
বৈদেশিক মুদ্রা প্রতারকচক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ওয়ারী থানা পুলিশ। চক্রটি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিদেশি মুদ্রার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেন।
এই প্রতারকচক্রের খপ্পরে পড়ে সম্প্রতি ১ লাখ ১৮ টাকা খোয়ানো এক ভুক্তভোগীর করা মামলায় বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা,মোহাম্মদপুর ও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০টি ওমানি নোট,প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজিসহ নগদ ২১ হাজার ২৩০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার ( ১০ মে ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন।
মোহাম্মদ ইকবাল বলেন,‘গত ৫ মে ব্যাংকে টাকা রাখার জন্য রওনা দিলে দুপুর ২টার দিকে আরকে মিশন রোডস্থ আনসার ক্যাম্পের সামনে একজন অজ্ঞাতনামা সিএনজি চালক বাদীকে ওমানের একটি নোট দিয়ে বলে যে তাকে এক বিদেশি লোক টাকাগুলো দিয়েছে। বাদী সরল বিশ্বাসে ঐ টাকা হাতে নিয়ে দেখে যে ওমান দেশের ১০০ বাইসা। কিন্তু আসলে ঐ টাকার বাংলাদেশি মূল্য মাত্র ৩০ টাকা।
তাৎক্ষণিক অন্য একজন ব্যক্তি বাদীর পাশে আসিয়া সিএনজি চালকের নিকট হইতে ২টি নোট ৪০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নেয় এবং ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে ফেরত এসে বলে যে,তিনি নাকি ২৬ হাজার টাকা করে একেকটা নোট ভাঙ্গিয়াছে।
তাৎক্ষনিক আরেকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে সিএনজি চালকের নিকট বলে যে তিনিও নোট গুলি কিনবে। এরপর বাদী সরল বিশ্বাসে সিএনজি চালকে নিকট হইতে ১৪টি ওমানি নোট ১ লাখ ১৮ টাকায় দিয়ে কিনে নেয়। পরবর্তীতে বিবাদীগণ চলে গেলে বাদী বুঝতে পারেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিগণ তার সঙ্গে প্রতারনা করেছে।’
পরবর্তীতে বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওয়ারী থানায় মামলাটি রুজু হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই প্রদ্যুত ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে বিবাদীদের প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সিএনজির নম্বর এবং মাথায় টাক ওয়ালা একজন এবং হাতে পানির বোতলওয়ালা একজনকে দেখতে পান।
এরপর আমার নির্দেশনায়,এডিসি ওয়ারী জোন এবং এসি ওয়ারী জোনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও সহায়তায় উক্ত সিএনজির মালিক ও ড্রাইভারের তথ্য সংগ্রহপূর্বক এস আই প্রদ্যুত ছাত্র সেজে,এএসআই মো.নজরুল ইসলামকে সিএনজি ড্রাইভারের ছদ্মবেশ এবং কনস্টেবল মো. জাহাঙ্গীর আলম মাথায় টুপি ও হাতে বাজারের ব্যাগ দিয়ে মাঝ বয়সী লোকের ছদ্মবেশ ধারণ করে-বিবাদীগণ যে সকল এলাকায় আড্ডা দেয় এবং সেই সকল এলাকায় তাদের সন্ধান করতে থাকেন।
একপর্যায়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন জিনজিরা এলাকার একটি খাবার হোটেলে মো.সুবজ,আল আমিন,মোহাম্মদ ইমরান হোসেন ও মোহাম্মদপুর থেকে মাসুম হোসেনকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাটস্থ “আল্লাহর দান” বিরিয়ানী হাউজের সামনে থেকে প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি ও তাদের নিকট থেকে নগদ ২১ হাজার ২৩০ টাকা এবং ২০টি ওমানি নোট উদ্ধার করা হয়।
মোহাম্মদ ইকবাল আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক ভাবে স্বীকার করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। শুক্রবার ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আসামিদের কোর্টে প্রেরন করা হবে।
ডিআই/এসকে