ঢাকা, শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
ঈদ পরবর্তী বিআরটিএর বিশেষ অভিযান: ৬ লাখ ৮৭ হাজার জরিমানা,২৮৯ মামলা
রায়পুরে আ’লীগ বিএনপির যৌথ হামলায় নারীসহ আহত ৫
পাঁচবিবিতে শিক্ষার্থী সমিতির স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন
মহানবী সাঃ কে নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে ফুলবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল
ভোলায় হাতবোমা-মাদকসহ ৫ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আটক
নবীনগরে তুচ্ছ ঘটনায় দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত ১২
নেত্রকোণা সরকারি কলেজের ঈদ পুনর্মিলনী
রামুর ঐতিহ্যবাহী গর্জনিয়া ফইজুল উলুম মাদ্রাসার মিলন মেলা বর্ণঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন
ঢোলবাদক বিনয়বাঁশী জলদাস এর ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী ৫ এপ্রিল শনিবার
তুচ্ছ ঘটনায় ছাদে ডেকে নিয়ে বন্ধুকে ছুরিকাঘাত
বোয়ালমারীতে কুখ্যাত সন্ত্রাসী হাতকাটা শাহিদুল গ্রেপ্তার
কচ্ছপিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে ঈদ পুর্ণমিলন অনুষ্ঠান
নওগাঁর প্রবীণ রাজনীতিবিদ ফজলে রাব্বি মারা গেছেন
নড়াইল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে সংবর্ধনা
খুলনায় যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেনেড বাবু আটক

‘লাইফ ইন্সুরেন্সে চাকরির আড়ালে জঙ্গি সংগঠনের কর্মী’

আলফা ইসলামিক লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকরির পাশাপাশি গোপনে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার রিক্রুটার হিসেবে কাজ করতেন রানা শেখ ওরফে আমির হোসাইন।

সদস্য সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে ৩ জনকে সংগঠনে রিক্রুট করে প্রশিক্ষণের জন্য বান্দরবানে কুকি চিনের আস্তানায় পাঠান তিনি। এমনকি প্রশিক্ষণের খরচ বাবদ কুকি চিনের কাছে লক্ষাধিক টাকাও পাঠান এই রানা।

মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। এর আগে গতকাল সোমবার পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) গোয়েন্দা তথ্য ও সহযোগিতায় রাজধানীর কল্যানপুর ও গাবতলী এলাকায় রানাসহ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) লালবাগ বিভাগ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো,রানা শেখ ওরফে আমির হোসাইন, মশিউর রহমান ওরফে মিলন তালুকদার এবং হাবিবুর রহমান।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩ টি স্মার্টফোন ও ২ টি বাটনফোন উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ডিভাইস থেকে তাদের প্রশিক্ষণের ভিডিও ছবি উদ্ধার করা হয়।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন,মার্শাল আর্টে ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্ত রানা ২০০২ সালে হুজিনেতা ও ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত মাওলানা আব্দুর রউফের কাছে প্রশিক্ষণের জন্য ময়মনসিংহে যায়।

ময়মনসিংহের ভালুকায় অবস্থিত মাদ্রাসায় পড়াশোনা করার পাশাপাশি হুজি সদস্য সামরিক ও আন আর্মড কমব্যাট প্রশিক্ষণ নেয়। ২০০৩ সালে বাবা,মামা,ভগ্নিপতিসহ মোট ১৮ জন সদস্য হুজি নেতা আব্দুর রউফের সঙ্গে বৈঠকের সময় ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে। বর্তমানে আলফা ইসলামিক লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির ইউনিট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত এই রানা সশস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য ৩ সদস্যকে ইতোমধ্যে বান্দরবানে কু কি চিনের সন্ত্রাসীদের কাছে পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন,গ্রেফতার মশিউর রহমান প্রথমে ইসলামিক শাষনতন্ত্র আন্দোলনের সদস্য ছিল। ২০০২-৩ সালে হুজির সদস্য হিসেবে ময়মনসিংহে আব্দুর রউফের মাদ্রাসায় সামরিক ও আন আর্মড কমব্যাট বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেয়। ২০১৩ সালে অপরাপর হুজি নেতাদের সঙ্গে গ্রেনেডসহ ঝালকাঠিতে গ্রেফতার হয়ে সাড়ে চার বছর সাজা খাটে।

