
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাই স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে টিফিন বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দৈনিক সকালের খবর প্রতিনিধি অনুসন্ধানে গেলে ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাই স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসে ।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই স্কুল এন্ড কলেজের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে অনিয়মের মহা তান্ডব। এর আগে গত ৩ পর্বে প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে । প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য মতে তিনি ওই স্কুলে ২০শে অক্টোবর ২০১০ইং তারিখে যোগদানের পর থেকে অদ্যবদি প্রায় এক কোটি টাকার উপরে উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন ।তবে সুশীল সমাজ মনে করেন সুষ্ঠু তদন্ত হলে অর্ধ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যেতে পারে । কারণ ওই স্কুলের উন্নয়নমূলক অর্থনৈতিক প্রতিটা কাজেই ওনার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায় ।
জানা যায়, ওই স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের দুপুরের টিফিনের সময় গেইট আটকিয়ে বাধ্যতামূলক টিফিন করানো হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটা সিঙ্গাড়া, চমচা অথবা পুরির দাম ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হয় ১০ টাকা । যেগুলোর দাম মোটেও দশ টাকা হওয়ার কথা না , হেডমাস্টার এগুলো সাইজ ছোট করে কম দামে অর্ডার দিয়ে নিয়ে আসেন । তাতে ছাত্র ছাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে অনেক ছাত্র ছাত্রী জানান, অনেক সময় দুপুরে স্কুল ছুটি হয়ে যায়। কিন্তু টিফিনের খাবার শেষ করে আমাদেরকে ছুটি দেওয়া হয়। টিফিনের পর যদি ক্লাস হত তখন টিফিন করলেও তাতে আমাদের কোন কথা ছিলনা। দুপুরে যেহেতু ছুটি দেওয়া হবে ঐ সময় আমাদের টাকা টা খরচ না করালেও পারতেন। কিন্তুক স্যারের সুবিধার জন্য এমন করে থাকেন। আমাদের টিফিন থেকেও স্যার সুবিধা ভোগ করেন। যা আমরা মূখ খুলে প্রকাশ করতে পারি না।
উল্লেখ্য, ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাই স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ২৫০০/ (দুই হাজার ৫শ) ।ছাত্র-ছাত্রীরা আরও জানান, যে সিঙ্গারা, পুরি ও সমুচা ১০ টাকা মূল্য ধরা হয়, তা কখনো বাজারে ১০ টাকা বিক্রি হবে না। দোকানদারের কাছে কম মূল্যে অর্ডার করে বানিয়ে আমাদের কাছে অধিক মূল্যে বিক্রি করেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে আমাদের’কে বিভিন্নভাবে শাস্তি দিয়ে থাকেন । যার কারনে আমরা কোন প্রতিবাদ করতে পারি না ।
অন্যদিকে ছাতিয়াইন বাজারের টিফিনের নাস্তা বিক্রয়কারী দোকানদার জানান, আমার কাছ থেকে ওই স্কুলের রঞ্জিত নামে এক ব্যক্তি টিফিনের জন্য নাস্তা নেন। আর অতিন্দ্র নামে একজন আমার টিফিনের বিল পরিশোধ করেন। যতদিন টিফিনের নাস্তা বিক্রয় করি ততদিন আমার কাছ থেকে ২শ /৩শ টাকা সুবিধা ভোগ করেন। যা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নির্দেশেই করে থাকেন।
এছাড়াও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক দ্বীপক কান্তি রায়সহ আরো অনেকের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে কোন শিক্ষক বা কোন ব্যক্তি মুখ খুলতে সাহস পায়না হয়রানি শিকার হবে বলে।
সচেতন মহল জানান, প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ ঐ স্কুলে যোগদানের পর নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন । ওনার এই লাগামহীন দুর্নীতির দায়ে আজ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলংকিত হচ্ছে। দ্রুত সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে স্কুলের মান রক্ষায় ভূমিকা রাখার জন্য অনুরোধ করেন । এবং অপরাধীর শাস্তি দাবি করেন ।এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম ফয়সাল জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে ।