
নুরুল আলম:: রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার পাবলাখালী রেঞ্জে সংরক্ষিত বনের মূল্যবান সেগুন ও আকাশী গাছ দিনে দুপুরেই কেটে নিচ্ছে একটি চোরচক্র। এই নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার অবহিত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেন নি। এই নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর ২০২৩ বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৭নং আমতলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো: রাসেল চৌধুরী রাঙ্গামাটি বন বিভাগীয় কর্মকর্তার নিকট ১৯৭৩ বন আইন রেগুলেশন টনজিট রোলস বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অভিযোগ দায়ের করেন। রাসেল চৌধুরী অভিযোগে বলেন, গত ৭ থেকে ৮ মাস যাবৎ পাবলাখালী রেঞ্জে বন রক্ষিত বাগান হতে একটি সংঘবদ্ধ কাঠ চোরেরা অনবরত বাগান থেকে মূল্যবান সেগুন আকাশীসহ বিভিন্ন জাতের গাছ কেটে চুরি করতে থাকে। আর এই চুরি কাজের মূল মদদ দাতা স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তি। তারই নেতৃত্বে বেশ কিছু ব্যক্তি সরকারি বন বিভাগের গাছ কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রয়ে মেতে উঠেছে। বিভিন্ন পদ পদবির দোহাই দিয়ে সে এসব অবৈধ কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, গাছ চোরা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বার বার বনবিভাগকে অবগত করলেও এই পর্যন্ত তারা এর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করেননি।
সম্প্রতি ৮ জুলাই ২০২৩ বাঘাইছড়ি উপজেলার পাবলাখালী রেঞ্জের রক্ষিত সেগুন বাগানের রেস্ট হাউস হতে পূর্ব পার্শ্বের বাগান এবং উত্তর পার্শ্বে বাগান থেকে চোর চক্রের সদস্যরা দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে ১০০ টির উপরে সেগুন কাঠ কেটে বাঘাইছড়িতে নিয়ে যায়। যাহার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫০ লক্ষ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, সংঙ্গবদ্ধ দলটির মুল পেশাই গাছ চুরি করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা। এদের গাছ চুরি করা ছাড়া আর কোন নির্দিষ্ট পেশা নাই। যারা এসকল চোরা কার্বারীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে আসে তাদের বিভিন্ন হয়রানী স্বীকার হতে হয়। এই চোর চক্রের বিরুদ্ধে সকল স্বাক্ষী প্রমাণ থাকা সত্বেও প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করায় স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রয়া।
সচেতন মহল বলেন, এভাবে চলতে থাকলে কিছু দিনের ভিতর পাবলাখালী রেঞ্জে রক্ষিত সেগুন ও আকাশীসহ প্রায় সবরকম মূল্যবান গাছের বাগান ধ্বংস হয়ে যাবে। এসব গাছ চোরদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এরা আরো উশৃঙ্খল হয়ে উঠবে এবং এক পর্যায় পরিবেশ তার ভারসাম্য হাড়াবে। তাই এই চোরাকার্বারীদের বিরদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানায়।
পাবলাখালী রেঞ্জকর্মকর্তা সজিব মজুমদার বলেন, মূলত তার করাতকল ছিস করার কারনে সে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন কাঠ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছে।
রাঙ্গামাটি উত্তর বিভাগীয় বনকর্মকর্তা রেজাউল করিম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, রাসেল চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি অবৈধ ভাবে বনবিভাগের গাছ কাটা সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছে। অবৈধ ভাবে গাছ কাটার বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য স্থানীয় বনবিভাগকে বলা হয়েছে। তবে কয়েকমাস আগে বেশকিছু গাছ কাটা হয়েছে। সেগুলো কে-বা কারা কেটেছে সেই বিষয় তদন্ত করা হবে তাছাড়া কিছুদিন আগে স্থানীয় মাছচাষিরা জারুল গাছের কিছু ঢালপালা কেটে নিয়েছে কাপ্তাই লেকে দেওয়ার জন্য।