২০২১ সাল থেকে পাহাড়ি বৈরী পরিবেশে কমান্ডো হিসেবে টিকে থাকা,পিটি-প্যারেড শিখা,আন আর্মড কমব্যট, অ্যাসল্ট রাইফেল চালানো,বোমা সামগ্রী তৈরি এবং ব্যবহারসহ সিকিউবি (CQB) বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য ২ বছর বান্দারবানে কু কিচিনের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে অবস্থান করে। এই কষ্টকর প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে সমতলে ফেরত আসে মশিউর।

আর হাবিবুর রহমান ছিলেন সংগঠনের নতুন রিক্রুট। তিনি আলফা ইসলামিক লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির কর্মী হিসেবে আমির হোসেনের অধীনে কাজ করতেন। আমির হোসেন একই মতবাদে দীক্ষিত করে তাকে ইতোমধ্যে জঙ্গি সংগঠনে রিক্রুট করে বান্দবানে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ডিবি প্রধান বলেন,নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি),আনসার আল ইসলাম ও জামায়াতুল মুজাহিদিনের (জেএমবি) মুক্তিপ্রাপ্ত এবং পলাতক বেশ কিছু সদস্য মিলেমিশে একটি নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠীতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে’জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’ গঠন করে।

নিষিদ্ধ এই জঙ্গি সংগঠনের নেতা ও সদস্যরা বিশ্বাস করে ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’নামক ধর্ম যুদ্ধ হবে। কোন এক সময় দাজ্জালের নেতৃত্বে এই অঞ্চলে মুসলিম নিধনের বড় রকমের চেষ্টা করা হবে।

ইসলামকে সমুন্নত রাখতে এবং মুসলমানদেরকে সুরক্ষা দিতে যারা’গাজওয়াতুল হিন্দ’নামক এ ধর্মযুদ্ধে তারা অংশগ্রহণ করবেন। বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহীদ অথবা গাজীদের মত মর্যাদা পাবেন বলে বিশ্বাস করেন।

পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ধারাবাহিক তৎপরতায় সফল জঙ্গি অভিযানের কারণে নতুন এই জঙ্গি সংগঠনটি সমতল এড়িয়ে পার্বত্য জেলাগুলোতে প্রশিক্ষণের জন্য সুযোগ খুঁজছিল। পার্বত্য বান্দরবান,খাগড়াছড়িতে বসবাসকারী বম সম্প্রদায়ের বিভ্রান্ত সন্ত্রাসীদের দ্বারা গঠিত কুকি চিনদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় শারক্বীয়ার।

অর্থের বিনিময়ে কু কি চীনের সন্ত্রাসীরা শারক্বীয়ার সদস্যদেরকে বৈরী পরিবেশে সারভাইবাল,আন আর্মড কমব্যাট,অ্যাসল্ট রাইফেল পরিচালনা,এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস তৈরি এবং ব্যবহার, সিকিউবি তে অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়।

দেশকে অস্থিতিশীল করে জঙ্গিদের খেলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখা,নিজ দেশ এবং পার্শ্ববর্তী দেশের বিরুদ্ধে ধর্ম যুদ্ধে জড়িয়ে শহীদ বা গাজী হওয়ার অপেক্ষায় থেকে রসদ সামগ্রী এবং কর্মী সংগ্রহে তৎপর ছিল সংগঠনটি।

পুলিশের বিভিন্ন ইউনিচের অভিযানে এদের অনেক সদস্যকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন,সংগঠনটিতে ৫৩ জনের মতো সদস্য ছিল। এরমধ্যে ৪৯ জনই ইতোমধ্যে ধরা পড়ে গেছে। গ্রেফতার রানা বর্তমানে সংগঠনের প্রধান রিক্রুটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

সারা দেশ থেকেই তাদের সদস্য রিক্রুটের পরিকল্পনা ছিল। আমরা তাদেরকে গ্রেফতার করতে না পারলে হয়তো আরেকটা গ্রুপকে পাহাড়ে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হতো।

গ্রেফতারদের ৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হবে। তাদের সঙ্গে জড়িত আর কারা আছে জানার চেষ্টা করব। জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান ডিবি প্রধান।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