
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শালিসের কথা বলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর রাজু ইসলাম বাবু (৩২) হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। আজ শনিবার (১১ মে) সকালে র্যাব-১৩ অধিনায়কের পক্ষে উপ-পরিচালক (মিডিয়া) স্কোয়াড্রন লিডার মাহমুদ বশির আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই তথ্য জানানো হয়।
এর আগে এই হত্যাকাণ্ডে পলাতক প্রধান আসামি মো. খলিল ফকিরকে (৫২) আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় র্যাব-১৩,সিপিসি-৩ ও র্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল এর যৌথ অভিযানে শুক্রবার (১০ মে) দুপুর আড়াইটা দিকে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার গোড়াই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া মো. খলিল ফকির গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার আমলাগাছী এলাকার মৃত দবির ফকিরের ছেলে।
এজাহার সূত্রে র্যাব জানায়, রাজু হত্যা মামলার আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিভিন্ন রাজু ইসলাম ওরফে বাবুকে (৩২) সহ তার পরিবারের লোকজনদের মারপিট, খুন-জখম করাসহ জানমালের ক্ষতিসাধনের হুমকি দিয়ে আসছিলো। ঘটনার দিন গত ১৭ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে খলিল ফকির মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রাজুকে স্থানীয় শালিসের বৈঠকে ডাকে এবং রাজু সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাজুকে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। স্থানীয়রা রাজুকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এ্যাম্বুলেন্সে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজু মৃত্যুবরণ করেন।
রাজু ইসলাম বাবু হত্যাকাণ্ডে তার বোন মোছা. আঞ্জয়ারা বেগম (৩৫) বাদী হয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে র্যাব-১৩, সিপিসি-৩, গাইবান্ধা ও র্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানাধীন গোড়াই এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।গ্রেফতারকৃত আসামি জিজ্ঞাসাবাদকালে রাজু হত্যার সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে। গ্রেফতার হওয়া মো. খলিল ফকিরকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পলাশবাড়ী থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব।