
দেশে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ২য় ধাপে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা মতে আগামী ২১ মে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
আ
এ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে দুই জন আর ভাইস চেয়ারম্যান পদে পুরুষ দুই জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চার জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে নির্ঘুম প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত। মাইকিং ও পথসভা করে প্রার্থীরা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের পাড়া মহল্লায় ভোটারদের ধারে ধারে যাচ্ছে দিচ্ছে বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।
এ নির্বাচনকে ঘিরে দোকান পাট,রাস্তা ঘাট ও পাড়া মহল্লায় পোস্টার, ব্যানারে চেয়ে গেছে। দিন যত ঘনিয়ে আসছে মানুষ নির্বাচনী জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাই কারা আসছেন উপজেলার নতুন দায়িত্ব অপেক্ষা করতে হবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত।
এদিকে বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামিলীগের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ শফিউল্লাহ আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হয়ে দলীয় নেতাকর্মী এবং তার অনুসারীদের নিয়ে প্রচারণায় ব্যাস্ত সময় পর করছেন। তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের কথা তোলে ধরে সাবেক মন্ত্রী বাবু বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির হাতকে শক্তিশালী করতে তাকে পুনরায় নির্বাচিত করে উন্নয়নের ধরা অব্যহত রাখতে ও অসমপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে পাহাড়ি-বাঙ্গালীর প্রতি আহ্বান জানান।
ভোটারদের ধারণা এবার বিএনপি-জামায়াত উপজেলা নির্বাচন বর্জন করায় শফিউল্লাহ সুবিধা জনক অবস্থানে আছে। এছাড়াও তিনি সরকার দলীয় প্রার্থী হওয়ায় বেশির ভাগ মানুষের নজর তার দিকে রয়েছে।
দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপি আন্দোলনের মুখে সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তারা এবার উপজেলা নির্বাচনও বর্জনের ঘোষণা দেন। তাই দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য কারীদের বহিষ্কার করছে দলটি।
এই দলের প্রার্থী হিসেবে কাউকে মাঠে দেখা না গেলেও সাবেক জমায়েত নেতা ও বর্তমান জেলা বিএনপির একাংশের নেতা সাবেক সাংসদ সাচিংপ্রু জেরীর হাত ধরে বিএনপিতে আবির্ভাব হওয়া সাবেক নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তোফাইল আহাম্মদ তার অনুসারীদের নিয়ে পাড়া মহল্লায় অবিরাম প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। উপজেলায় অনিয়মের কথা তোলে ধরে মোটরসাইকেল প্রতিকে ভোট চেয়ে তিনিও দিচ্ছে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের প্রতিশ্রুতি।
পরিসংখ্যান মতে বিগত নির্বাচনে তোফাইল ও শফিউল্লাহ’র মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দুই বার মুখোমুখি হয় এতে দুই বারেই পরাজয় বরণ করেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজ দলের বিদ্রোহি প্রার্থীর সাথে লড়ে শফিউল্লাহ বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। এর পর থেকে তিনি ৫ বছর সততার সাথে উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ও মানুষের সাথে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তাই এবার আগের দুই হারের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া শফিউল্লাহ। তা দেখতে এখন অপেক্ষার পহর গুনছে উপজেলাবাসী।
