
রাজশাহীর তানোর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, আদর্শিক নেতৃত্ব, কর্মী-জনবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ সম্পন্ন, তরুণ, মেধাবী, জননন্দিত নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নার (কাপ-পিরিচ) প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিচ্ছে। তিনি বিপুল সংথ্যক নেতাকর্মী নিয়ে তার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে পথসভা, কর্মীসভা, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, প্রচার প্রচারনার শুরুর দিন থেকে ময়না ৮১ টি ওয়ার্ড উঠান বৈঠক করার প্রস্তুতি নিয়ে গত ২ এপ্রিলের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছেন। অপর দিকে মামুন কোথাও কোন উঠান বৈঠক করেননি, তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন। উপজেলার তানোর পৌরসভার গোল্লাপাড়া বাজার, চাপড়া বাজার, তালন্দ বাজার,কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) কামারগাঁ বাজার, দমদমা মোড়, নেজামপুর ও হরিপুরসহ ইউপির বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কামারগাঁ ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বী ফরহাদ, সম্পাদক সুফি কামাল মিন্টু, কৃষক লীগ সভাপতি রাম কমল সাহা, নির্মল কুমার সরকার, সহকারী অধ্যাপক মুন্সেফ আলী, তোফায়েল আহম্মেদ ও জাকির হোসেন জুয়েল প্রমুখ।এছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকল ইউনিটের দায়িত্বশীল সাংগঠনিক নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ উপস্থিত ছিলেন। এদিন ময়না বক্তব্যর শুরুতেই উপস্থিত নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার অজান্তেই তার বা তার সংগঠনের কারো আচরণে যদি কোনো মানুষ কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে তাদের পক্ষ থেকে তিনি তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। তিনি বলেন, আমি অপনাদেরই এলাকার সন্তান আমাকে ক্ষমা সুন্দর দৃস্টিতে দেখবেন এবং আমাকে আবারো নির্বাচিত করে জননেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিনিধি এমপি ফারুক চৌধূরীর হাতকে শক্তিশালী করে এলাকার উন্নয়ন বুঝে নিবেন। তিনি বলেন, রাজনীতি থেকে তিনি কিছু নিতে আসেননি রাজনীতির মাধ্যমে উপজেলার মানুষকে কিছু দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমাকে বিজয়ী করে নৌকাবিরোধীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়ে প্রমাণ করতে হবে অতীতে আওয়ামী লীগের বাইরে গিয়ে রাজনীতি করে কেউ সফল হতে পারেনি, বর্তমানেও হয়নি ভবিষ্যতেও হবে না।
এদিকে চেয়ারম্যান ময়নার গণসংযোগে দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের স্বঃঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। আসলে এক জন রাজনৈতিক নেতা কি পরিমাণ কর্মী-জনবান্ধব ও জনপ্রিয় হলে গণসংযোগে সাধারণ মানুষের এমন ঢল নামে সেটা ময়নার গণসংযোগ না দেখলে যে কারো পক্ষে বিশ্বাস করা কঠিন। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতা এবং কর্মী-সমর্থকেরা ময়নার বিজয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে এসব প্রচার- প্রচারণা ও গণসংযোগে অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে নির্বাচনের দিন যতো ঘনিয়ে আসছে আব্দুল্লাহ আল-মামুনের (মোটরসাইকেল) জনসমর্থনে টান পড়ছে।
এদিকে গোলাম রাব্বানী নির্বাচনের মাঠে আব্দুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা শুরু করায় পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়েছে। তিনি নির্বাচনে মামুনকে সমর্থন দিয়ে ভোট প্রার্থনা করলেও তার অনুগত নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের মাঝে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসব নেতাকর্মীরা বলছে, এমপির সঙ্গে মতবিরোধ এবং রাজনীতিতে গোলাম রাব্বানীর আজকের এই দৈন দশার জন্য মামুন দায়ী। বিগত দিনে উপজেলা নির্বাচনে মামুন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে রাব্বানীর নিশ্চিত বিজয় ঠেকিয়েছে। এমনকি এক সময় এমপির পক্ষ নিয়ে এই মামুন বিভিন্ন সভা-সমাবেশে গোলাম রাব্বানীকে বেঈমান, দুর্নীতিবাজ, মিরজাফর, বিশ্বাসঘাতক ইত্যাদি আঙ্খা দিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। রাব্বানীর অনুসারী নেতা ও কর্মী-সমর্থকেরা এই ঘটনা এখানো ভুলতে পারেনি। তারা বলছে, যে মামুন রাজনীতিতে রাব্বানীর সর্বনাশ করেছে, সেই মামুন আবার রাব্বানীর ঘাড়ে ভর করে উপজেলা চেয়ারম্যান হবার স্বপ্ন এটা তারা কখানোই হতে দিতে পারেন না।এদিকে.রাব্বানীকে ভোটের ব্যবহার করে যদি মামুন চেয়ারম্যান হয়,তাহলে সে আবারো যে এমপির কাছে ফিরবে না তার নিশ্চয়তা কি ? এটা হলে তো রাজনীতিতে গোলাম রাব্বানীর অস্থিত্ব বিলীন হবে। এসব বিবেচনায় রাব্বানীর অনুসারীরা মামুনকে মানতে নারাজ। তাদের ভাষ্য, মামুন ব্যতিত যে কেউ আসলে তারা ভোটের মাঠে মরণ কামড় দিতে প্রস্তুত। কিন্ত্ত মামুনকে তারা কখানোই কোনো ভাবেই মানতে পারবেন না, প্রয়োজনে তারা স্বপক্ষ ত্যাগ করতে প্রস্তুত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সাংসদ ওমর ফারুক চৌধূরীকে চ্যালেঞ্জ করে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন আব্দুল্লাহ আল-মামুন। কিন্ত্ত নির্বাচনের মাঠে নেমে ধীরে ধীরে জনসমর্থন হারিয়ে দিন দিন একা হয়ে পড়ছে। গোলাম রাব্বানীর অনুসারী অধিকাংশ বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা অনেক আগেই তাকে ত্যাগ করেছে পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও মূখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল তেমন কোনো সাংগঠনিক নেতাকর্মী তার সঙ্গে নাই, এক সময় যারা ছিল তারাও তার সঙ্গ ত্যাগ শুরু করেছে। এসব বিবেচনায় উপজেলা নির্বাচনে বিজয় তো পরের কথা শক্ত প্রতিদন্দীতা করাই তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।