রেপ্তার
কচ্ছপিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে ঈদ পুর্ণমিলন অনুষ্ঠান
নওগাঁর প্রবীণ রাজনীতিবিদ ফজলে রাব্বি মারা গেছেন
নড়াইল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে সংবর্ধনা
খুলনায় যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেনেড বাবু আটক

এডা সেতুর লাইগা আমরা কত নেতা, মেম্বার, চেয়ারম্যান, গোরে কইলাম: কেউ দিলোনা

দেশ স্বাধীন অইলো,আমগোর গ্রামডা দুই ভাগে ভাগ অইলো। অর্ধেক ভারতে,আর অর্ধেক আমরা। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পার অইলো, আমরা অহনও আগের মতোই। আমগোর দুঃখ কেউ দেহেনা। এডা সেতুর লাইগা আমরা কত নেতা, মেম্বার,চেয়ারম্যান, গোরে কইলাম। কেউ দিলোনা। এডা সেতু নাই দেইক্কা আমগো মেলা কষ্ট অয়। এভাবেই কথা গুলো বলছিলেন, শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের হালচাটি গ্রামের কৃষক আদিবাসী সুরেন্দ কোচ। ওই এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনকালে, স্থানীয় আদিবাসীরা আরও বলেন, আমগো যাওন আহনের এডা পথ,এই পথদিয়া যাওনআহন, পোলাপানগোরে কষ্ট আরো বেশি। এই কালাঘোষা নদীর ওপরে এডা সেতু অইলে আমগো অত কষ্ট অইতোনা। প্রেমানন্দ কোচ বলেন, ভোটের লাইগা অনেকে আয়ে। মেলা কতা কয় ভোট অইলে পরে আর আয়েনা। আদিবাসী নারী নাইবালী কোচ বলেন, বেডা মানুষরা কাপর তুইলা নদী পার অইতে পারে। আমরাতো কাপর ভিজাইয়া নদী পার অই। এইহানে একটা সেতু অইলে আমগোর মেলা উপকার অইবো। তিনি আরো বলেন, বর্ষাকালে মাঝে মধ্যেই পাহাড়ি ঢলের পানি আইয়া পানি ভইরা যায়। তহন আমরা চলাচল করবার পাইনা। কোনো মানুষ অসুখ বিসুক অইলে চিকিৎসাও করানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাইবার পারিনা। পুলা মাইয়ারা পড়া লেহা করবার যাইতে পারে না। হাতির সমস্যাতো আছেই। এভাবেই আক্ষেপ করে ওই এলাকায় বসবাসকারীরা আরো বলেন, আমরা কি সারাজীবন এভাবেই কষ্ট করমু সোমবার (১৩মে ) বিকালে সরেজমিনে গেলে এমন দূভোগের চিত্র উঠে আসে। গ্রামবাসীরা জানান,হালচাটি গ্রাম। এখানে প্রায় অর্ধশত পরিবারের বসবাস। প্রায় সবাই আদিবাসী। তবে কোচ সম্প্রদায়েরই পরিবারের সংখ্যাই বেশি। গ্রামটির উত্তরে ভারতের বারাংগাপাড়ার হালচাটি গ্রাম। স্বাধীনতার আগে একই গ্রাম ছিল। পরে সীমানা ভাগ হলে গ্রামটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। গ্রামের মাঝ দিয়ে হয়েছে কাটাতারের বেড়া।ভারত থেকে এ গ্রামের মাঝ দিয়ে নেমে এসেছে কালাঘোষা নদী। শুকনো মৌসুমে নদীটিতে থাকে হাটু পানি। বর্ষাকালে মাঝে মধ্যে আসে পাহাড়ি ঢলের পানি। ওই পানিতে কানায় কানায় ভরে ওঠে নদীটি।নদীর পানি না কমা পর্যন্ত বন্ধ থাকে হালচাটিসহ আশপাশের গ্রামবাসীদের চলাচল। চরম বিপাকে শতশত মানুষ। তাদের চলাচলের সড়কটিও দু’পায়ে পাহাড়ি পথ।চলেনা কোনো যানবাহন। স্থানীয় এক শিক্ষক যুগল কিশোর কোচ বলেন, কেউ অসুস্থ্য হলে তাকে কাধেঁ করে নিয়ে যেতে হয় প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বর্ডার সড়কে। আমরা জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্ভোগের কথা বলি। কিন্তু শুধু প্রতিশ্রুতি দেন বাস্তবায়ন হয় না। এখানে সেতু হলে হালচাটি গ্রামসহ আশপাশের গ্রামবাসীদের চলাচলে দুভোর্গের অবসান হবে। বদলে যাবে গ্রামবাসীদের জীবনমান। এ ব্যাপারে উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নবেশ খকসী বলেন, আমরাতো কোনো বরাদ্দ পাইনা। চেয়ারম্যানরা উদ্যোগ নিলে ত্রাণের টাকায় সেতু করতে পারে। হালচাটি গ্রামবাসীসহ যাতায়াতকারীদের দুভোর্গের সত্যতা নিশ্চিত করে কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ এলেই সেখানে সেতু নির্মাণ হবে। তিনি আরো বলেন, সেখানে প্রশাসনের লোকজনসহ বিজিবির সদস্যরাও চলাচল করে। বর্ষা এলে চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়। কালাঘোষা নদীর ওপর সেতু হবে। এস্বপ্ন হালচাটি গ্রামবাসীসহ যাতায়াতকারীদের।

শেয়ার করুনঃ