দুই প্রার্থীর মধ্যে একজন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান, অপর জন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ দুই শিয়ানের লড়াই হওয়াতে উপজেলায় কিছুটা হলেও নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল আবছার ইমন, বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলম কোম্পানি ও ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ এ প্রতিবেদকে জানান,উপজেলার ৫ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান,দুই-একজন মেম্বার ছাড়া সব মেম্বার আনারসের পক্ষে। আবার দলের সকল নেতাকর্মী বেঁধা-বেধ ভুলে একসাথে শফিউল্লাহ’র আনারসসের পক্ষে কাজ করছে তাই প্রচারণায় ও সার্বিক জনপ্রিয়তায় বহুলাংশে এগিয়ে রয়েছেন শফিউল্লাহ। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়িতে তিনি এবং তার পিতার অনেক অবদান আছে তাই আঞ্চলিকতায় আলহাজ্ব অধ্যাপক মোঃ শফিউল্লাহ অনেক ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকবেন বলে ধারণা করছেন এ জনপ্রতিনিধিরা।
সদর ইউপির ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার ফয়েজ আহমেদ,স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রশিদ আহাম্মদ, আজিজসহ অনেকে জানান,
এখন পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক তোফাইল আহামেদ একজন নির্যাতিত নেতা হিসাবে এলাকায় তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী, ব্যক্তিগত ইমেজ, গ্রহণযোগ্যতায় এ মহুর্তে তিনিই এগিয়ে রয়েছে। কারণ তিনি এক বার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও দুইবারের সফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়াও আওয়ামিলীগের অনেকেই ভোট দিবেন মোটরসাইকেল প্রতীকে। তাদের মতে সুষ্ঠ নির্বাচন হলে বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয় হবেন তোফাইল।
সব মিলিয়ে মানুষের মতামত ও সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় বিএনপি-,জমায়তের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যদি স্বতস্ফুর্ত ভাবে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে এবং সুষ্ঠভাবে ভোট দিতে পারলে মোটরসাইকেল প্রতীক বিজয় হবে। আর যদি জামায়াত-বিএনপির মানুষ স্বতস্ফূর্ত ভাবে ভোট দিতে না যায় তা হলে শফিউল্লাোহ’র বিজয় সুনিশ্চিত।
পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে আজ পর্যন্ত মাঠের জরিপ ভোট যুদ্ধে টিয়া প্রতিকের মওলানা সাহাজান কবিরের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে চশমা প্রতিকের কামাল উদ্দিন। কারণ তিনি সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে অনকটা সফল ছিলেন। তাদের ক্ষত্রে উপজাতিরা যদি টিয়াপাখির পক্ষে আসে তাহলে শাহজাহান কবির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট যুদ্ধে মাঠে রয়েছে ৪ জন প্রার্থী বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান শামিমা আক্তার ঘুন্নু তার প্রতিক প্রজাপতি, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হামিদা চৌধুরীর প্রতিক ফুল,সদর ইউপির বর্তমান মহিলা মেম্বার কাজী রাশেদা বেগম,ফুটবাল ও উপজেলা যুব মহিলা লীগনেত্রী সানজিদ বক্তার রুনা কলসি প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছে। তাদের মধ্যে হামিদা চৌধুরী ৩ বারের সাবেক সফল ও বিএনপির সাবেক সভা নেত্রী। অপরদিকে সানজিদা আক্তার রুনা ক্ষমতাসীন দল যুব মহিলা লীগ নেত্রী ও দলের প্রার্থী এছাড়াও তিনি সাংবাদিকতার সুবাদে অনেকের সাথে সম্পর্ক রয়েছে। হামিদা চৌধুরী বলেন,সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলে তিনি বিজয় হবেন। সংবাদকর্মী সানজিদা প্রতিবেদক বলেন, তার বাবার দোয়া ও দলের নেতাকর্মীরা আমার পক্ষে অবিরাম প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন তাই তিনিই এবার বিজয় হবেন। কাজী রাশেদা বেগম বলেন তিনি সদর ইউপির বর্তমান মহিলা মেম্বার ও তিনি একজন ধাত্রী হিসাবে এলাকায় তার সুনাম আছে সে সুবাদে তার বিজয় সুনিশ্চিত। বর্তমান উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান শামিমা আক্তার বলেন, তার মৃত স্বামী জসিম উদদীন ছিলেন জনপ্রিয় বিএনপি নেতা সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারও তিনি ৫ বছর মানুষের পাশে থেকে উন্নয়ন করেন। এছাড়াও আত্মীয় স্বজন, এলাকাবাসীর প্রতি তার বিশ্বাস রয়েছে। এছাড়াও উপজাতিরা যদি এবারও তাদের পচ্ছন্দের প্রতিক প্রজাপ্রতি প্রতিকে ভোট দেবে সে কারণে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হবেন।
এ ৪ প্রার্থীর মধ্যে ভোটারদের মতামত ও সরজমিন ঘুরে দেখে গেছে এই প্রর্যন্ত প্রচার-প্রচারণায় কলসি ও ফুল প্রতিক এগিয়ে রয়েছে।